শুক্রবার ২০ এপ্রিল, ২০১৮ , ৭ বৈশাখ, ১৪২৫, ৩ শাবান, ১৪৩৯

আমার মধ্যে আবেগ-টাবেগ নেই: হাথুরু

জানুয়ারি ১৪, ২০১৮ | ৩:০১ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিনিধি

মিরপুরের আকাশ সকাল থেকেই ঢাকা কুয়াশায়। শীতের হিমেল সকালেই একাডেমি মাঠে দলকে নিয়ে অনুশীলন শুরু করে দিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। দুপুরেও সেই কুয়াশা পুরোপুরি যায়নি। বাংলাদেশে ফিরে হাথুরুর মনের আকাশ থেকেও সরল না মেঘ। সংবাদ সম্মেলনেই যেন প্রতিটা শব্দে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, পারলে প্রচারমাধ্যমকে এড়িয়েই যেতেন। ফেরা নিয়েও তার মধ্যে কোনো আবেগ নেই, সেটিও স্পষ্ট করেই বললেন।

পেশাদার কোচদের আবেগ না থাকাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের হয়ে যে সাড়ে তিন বছর কোচিং করিয়েছেন, এর মধ্যে নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখিও তো হতে হয়েছে। ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ হয়েও নিজের কাজটা করেছেন ঠিকমতো। কিন্তু হুট করেই চাকুরি ছেড়ে দেওয়ার পর প্রথম পরীক্ষাটাই পুরনো দলের সঙ্গে, ব্যাপারটা কি একটু হলেও আবেগের তারে টোকা দেয় না?

হাথুরু একেবারে নিষ্কম্প নিরাবেগ গলাতেই বললেন, ‘আমি এখানে তিন বছর আগে এসেছি, আমি আসলে খুব একটা আবেগী মানুষ না। এসব আবেগ-টাবেগ আমার মধ্যে নেই। তবে আমি এখনো চাই, বাংলাদেশ ভালো করুক। আমি তাদের সঙ্গে খুব ভালোভাবে কাজ করেছি, তাদের অনেকের সঙ্গেই আমার হৃদ্যতা আছে। একই সঙ্গে আমি চাই, শ্রীলঙ্কাও ভালো করুক। ’

বাংলাদেশে সর্বশেষ প্রচারমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে। এরপর পুরো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেই আর আসেননি ক্যামেরার সামনে। আজও এক দুই কথাতেই বেশিরভাগ উত্তর সারলেন, অফ স্টাম্পের বাইরের বলও ছেড়ে দিলেন সন্তর্পণে। যখন বললেন, ‘বাংলাদেশে ফিরতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত,’ সেটাও মনে হলো কথার কথাই।

এই বাংলাদেশে গত সাড়ে তিন বছরে সবকিছুই কাছ থেকে দেখেছেন। সেই বাংলাদেশকে নিয়েই এবার হাথুরুর মুখে সতর্কবাণী, ‘আমি আগেই বলেছি, ওরা দেশের মাটিতে খুবই কঠিন কঠিন প্রতিপক্ষ। গত আড়াই বছরে দেশের মাটিতে ওরা একটা মাত্র ওয়ানডে সিরিজে হেরেছে। ওয়ানডেতে ওরা খুবই ভালো করছে। ওরা নিজেদের কী করতে হবে সেটাও ভালো করে জানে। তাদের গেমপ্ল্যানও জানে, এটা যে কোনো দলের জন্য খুবই বড় চ্যালেঞ্জ। ’

কিন্তু বাকি বেশির ভাগ প্রশ্নেই উত্তর সারলেন দুই এক লাইনে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নাজমুল হাসান পাপনের মন্তব্য নিয়ে বললেন, এসব নিয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে আগ্রহী নন। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর চলে যাওয়া যৌক্তিক কি না, সেই প্রশ্নেও এক লাইনে বললেন, তিনি তা মনে করেন না। বাংলাদেশকেই প্রথম প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়া শ্রীলঙ্কার জন্য বাড়তি সুবিধা হবে কি না, সেটিও নাকচ করে দিলেন।

‘আমার তা মনে হয় না। এখনকার ক্রিকেটে সব তথ্যই সবার জানা। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি কাজগুলো আরও সহজ করে দিয়েছে। খেলোয়াড়রা একে অন্যকে ভালোভাবেই চেনে। আমি কীভাবে কাজ করি তাও তারা জানে, আমার মনে হয় না এখানে বাড়তি কোনো সুবিধা আছে।’

প্রশ্ন উঠল সৌম্য সরকার ও তাসকিন আহমেদকে নিয়েও। হাথুরু চলে যাওয়ার পরেই এই দুজন বাদ পড়ে গেলেন। ‘প্রিয়পাত্র’ ধারণাটা অবশ্য উড়িয়ে দিলেন শ্রীলঙ্কার কোচ, ‘বাংলাদেশ দল মানে একজন-দুজন ক্রিকেটার নয়। আরও অনেক ভালো ক্রিকেটার আছে। ৫ জন ক্রিকেটার না থাকলেও তারা পারফর্ম করতে পারে। আমার প্রিয় বলে কেউ ছিল না। যখন কেউ পারফর্ম করে, তখনই সে আমার প্রিয়। এভাবেই দেখি। বাংলাদেশ তাই একজন-দুজন ক্রিকেটারের দল নয়। তাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার আছে।’

হাথুরুর কথাটা যেন মাঠেও ফলে, সেটাই চাইবে বাংলাদেশ।

সারাবাংলা/এএম

আরও পড়ুন