সোমবার ২৮ মে, ২০১৮ , ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫, ১১ রমযান, ১৪৩৯

আট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দফতর বদল ছিল ধারণার বাইরে

জানুয়ারি ৩, ২০১৮ | ১০:১৭ অপরাহ্ণ

দ্বিতীয় দফা মেয়াদের শেষ বছরের শুরুতে মন্ত্রিপরিষদে নাড়াচাড়া করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার চাপ পড়েছে সরকারের লীগের শরীক দলগুলোর ওপর। বিশেষ করে সাবেক ও বর্তমান বাম নেতাদের দফতরে। তুলনায় ভালো অবস্থানে গেছেন প্রধান বিরোধীদলের একজন মন্ত্রী। নতুন নিয়োগ হওয়া মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনটি বুধবারের স্বাভাবিক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু মোট নয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দফতর বদল ছিল অনেকের ধারণার বাইরে।

বর্তমান সরকার পথচলার শুরুতে বাংলাদেশের মানুষ নতুন সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হন। এর আগে কোনো সরকারের আমলে প্রধান বিরোধীদলের কাউকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়নি বা বিরোধীদলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা সরকারে আসেনি। বর্তমান সরকারে প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টির একজন পূর্ণমন্ত্রী, মন্ত্রী মর্যাদায় একজন বিশেষ দূত এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এর বাইরে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও জাতীয় পার্টি  (জেপি) থেকে একজন করে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়।

মন্ত্রিসভার দফতর রদবদলে উল্লেখিত সবারই কম-বেশি পরিবর্তন এসেছে। পানিসম্পদমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে তুলনামূলক গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে।  জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণের মন্ত্রী করা হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলা টানা দ্বিতীয় মেয়াদের এ সরকারের শুরু থেকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বুধবার দেওয়া হয়েছে নতুন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালকে।

সরকারের দেড়বছরের মাথায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তারানা হালিম। তাকে এবার পাঠানো হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়ে। এতদিন তথ্য মন্ত্রণালয়ে একাই দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সরকারের অন্যতম আলোচিত মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তার সঙ্গে যোগ হলেন আওয়ামী লীগের তারানা হালিম। ইনুকে তথ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে রাখায় ক্ষোভ রয়েছে খোদ আওয়ামী লীগেই।

সাবেক বাম নেতা বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ একাই গত নয় বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালাচ্ছিলেন। কিছুদিন আগে মন্ত্রণালয় দুই ভাগ হয়েছে। নতুন হওয়া মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন কাজী কেরামত আলী।

পূর্বানুমান অনুযায়ী ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মোস্তাফা জব্বার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা নারায়ণ চন্দ্র চন্দ পদোন্নতি পাওয়ার পর ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন।

বিগত ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু হয়। এর মধ্যে ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুইজন উপমন্ত্রী।  এর দেড় মাসের মাথায় এ এইচ মাহমুদ আলী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু পান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

এরপর ২০১৫ সালের ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দেওয়া হয় স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব।

এর পরের সপ্তাহে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসিকে মন্ত্রী এবং তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ওইদিন মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পান আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং ইয়াফেস ওসমান। আর ১৬ জুলাই সৈয়দ আশরাফকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মন্ত্রির পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আরও সাত জন।

নতুন চারজনকে নিয়ে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা এখন ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছ। তাদের মধ্যে ৩৩ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুইজন উপমন্ত্রী।

সারাবাংলা/জেআইএল/একে

Tags: ,

আরও পড়ুন