মঙ্গলবার ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

আমাদের মায়েরা…

মে ১৩, ২০১৮ | ১:৪৬ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক মা দিবস উপলক্ষে সারাবাংলা ডট নেট পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা প্রকাশ করছে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সংবাদকর্মীরা ভালবাসা জানাচ্ছে নিজের মাকে।  বুকের গভীর থেকে বেরিয়ে আসা কয়েকটি শব্দে-বাক্যে আমাদের মায়েদের জন্য সেই অকৃত্রিম ভালবাসা ও আদর আমরা প্রকাশ করছি।


  • সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, এডিটর ইন চিফ, সারাবাংলা ডট নেট

মা’র দেহবর্ণ ছিল কালো। কিন্তু তাতে ছিল একটি দীপ্তি, চোখ দুটি স্বচ্ছ। দিন দারিদ্র্যের কালো ছায়া ছেয়ে ছিল তাঁর সংসার। ভয়ংকর লড়াই চালিয়েছেন জীবনভর। বিশ্বাস করি, আমার মা যদি উপযুক্ত জায়গায় দাঁড়াবার সুযোগ পেতেন তবে তিনি বরণীয়া হতে পারতেন। মা’র ছিল বই, ম্যাগাজিন পড়ার দারুণ নেশা। দীর্ঘ দিনের দেখা দৃশ্য – দুপুরের খাবারের পর মা পড়ছেন, রাতে ফিরেও দেখি তিনি পড়ছেন। তাঁর কাছ থেকেই আমারও পড়ার নেশা।

  • মাহমুদ মেনন, এক্সিকিউটিভ এডিটর, সারাবাংলা ডট নেট

আচ্ছা! কারো মা কখনো মারা যায়? যায় না! আমার মাও যাননি…! এই যে আমি লিখছি তার শব্দকণায় বেঁচে আছেন মা… কারণ তিনিই লিখতে শিখিয়েছেন। সুন্দর কথা বলি তাওতো মায়ের শেখানো বুলি… খারাপ শব্দ মুখে না আনার শিক্ষা তারই ছিলো… মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরোনো মা জীবন নিয়ে যা শিখিয়ে গেছেন তাকে পাথেয় করেই পথ চলছি। সুতরাং আমি যা… তার সবই আমার মা…!

  • ইব্রাহীম মল্লিক সুজন, নিউজরুম এডিটর

আর জনমে যদি জন্ম নেই, তবে তোমার কোলেই জন্ম নেব। সব ভালোবাসা আর প্রাপ্তির শেষে ক্লান্তি আছে, কিন্তু তোমার ভালোবাসায় ক্লান্তি নেই, বিরক্তি নেই। দুনিয়াতে এখন পর্যন্ত এমন কোনো রোগের সৃষ্টি হয় নাই, যা তোমার হাতের রান্না খেলে সারে না। স্বর্গে যেতে রাজি আছি, কিন্তু সেখানে তোমার ইলিশ-খিচুরি না থাকলে অমন জায়গা আমার দরকার নেই। মা আমার সারা জীবনের প্রচ্ছদ।

  • আবু হাসান, আর্ট এডিটর

যখন বাবা মারা গেল তখন আমার বয়স মাত্র পাঁচ। বুঝতে শেখার বয়স থেকে মায়ের যুদ্ধ দেখেছি। খুব অসুস্থ শুনে মাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনি। ডাক্তার জানালো হার্টে রিং পরাতে হবে! অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অস্থিরতায় কতক্ষন ছিলাম মনে নেই। ডাক্তার এসে বললেন সবকিছু ঠিকঠাক। আমি ভয়াবহ ঘোর থেকে ফিরলাম। মায়ের জন্য কেমন করা আমি সেই সেদিন টের পেলাম- সন্তানদের জন্য মায়ের অনুভুতির কিছুটা!

  • মোহ্সেনা শারমিন শুভ্রা, ম্যানেজার, এইচআর এন্ড এডমিন

আমার মা, বাবা মারা যাওয়ার পরে আমাদের একমাত্র আশ্রয় বলতে মা’ই। চোখ বন্ধ করে মা’য়ের কথা ভাবলে আমার স্কুল শিক্ষিকা মায়ের চেহারটাই খুব বেশি মনে পরে! ছোটবেলায় আমার খুব প্রিয় দৃশ্য ছিল স্কুলে যাওয়ার আগে খুব সুন্দর গুছিয়ে শাড়ি পরে মা যখন বাসা থেকে বের হত, তার অদ্ভুত সুন্দর আর ব্যক্তিত্বময় চেহারায় মুগ্ধ হতাম। এখন একটু একটু করে মায়ের বুড়িয়ে যাওয়া দেখি, তবু কি করে মন খারাপ হলে এখনও মা বুঝে ফেলে। আমরা তার কাছে এখনো ছানাপোনাই!

  • শাহ্‌ ওমর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

আম্মা শিখিয়েছেন কারোর সঙ্গে মিথ্যা বলবানা। মিথ্যা বলা মহাপাপ। তাই মিথ্যা বলিনা,অন্যায় হোক সত্যটা স্বীকার করি। কিন্তু আম্মার সঙ্গেই প্রতিনিয়ত সব থেকে বেশি মিথ্যা বলি। মিথ্যা না বললে যে আম্মাকে সুস্থ রাখতে পারতাম না। আম্মার জন্যে মিথ্যে বলাই শুধু না, সব করতে পারি।

  • শারমিন শামস্, সিনিয়র অ্যাসিসটেন্ট এডিটর

ছোটবেলায় গল্প শুনতে চাইলে মা রবি ঠাকুরের কবিতা শোনাত।

মা যখন বড় হয়, তখন মেয়েদের লেখাপড়া, সংস্কৃতিচর্চা সহজ ছিল না। তবু ষাট দশকে গ্রাজুয়েশন করা  মা কবিতা পড়ত, গান গাইত। রংপুর শহরে আবৃত্তিকার হিসেবে নাম ডাকও ছিল। তারপর সংসারে ডুবে যাওয়া মা’র আবৃত্তিচর্চা শুধু সন্তানদের কবিতা শোনানোর ভিতরেই রয়ে গেল।

মায়ের কাছে কবিতা শিখতাম বোনেরা। কবিতা তাই আমাদের রক্তে, যেহেতু আমরা মায়ের রক্তস্রোতের ভেতর দিয়েই এসেছি।  মা, তুমি এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মা।

  • আতাউর রহমান মজুমদার, হেড অব অ্যাকাউন্টস এন্ড ফাইন্যান্স

মা মানে সেই অন্য রকম অনুভূতি। মা, তুমি আমার কত আপনজন তা লিখে বোঝাতে পারবো না। মা, তোমার তুলনা শুধু তুমি, দূরে থেকেও থাকো আমার পাশে। মা, তুমি আজও আছো বলে আমি পৃথিবীর সেরা সুখীদের একজন।

আজ মা দিবসে বিশেষ দিনে নয় যত দিন বেঁচে থাকি প্রতিদিন যেন তোমাকে ভালবেসে বাঁচতে পারি বিধাতার নিকট এ মোর প্রার্থনা।

  • এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

মা, তোমাকে ভালোবাসা সত্ত্বেও আমি কি মানুষের মতো মানুষ হতে পেরেছি? তোমার মনের মতো মানুষ হতে পেরেছি কি ঠিক? আমাকে মানুষ করতে গিয়ে তুমি যে কষ্ট করেছো, আমার ছাত্রাবস্থার সেইসব নির্ঘুম রাত! আহা, কতো ঘুমই না ছিল আমার চোখে! টেবিলের পাশে বসে থাকা তোমার ঘুম ঘুম চোখ। মা, তোমার স্বর্ণের চেইনটার কথা আজো মনে পড়ে, আমার পরীক্ষার ফিস জোগাড় করতে গিয়ে যা বিক্রি করতে হয়েছিল তোমায়! আমি কী পেরেছি দিতে সেই প্রাপ্যের শোধ! আসলেই কী কোনদিনে সম্ভব?  সময় কেবল মায়ের মুখে একটু হাসি ফোটানোর, ভালোবাসার।

  • জান্নাতুল ফেরদৌসী, নিউজ এডিটর

হাইপ্রেসার, ডায়েবেটিস আর আর্থাইটিজের রোগী এখন আমার মা। কিন্তু এখনও আমাদের সেবা করেই চলছেন। ভোরে নাতি-নাতনীকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সবার পছন্দের রান্নাটা পর্যন্ত। এতো ধৈর্য কই পান ৭০ বছরের এই ভদ্রমহিলা? গেল মাসে মায়ের নিচের দুটি দাঁত পড়ে গেছে! শক্ত কিছুই খেতে পারেন না! দাঁত পড়া মা’টার জন্য বুকের ভেতরে এক ধরনের চাপা কষ্ট অনুভব করছি!

  • রাজনীন ফারজানা, নিউজরুম এডিটর

আকাশে মেঘ ডাকলেই আমি জানি ব্যাগের ভেতর বেজে চলা ফোনকলটা আমার মামনির। বৃষ্টির মাঝে নিজেকে বাঁচাবো না ফোন ধরব! অনেক সময়ই ধরিনা। তারপরেও এই মানুষটার কোন ইগো নাই। ঝড় হোক কি বৃষ্টি, রাত হোক কি দিন, একটা নাম্বার থেকে ফোন আসবেই আসবে। মাঝেমধ্যেই তাই ভাবতে চেষ্টা করি এই মানুষটাকে ছাড়া কীভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব হবে! বাবাকে ছাড়া তো দিব্যি বেঁচে আছি।

  • হাবিবুর রহমান, সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট

আমার মা আমার কাছে মহীয়সী, আমার স্বর্গ। আমাদের জন্য মায়ের ত্যাগ তিতিক্ষা ছিল অপরিসীম। বুঝতে শেখার পর থেকেই মাকে দেখেছি খুবই সরল। কখনো কারও ওপর রাগ দেখাতেন না।  কোনো তুচ্ছ কারণে তিনি সন্তানদের গায়ে হাত তুলতেন না। মাঝে মাঝে অবশ্য আমাদের অতি দুষ্টুমি তাঁকে রাগিয়ে দিলেও স্নেহের আঁচলে আগলে রাখতেন সবসময়। আমরা একটু বেশিক্ষণ ধরে বাইরে থাকলে তিনি চিন্তায় অস্থির হয়ে যেতেন। মাকে কতটা মিস করি তিনি হয়তো জানেন না। কিংবা হয়তো তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। কে জানে? ভালো থাকুন পৃথিবীর সব মা।

  • জাকিয়া আহমেদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

রান্নাঘরের মশলার শেলফে রাখা কালোজিরার ছোট বয়ামে কালোজিরা ছিল না। কিন্তু কোনও একটা রান্নায় ঠিক তখনি কালোজিরার ফোড়ন দিতে হবে। পাশে থাকা আমি একটি বড় ডানোর বয়াম তার হাতে দিয়ে বললাম, এটাতেই রাখা আছে। আমার মা-জীবনের অষ্টমাশ্চর্যের মত বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকালেন। ভূত দেখার মতো চমকে উঠে বললেন, কালোজিরার বয়াম কোনটা তুমি জানো!?

কারন, সংসারের কোথায় কী সেটা আমি কিছুই জানি না।

বাবা, ভাই আর মা- এই তিনজনকে আলাদা করা কঠিন আমার জীবনে, তারপরও মা দিবসে বলি-আম্মু, তোমার জন্যই আমি আজ ‘আমি’ হয়েছি।

  • জান্নাতুল মাওয়া, ফিচার রাইটার

মাকে নিয়ে লিখতে গিয়ে শুধু একটা দৃশ্যই চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে। পোস্ট অপারেটিভ রুমে আমাকে ডেকে নেয়া হয়েছে। অনেক রোগী মরার মত সেখানে ঘুমাচ্ছে! আমার মা’ও এক কোনায় শুয়ে আছে। আমাকে বলা হল, আপনার মায়ের এই স্যাম্পল নিয়ে সোজা চলে যান ধানমন্ডির আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিসে। তাকিয়ে দেখলাম একটা ট্রের ওপর পলিথিনে রেখে দেয়া হয়েছে মায়ের অপারেশন করা স্তনের অংশ। আমি বিমুঢ়ের মত পলিথিনটা হাতে নিলাম। করিডর পার হচ্ছি। হঠাত দেখি পলিথিন চুইয়ে হাসপাতালের সাদা করিডরে রক্ত পড়ছে! আবার ফিরে গেলাম, বললাম আরেকটা পলিথিনে পেঁচিয়ে দেন, রক্ত পড়ছে। তারপর সেই পলিথিনে মোড়ানো মায়ের অংশ চেপে ধরে আমি রিকশায় করে যাচ্ছি শমরিতা থেকে আনোয়ারাতে। এত চেপে ধরেছিলাম পলিথিনটা যে যখন ওখানে গিয়ে জমা দিলাম আমার হাতটা ব্যাথা করছিলো। কি যে ভারি ছিলো ওই ছোট্ট পলিব্যাগটা!

  • ইস্রাফিল আলম, নিউজরুম এডিটর

পৃথিবীতে এই একজন মানুষ যিনি কখনো একটি মুহুর্তের জন্যও আমাকে অবিশ্বাস করেননি। আমার মা। প্রতিটি মুহুর্তে বিশ্বাস করে গেছেন তিনি আমাকে। নিজের সকল সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে কিভাবে এগিয়ে যেতে হয় তা শিখিয়েছেন।

অনেক দিন হয়ে গেল মাকে দেখি না। কাজের সুবাদে রাজধানীতে অবস্থান করছি। হৃদয়ের কোথায় যেন টান লাগে- কখন মাকে দেখব। কখন দেখব।

 

  • মো: বদিউল আলম, এক্সিকিউটিভ, অ্যাকাউন্টস

মা

শিশুরা মায়ের পাগল

থাকে পিছু খানি ।

মা ,ছাড়া এই পৃথিবীতে

কিছু নেই আর দামি ।

মায়ের কাছেই শিখা

মায়ের হাতেই খাওয়া ।

মায়ের কোলে মজার ঘুমে

পরির দেশে যাওয়া ।

মাকে ছাড়া কিছুই হয় না

শিশু কিশোর বেলা ।

বড় হলেও সাথে থাকে
মায়ের দোয়া মেলা ।

 

 

  • আবু তালহা, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

পাশাপাশি নয়, কাছাকাছি

দূরের কাশ বনের মতো-
আপাত দৃষ্টিতে পাশাপাশি;
শন বন নয়- যে রূপ কাছাকাছি
এ শহরময়- সম্পর্ক!

আমাদের তাবৎ জীবন
বোনা আছে টানা-পোড়েনে;
তাঁত ঘরে যে সুর ওঠে
লাল-নীল সুতার টানে।

  • তরিকুর রহমান সজীব, জয়েন্ট নিউজ এডিটর

এসএসসির পরই আম্মার বিয়ে। সংসারের চাপে পড়ালেখা হয়নি আর, কিন্তু তাড়নাটা ছিল। তাই দুই সন্তানের জননী একা হাতে সংসার সাগর সামলেও দুই দশক বছর পর হাতে তুলে নিলেন বই। আমার ক্লাস ফাইভের বৃত্তি আর আম্মার এইচএসসি— একসাথে, এক টেবিলে মা-ছেলের পড়ালেখা। শরৎ-ফাল্গুনীর বই, মান্না-সতীনাথের গান; কেবল শরীর তো নয়, মনের ভেতরেও এমন হাজারো বীজ বুনে দিয়েছেন।

আমার কাছে ‘মা’ তাই লড়াই-সংগ্রামের প্রতিশব্দ, সমার্থক সৃজনের। আকারে সবচেয়ে ছোট হলেও পৃথিবীর সমান একটি শব্দ ‘মা’।

সারাবাংলা/এসএস/আরএফ

আমাদের মায়েরা…
আমাদের মায়েরা…
আমাদের মায়েরা…