বৃহস্পতিবার ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

উন্নয়নের সুফল পেতে আর্থিক খাতের সংস্কার জরুরি

মার্চ ১২, ২০১৮ | ৬:২৫ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রতিবছর দেশের বাজেটের আকার বাড়ছে, ব্যয় বাড়ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপিতেও। কিন্তু দেশের অর্থনীতিতে এখন বড় বাধা আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা।

তারা বলেন, বেপরোয়া ঋণ দেয়ার মাধ্যমে মূলধন ঘাটতিতে দেশের ব্যাংকিং খাত, আবার ক্যাপিটাল মার্কেটেও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। আর্থিক খাতের সংস্কার ছাড়া দেশের উন্নয়নের সুফল পাওয়া যাবে না। সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার হবে ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। আসছে ৭ জুন বাজেট উপস্থাপন করা হবে। আর ৩০ জুনের মধ্যেই বাজেট অধিবেশন শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এবারের বাজেটে পরিবহন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব খাতে বেশি বরাদ্দ থাকবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেকে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের বছরে আর্থিকখাতসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যান, তাদের ক্ষেত্রে সরকার নমনীয় নীতি নেয়। বিষয়টা ঠিক এমন নয়। কোনোভাবেই অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, আমাদের এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের আগে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্টদের অর্থবরাদ্দ দেওয়া হয় না। আবার, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রেও আগে যাচাইবাছাই করা হয়। সম্প্রতি বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ওয়ান স্টপ সার্ভিস শুরু করেছে। এর মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি, নতুন ব্যবসা শুরুসহ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবসায়ীদের জটিলতার অবসান ঘটবে।

অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, যত্রতত্র ঋণ দেয়া, অব্যবস্থাপনাসহ যথাযথ নজরদারির অভাবে দেশের ব্যাংকিং খাতে দুরবস্থা বিরাজ করছে। বেপরোয়া ঋণ দেয়ায় ক্ষেত্রে অনেক ব্যাংকই সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। যার ফলে মূলধন সংকট বাড়ছে। প্রতিবছর সংস্কার কার্যক্রমের নামে অকার্যকর কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। এটি মূলত দীর্ঘ সময়ের কাঠামোগত সমস্যার ফল। যা সমাধানে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যয় বাড়ছে। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতে না পারায় যেমন ব্যয় বাড়ছে, তেমনি ভোগান্তিরও সৃষ্টি হচ্ছে। উন্নয়ন প্রস্তাবনা অনুযায়ী সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতে না পারলে মেগা প্রকল্প থেকে ফল আসবেনা। দেশের ক্যাপিটাল মার্কেটে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এই খাতের সংস্কার না করলে এই মার্কেটে থোক কাঙ্খিত ফল আসবে না।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, মধ্যম সারির দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়ায় যেমন সুবিধা রয়েছে, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আগে যেভাবে বিদেশ থেকে সাহায্য আসতো, এখন আর সেভাবে আসছে না বা আসবে না। আবার, বর্তমানে যেসব সাহায্য আসছে, তাও চলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে। বর্তমানে রোহিঙ্গা আমাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

সাবেক অর্থ সচিব মতিউল ইসলাম বলেন, দেশে ব্যাপক হারে উন্নয়ন চলছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনাতে ত্রুটি রয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়লেও সুফল আসবেনা।

সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, ব্যাংকিং খাতের অরাজকতা দীর্ঘদিনের। সরকারের অনেক সফল কাজ ম্লান হয়ে যাবে, যদি ব্যাংকে লুটপাটকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না যায়। যে কোন মূল্যে তা করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ফরাস উদ্দিন বলেন, ব্যাংকিং খাতের জটিলতা সমাধানে ব্যাংকগুলোকে মার্জ করার কথা বলা হয়। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোন আইন নেই। আগে আইন প্রণয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির বড় সমস্যা বেকারত্ব। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এখনো দেশের ৩৮ শতাংশেরও বেশি লোকজন আন্ডার এমপ্লয়মেন্ট, যা সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

সারাবাংলা/জেজে/এসআই

উন্নয়নের সুফল পেতে আর্থিক খাতের সংস্কার জরুরি
উন্নয়নের সুফল পেতে আর্থিক খাতের সংস্কার জরুরি
উন্নয়নের সুফল পেতে আর্থিক খাতের সংস্কার জরুরি