বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৪ আশ্বিন, ১৪২৫, ৭ মুহররম, ১৪৪০

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের খরচ বাড়ার অনুমোদন একনেকে

মার্চ ২০, ২০১৮ | ২:০৩ অপরাহ্ণ

।। স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: পুরোদমে চলছে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ। এজন্য প্রকল্পটির খরচ বাড়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক’র বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রকল্পটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসনসহ বিভিন্ন কাজে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ বাড়ছে। আমরা এ বন্দরটিকে পুর্নাঙ্গ গভীর সমুদ্র বন্দরে রূপান্তর করতে চাই। সেজন্য এর প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরসহ মোট ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এসব বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৬৮০ কোটি ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৯ হাজার ৫৯১ কোটি তিন লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা এসব প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন।পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধাদির উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৯৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। জেলা মহসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫৫৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ভবেরচর-গজারিয়া- মুন্সীগঞ্জ জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশ¯Íতায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ৬ লাখ টাকা। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা কার্যালয়ের ২০ তলার ২টি বেইজমেন্টসহ ১০ তলা প্রধান কার্যালয় নির্মাণ কাজ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৪৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। নোয়াখালী সদরের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ডাক অধিদপ্তরের সদর দপ্তর নির্মাণ প্রস্তাবিত প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলাধীন তেতুলিয়া নদীর ভাঙ্গন হতে বকসী লঞ্চঘাট হতে বাবুরহাট লঞ্চঘাট পর্যন্ত প্রতিরক্ষা ও ড্রেজিং এবং কুকরী-মুকরী দ্বীপ বন্যা নিয়ন্ত্রন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলাধীন লর্ডহার্ডিঞ্জ ও ধলিগৌরনগর বাজার রক্ষা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪৩২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলাধীন স্বর্ণদ্বীপ মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে রক্ষাকল্পে নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বিএডিসির উদ্যান উন্নয়ন বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে উদ্যান জাতীয় ফসল সরবরাহ ও পুষ্টি নিরাপত্ত উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এক্সপানশন অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস এন্ড হসপিটাল প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪২০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ভূমি জরিপ শিক্ষর উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৭৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সরকারের জন্য নিরাপদ ই-মেইল ও ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, ঢাকা স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

(সারাবাংলা/জেজে/জেএএম)

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের খরচ বাড়ার অনুমোদন একনেকে
পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের খরচ বাড়ার অনুমোদন একনেকে