শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৬ আশ্বিন, ১৪২৫, ৯ মুহররম, ১৪৪০

এমপিপুত্রই চালাচ্ছিলেন গাড়ি, মায়ের দাবি- ছেলে ছিল নোয়াখালী

জুন ২০, ২০১৮ | ৬:২২ অপরাহ্ণ

।। উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা: রাজধানীর কাফরুল থানাধীন মহাখালী ফ্লাইওভারে পথচারী সেলিম ব্যাপারীকে (৫৫) চাপা দেওয়ার সময় নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে সাবাব চৌধুরেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গাড়ি চাপা দিয়েই ন্যাম ভবনের দিকে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন সাবাব চৌধুরীর পিছুও নেন। ন্যাম ভবনে এসে তারা এমপিপুত্রের পরিচয় নিশ্চিত হন। তবে এমপির স্ত্রী কামরুন্নাহার শিউলি দাবি করেছেন, ওই গাড়িটি তার নিজের। আর ঘটনার সময় তার ছেলে ওই গাড়িতে ছিলেন না, ওই রাতে সাবাব ছিলেন নোয়াখালীতে।

কামরুন্নাহার শিউলি নোয়াখালী কবির হাট উপজেলা চেয়ারম্যানও। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘উত্তরায় তার এক বান্ধবীর বাসায় একটি গিফট বক্স নিয়ে যাচ্ছিলেন ড্রাইভার নুরুল আমীন। গাড়িচালক নুরুল আমিন গাড়ি রেখে কোথায় যেন চলে গেছে। তাকে আমরাও খুঁজছি।’

তবে এমপি পরিবারের ঘনিষ্ঠ নোয়াখালীর এক তরুণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, ‘সাবাব চৌধুরী মঙ্গলবার (১৯ জুন) নোয়াখালীতে ছিলেন না। তিনি ঈদের পরদিনই ঢাকায় চলে আসেন।’ এমপি একরামুল করিম চৌধুরী নিজেই মঙ্গলবার নোয়াখালীতে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

দুর্ঘটনার পর ফেলে যাওয়া নম্বর প্লেট অনুযায়ী বিআরটিএতে গিয়ে জানা যায়, গাড়িটি চলতি বছরের ১৮ মার্চ কেনা হয়। গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন করা হয় একরামুল করিম চৌধুরীর স্ত্রী কামরুন্নাহার শিউলির নামে। অডি-৭ মডেলের গাড়িটির রঙ সাদা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, দুর্ঘটনার পর তারা দু’জন ওই গাড়িটিকে অনুসরণ করেন। তাদের সঙ্গে একজন মোটরসাইকেল আরোহীও ছিলেন। তারা পুরো ঘটনা দেখেছেন। এক পর্যায়ে এমপিপু্ত্রের গাড়িটি আগারগাঁও হয়ে আসাদ গেট দিয়ে ন্যাম ভবনে ঢুকে পড়ে। তারাও গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে ন্যামভবনে ঢোকেন।

ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “ন্যাম ভবনে প্রবেশ করার আগে গার্ডকে জিজ্ঞাসা করতেই গার্ড বলেন, উনি সাবাব চৌধুরী। নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে। মোটরসাইকেলের আরোহীর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে একটা ঘুষি মারেন সাবাব। তখন গাড়িতে থাকা দু’জন এগিয়ে গিয়ে বলেন, ‘ওকে মারছেন কেন? আপনি ভুল করেছেন, অন্যায় করেছেন। আর এখন অন্যকে মারছেন কেন? ওর ফোন কেড়ে নিয়ে ফোনের দাম দিতে চাইছেন কেন?”

প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা দিতে থাকেন— তখন এমপি পুত্র সাবাব এগিয়ে এসে বলেন, ‘আমরা কোন লেভেল আর কোন সোসাইটি মেইনটেইন করি, তা তো জানেন। আপনারা চলে যান। ওর ফোনে ভিডিও আছে, তাই নিয়েছি। কত কোটি টাকা লাগবে বলেন, আপনাদের চেপে যেতে হবে।’

এরপর ন্যাম ভবন থেকে চলে আসেন বলে জানান ওই প্রত্যক্ষদর্শী। তবে মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান তিনি ও তার সঙ্গের ব্যক্তিরা। এরপর তারা কাফরুল থানায় গিয়ে সাক্ষ্যও দেন। এ সময় কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম শিকদার তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

তবে এ ব্যাপারে কাফরুল থানার ওসির মন্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মিরপুর বিভাগের পুলিশের উপকমিশনার মাসুদ আহমেদ সারাবাংলা’কে বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। গাড়িটি চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন তাদের সঙ্গে কথা বলে গাড়িটি থানায় নিয়ে আসা হবে। কে চালাচ্ছিলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

সারাবাংলা/ইউজে/একে

আরও পড়ুন

ধাক্কা দেওয়ার পর ব্যাক গিয়ারে সেলিমকে চাপা দেন এমপিপুত্র

এমপিপুত্রই চালাচ্ছিলেন গাড়ি, মায়ের দাবি- ছেলে ছিল নোয়াখালী
এমপিপুত্রই চালাচ্ছিলেন গাড়ি, মায়ের দাবি- ছেলে ছিল নোয়াখালী