সোমবার ২৩ জুলাই, ২০১৮, ৮ শ্রাবণ, ১৪২৫, ৯ জিলক্বদ, ১৪৩৯

‘ইট্স টাইম ফর অ্যাকশন’

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ | ৭:৫৭ অপরাহ্ণ

জাহিদ-ই-হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ-এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে সাত মাসের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। পরিকল্পনার প্রথম পর্ব হিসেবে আজ বিকেলেই বিকেএসপিতে আবাসিক ক্যাম্পে রওনা হয়েছেন ফুটবলাররা। এরপর কাতারে আরেকটি ক্যাম্প ও থাইল্যান্ডে দুটি প্রীতি ম্যাচ শেষে লাওসের বিপক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮ মাস পরে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

এই হচ্ছে দেশের ফুটবলারদের নিয়ে সম্ভাব্য ইতিহাসের সবচেয়ে ‘ব্যয়বহুল’ ও ‘ঐতিহাসিক’ উদ্যোগ। ধাপে ধাপে একটি করে কাজ শেষ করতে চায় ফেডারেশন। উদ্দেশ্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও এশিয়ান গেমসে ভালো করা। নির্বাসনে থাকা দেশের ফুটবলটাকে আবার জেগে তোলা।

সাভারের বিকেএসপিতে দুই সপ্তাহ আবাসিক ক্যাম্প করবে মামুন-জামালরা। সেখান থেকে চলতি মাসের ২৮ তারিখে কাতারে যাবে ফুটবলাররা। সেখানে ১৩ দিন থেকে ক্যাম্প করানো হবে। ১৪ মার্চ ঢাকায় ফিরে কয়েকদিন বিশ্রামে রেখে আবার দুই দিন ক্যাম্প করবে ফুটবলাররা। এরপর ১৯ মার্চ থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হবে দল। দলের সঙ্গে ঢাকা আবাহনীর ডাক পাওয়া খেলোয়াড়রা যোগ হয়ে থাইল্যান্ডে যাবে। সেখানে ক্যাম্প করে ক্লাবের সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নিবে বাংলাদেশ। ২১ ও ২৩ মার্চ দুটি ম্যাচ হবে। সেখান থেকে একদিন পর (২৫ মার্চ) লাওসে যাবে পুরো দল। ২৭ তারিখ এই দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে মামুনরা। তারপরের দিনে আবার ঢাকায় ফিরে আসবে তারা।

ঢাকায় ফিরে দলকে আরও ছোট করা হবে। সম্ভাব্য ২৩ জনের একটি দল করে ক্যাম্পে রাখা হবে সাফ ও এশিয়ান গেমসের জন্য প্রস্তুত করতে। এই দলটি প্রতিনিধিত্ব করবে। আজ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাতমাস ব্যাপী ফুটবলযজ্ঞের বিষয়টি জানানো হয়।

কাতার-থাইল্যান্ড প্রজেক্টের মধ্য দিয়ে মহাপরিকল্পনার ছাপ স্পষ্ট। সম্ভাব্য দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্যাম্পও এটা। ফুটবলারদের দেয়া সর্বোচ্চ ‘সেবা ও সুযোগ’ এটা বলে জানান বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দীন ও জাতীয় দল কমিটি।

ক্যাম্পে ফুটবলারদের ফিটনেসের উপর জোর দেয়া হবে বলে জানান কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ড। খেলোয়াড়দের ম্যাচ উপযোগী করে তুলতে নিজের সর্বোচ্চ দিতে চান তিনি। সঙ্গে বাফুফে সভাপতি আর কোচ জানান, আমাদের দায়িত্ব ছিল বিশে^র বেস্ট সুযোগটা করে দিতে। সুযোগ আমরা তৈরি করে দিয়েছি। তবে খেলাটা খেলোয়াড়দেরই খেলতে হবে। কোচ বলেন, ‘ইটস টাইম ফর অ্যাকশন। বেস্ট প্লেয়ার্স উইথ দ্য বেস্ট এটিচিউট বেটার দ্য মোস্ট।’

এদিকে, টানা ৯ মাস ফেডারেশন-বিপিএল-স্বাধীনতা কাপে ধকল শেষে ক্লান্তির ছাপ খেলোয়াড়দের মধ্যে। কেউ কেউ মনে করছেন ক্যাম্পটা একটু পেছালে ভালো হতো। তবে কোচ ও সভাপতির মুখে ভেসে আসলো খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্বের কথা, ‘বড় মাপের খেলোয়াড়দের জীবনটা এটাই। এভাবে ফুটবল জীবন লিড করতে হয়। পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। যে অজুহাত তারা দিচ্ছে সেটা কোনও অজুহাতই না। সামনে সাফ-এশিয়ান গেমস আছে। খুব বেশি সময় হাতে নেই।’

কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ডও নাকি খেলোয়াড়দের ডেকে এনে বিষয়টি নিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। ফুটবলারদের বলেছেন, ‘পুরো বিষয়টা তোমাদের। সাফটাও তোমাদেরই।’

সবকিছুর এক অর্থ- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রমাণ করার। সাফল্য আনার। সেটা করতে কি পারবে এই নতুন দল সেটা নাহয় সময়ের ওপরেই ছেড়ে দেই।

সারাবাংলা/জেএইচ

‘ইট্স টাইম ফর অ্যাকশন’
‘ইট্স টাইম ফর অ্যাকশন’