সোমবার ২২শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

ইউপিআর ফোরামের ১৭৮ সুপারিশ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ

সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮ | ১১:৫২ অপরাহ্ণ

।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের সর্বজনীন পুনর্বীক্ষণ পদ্ধতি বা ইউনিভার্সেল পিরিওডিক রিভিউ (ইউপিআর) ফোরামের ২৫১টি সুপারিশের মধ্যে ১৭৮টি সুপারিশকে চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। অবশিষ্ট ৭৩টি সুপারিশের বিষয়ে নিজস্ব বক্তব্য সম্বলিত ‘নোট’ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত এসব সুপারিশের মধ্যে ২৫টি সুপারিশ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা সম্পর্কিত। জাতিসংঘে চলমান মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সুপারিশ গ্রহণ করেছে। এসব সুপারিশ গ্রহণ ও ইউপিআরের তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের গঠনমূলক সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল ১৯।

জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৩৯তম অধিবেশনে বাংলাদেশের ইউপিআর সুপারিশ গ্রহণ বিষয়ে আর্টিকেল ১৯ একটি বিবৃতি পাঠ করে। এটি বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) অনলাইনে প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে ১৭৮টি ইউপিআর সুপারিশ গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সরকারকে স্বাগত জানিয়েছেন আর্টিকেল ১৯ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্রহণ করা এসব সুপারিশের মধ্যে ২৫টি সুপারিশ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা সম্পর্কিত। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ ও প্রতিবাদের স্বাধীনতা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক অবনতিতে আমরা উদ্বিগ্ন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইসিটি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারায় চলতি বছর এ পর্যন্ত ৯০টিরও বেশি মামলা হয়েছে। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের গ্রেফতারের ঘটনা এবং জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চায় সহায়ক নয়। তবে ইউপিআর সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সে লক্ষ্যে যেন তারা কাজও করে। গৃহীত সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সিভিল সোসাইটির সঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানিয়েছে আর্টিকেল ১৯।

উল্লেখ্য, ‘ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ’ (ইউপিআর) জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া যা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত। এই প্রক্রিয়ার অধীনে বর্তমানে চার বছর পর পর জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজ নিজ রাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার সুযোগ পায় এবং তার আলোকে মানবাধিকার পরিস্থিতি সমুন্নতকরণে এবং নাগরিকদের প্রতি দায়দায়িত্ব পরিপূরণে গৃহীত পদক্ষেপ ঘোষণার সুযোগ পায়। ইউপিআর তুলনামূলকভাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের একটি নতুন এবং অধিক কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে মানবাধিকার পরিস্থিতিকে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে ইউপিআর বা সার্বজনীন পুনর্বীক্ষণ পদ্ধতির আওতায় ২০০৯ সালে, ২০১৩ সালে এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা হয়।

সর্বশেষ এ বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত তৃতীয় চক্রের পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সরকার ২৫১টি সুপারিশের মধ্যে ১৬৭টি সুপারিশ গ্রহণ করে। এসব সুপারিশের মধ্যে ২৫টিরও বেশি সুপারিশ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশের অধিকার, ধর্ম ও বিশ্বাসের অধিকার এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার অধিকার সম্পর্কিত। চূড়ান্ত অধিবেশনেও সরকার সেই ২৫টি সুপারিশ মেনে নিয়েছে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

ইউপিআর ফোরামের ১৭৮ সুপারিশ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ
ইউপিআর ফোরামের ১৭৮ সুপারিশ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ
ইউপিআর ফোরামের ১৭৮ সুপারিশ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ