শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১১ ফাল্গুন, ১৪২৪, ৬ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯

এবার বাংলাদেশি উদ্ভাবকের ‘মসকিউটো কিলার’ মালয়েশিয়ায়

ডিসেম্বর ৮, ২০১৭ | ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

শামছুজ্জামান নাঈম

মালয়েশিয়া: জিকা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ নানা ধরনের রোগের জীবাণু বাহক মশা নিধনের জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে আসছে বাংলাদেশি উদ্ভাবকের এইচইসি মসকিউটো কিলার।

দুই হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে কাজ করতে সক্ষম বিদ্যুতচালিত যন্ত্রটি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত। এটি ধোঁয়া মুক্ত, গন্ধহীন। কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় না, ফলে বিষক্রিয়া মুক্ত। মাত্র দুই হাজার টাকা মূল্যমানের এই যন্ত্রটি বিদ্যুৎ ছাড়াও চলবে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা।

এমএ হামিদের গবেষণার পুরো কাজ এবং এর সফল উদ্ভাবন বাংলাদেশে হলেও এইচইসি মসকিউটো কিলার নজর কেড়েছে মালয়েশিয়ায়। মশা মারার যন্ত্র উদ্ভাবন করে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া গ্রামে সামসুল হকের ছেলে এমএ হামিদ ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারের স্বীকৃতি লাভ করে। পরের বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের গেজেটে তা প্রকাশ পায়।

বর্তমান বিশ্বে এইচইসি মসকিউটো কিলারই একমাত্র স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মশক নিধন যন্ত্র যা নির্দিষ্ট দূরত্বে মশাকে আকৃষ্ট করে আনতে সক্ষম। এটি সহজ ব্যবহারযোগ্য এবং নিরাপদ- দাবি করেন উদ্ভাদক এমএ হামিদ।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে মশা নিধনে তরল রাসায়নিক পদার্থ, কয়েল, বৈদ্যুতিক জালসহ নানা উপকরণ ব্যবহৃত হয়- যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অন্যগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় ভোক্তা। এক্ষেত্রে এইচইসি মসকিউটো কিলার সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং মশা নিধনে কার্যকর। এই যন্ত্রটিতে মানব দেহের মতো ইনগ্রেডিয়েন্স দেওয়া আছে, যে কারণে মশা বিভ্রান্ত হয়ে কামড়াতে আসে।

এমএ হামিদের জন্ম ১৯৮২ সালে। ১৯৯৭ সালে মাধ্যমিক, ১৯৯৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ২০০৪ সালে বিডি টেকনোলোজি’র অধীনে আইআইইউসি থেকে টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ২০০৯ সালে জেনারেল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট জিইডি সম্পন্ন করেন।

ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু উদ্ভাবনের স্বপ্নে বিভোর থাকতেন হামিদ। ২০১২ সালে গবেষণাধর্মী কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। পাওয়ার ডেভেলোপমেন্ট নিয়ে গবেষণা শুরু করলেও ব্যয়বহুল হওয়ায় পরে তিনি এককভাবে মশা নিধন যন্ত্র উদ্ভাবনের কাজ শুরু করেন। দুই বছরেই তিনি সাফল্যের মুখ দেখেন।

হামিদ জানান, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ মশা বাহিত নানান রোগে মারা যাচ্ছে। ফলে প্রাণঘাতি মশার কবল থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখতেই আমি এই গবেষণার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করি।

সারাবাংলা/এটি