শুক্রবার ২০ এপ্রিল, ২০১৮ , ৭ বৈশাখ, ১৪২৫, ২ শাবান, ১৪৩৯

ইউনাইটেড হাসপাতালের এমডির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

জানুয়ারি ১১, ২০১৮ | ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রহমান খানসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর আসামি হলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার রহিমা বেগম।

মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে ২১ কোটি ৪৪ লাখ রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়। বৃহস্পতিবার দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্রাচার্য্য সারাবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রণব কুমার ভট্রাচার্য্য সারাবাংলাকে বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রতিষ্ঠার পর ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত কোন ট্যাক্স পরিশোধ করেনি। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ২১ কোটি ৪৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৩ টাকা পরিশোধ না করে তা আত্মসাৎ করেছে। এই অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০০৬ সালে রাজধানীর গুলশান-২ আবাসিক এলাকার ৭১ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়ির বেইজমেন্টসহ একটি আটতলা ভবনে কার্যক্রম শুরু করে ‘কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল’ পরের বছর মালিকানা ও নাম বদলে ‘ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেড’ হয়। কিন্তু ঢাকা সিটি করপোরেশনের তালিকায় এখনও আগের নামই বহাল রয়েছে।

২০০৬ সাল থেকে হাসপাতালটির ত্রৈমাসিক হোল্ডিং ট্যাক্স ৮৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৯০ টাকা ঠিক করে ২০০৭ সালের ২৬ অগাস্ট নোটিস দেয় ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ না করে সিটি করপোরেশনের অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ বোর্ডে (এআরবি) আবেদন করে। সে সময় চার সদস্যের ওই বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন সিটি করপোরেশন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কমিশনার এম এ কাইয়ুম। সদস্য হিসেবে ছিলেন কমিশনার রহিমা বেগম, প্রকৌশলী কাজী জহিরুল আজম ও অ্যাভোকেট মালেক মোল্লা।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, এআরবি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অপর দুইজন সদস্যের অনুপস্থিতিতে রহিমা বেগম এককভাবে ২০০৯ সালে ইউনাইটেড হাসপাতালের ত্রৈমাসিক কর কমিয়ে ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫০ টানায় পুনঃনির্ধারণ করেন। “এতে ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেডের ত্রৈমাসিক কর ১৩ লাখ ২২ হাজার ৩৪০ টাকা কমে যায়।

এরপরও ইউনাইটেড হাসপাতাল কোন কর পরিশোধ করেনি। করের পরিমাণ না কমালে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সিটি করপোরেশন পাওনা হতো ২১ কোটি ৪৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৩ টাকা।” মামলায় তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ওই টাকা পরিশোধ না করে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

সারাবাংলা/জিএস/জেডএফ

 

আরও পড়ুন