বুধবার ২০ জুন, ২০১৮, ৬ আষাঢ়, ১৪২৫, ৫ শাওয়াল, ১৪৩৯

এটিসি-পাইলট কথোপকথন ফাঁস, তদন্তে যাচ্ছে সিআইবি

মার্চ ১৪, ২০১৮ | ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর এটিসি এবং পাইলটের মধ্যে হওয়া ‘রেডিও কনভারসেশন’ কিভাবে বাইরে এলো তা তদন্ত করবে সেন্ট্রাল ইনভেসটিগেশন ব্যুরো (সিআইবি)।

মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) দেশটি একটি সংবাদ মাধ্যম নেপালের বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএএন) বরাত দিয়ে এই তথ্য জানায়।

সিএএএন জানিয়েছে, ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার এবং পাইলটের মধ্যে যে ‘রেডিও কনভারসেশন’ হয়েছে তা গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া বেআইনি। সেন্ট্রাল ইনভেসটিগেশন ব্যুরো (সিআইবি) এই বিষয়ে তদন্ত করবে। ওই কথোপকথন সিএএএন’র পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনোভাবে প্রচার করার সুযোগ নেই। সিআইবি প্রতিটি ধাপের তদন্ত শুরু করছে কিভাবে এই কথোপকথন বাইরে গেল এবং প্রচার হলো।

সংস্কৃতি, পর্যটন এবং বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব কৃষ্ণ প্রসাদ দেবকোটা বলেছেন, ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি কি কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে তা তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পরই বলা যাবে। ইতোমধ্যে তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নেপালের বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএএন) সাবেক মহাপরিচালক যোগী প্রসাদ গৌতমকে সমন্বয়ক করে সরকার ইতোমধ্যে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বিমানবন্দরের দুর্বল অবকাঠামো এবং এটিসি থেকে বেঠিক নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গৌতম। তিনি বলেন, হ্যাঁ, বিমানবন্দরটি সরু এবং আমাদের নতুন বিমানবন্দর দরকার। তবে দুর্ঘটনার কারণ এটিই- এমন প্রমাণ হাতে আসেনি। এক প্রশ্নের জবাবে গৌতম বলেন, এটিসি থেকে পাইলটকে দক্ষিণের রানওয়েতে (০২) অবতরণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু উড়োজাহাজটি নিয়ে তিনি উত্তর রানওয়ের (২০) দিকে চলে যান। যদিও এটিসি থেকে তাদের ওই রানওয়েতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাইলট তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং রানওয়ে ০২’তে অবতরণের অনুমতি চান।

ইউএস-বাংলাকে সহযোগিতা করার জন্য এটিসি থেকে অন্য একটি উড়োজাহাজকে আকাশে অপেক্ষায় রাখা হয়, ওই কথোপকথন থেকে জানা গেছে, যোগ করেন তিনি।

“উড়োজাহাজটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয় খুবই কম উচ্চতায় থেকে। উত্তর-পশ্চিম টাওয়ার এবং নেপাল সেনার একটি স্থাপনার মধ্যে দিয়ে। রানওয়ের ঠিক মাঝখানে অবতরণ করতে গিয়ে খাদে পড়ে যায়, এরপর উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।”

তিনি আরও বলেন, নেপাল সেনা, পুলিশ, বিমানবন্দরের দমকল সদস্য এবং জরুরি উদ্ধার কর্মীরা ঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং ফ্লাইটে থাকা প্রত্যেককে বাঁচানোর চেষ্টা করে। নিয়ম অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনার তিন মিনিটের মধ্যে পৌঁছানোর কথা। আমাদের উদ্ধারকারী দল দুই মিনিটের মাথায় ঘটনাস্থালে পৌঁছায়। তবুও এই দুর্ঘটনাকে আমরা একটি শিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করছি, যা ভবিষ্যতে আমাদের কাজে লাগবে।

গৌতম জানান, যদিও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, পাঁচ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কমিটি তদন্তে উঠে আসা বিস্তারিত বিষয় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে জানাবে।

সিএএএন আরও জানায়, দুর্ঘটনা ঘটে ২টা ১৮ মিনিটে এবং দলকল বাহিনীর সদস্যরা ৩টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার মধ্যে মরদেহ এবং আহত যাত্রীদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সারাবাংলা/এটি

এটিসি-পাইলট কথোপকথন ফাঁস, তদন্তে যাচ্ছে সিআইবি
এটিসি-পাইলট কথোপকথন ফাঁস, তদন্তে যাচ্ছে সিআইবি