সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৭ ফাল্গুন, ১৪২৪, ২ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯

Live Score

এলএনজি’র টাকা সংস্থানে প্রতিনিধি দল যাচ্ছে সৌদি

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮ | ৩:১১ অপরাহ্ণ

হাসান আজাদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা : লিক্যুফাইড ন্যাচারাল গ্যাস বা এলএনজি আমদানিতে এখনও অর্থের সংস্থান করতে পারেনি সরকার। অর্থ সংস্থান করতে চলতি মাসের ২৪ ফেব্রুয়ারি সৌদি যাচ্ছেন ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সফরকালে এই প্রতিনিধি দল ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) সহযোগি প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড এন্ড ফিন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং বাংলাদেশে এলএনজি আমদানিতে অর্থ সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করবেন। জ্বালানি বিভাগের উর্ব্ধতন এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এ প্রসঙ্গে সারাবাংলা’কে বলেন, এলএনজি আমদানির জন্য অর্থের জন্য আমরা বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশাকরি শিগগিরই অর্থের সংস্থান করা সম্ভব হবে।

জ্বালানি বিভাগের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, এলএনজি’র অর্থ সংস্থানের জন্য চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি জ্বালানি বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি অর্থ সংস্থানের পাশাপাশি এলএনজি আমদানির পর দেশিয় বাজারে গ্যাসের মুল্য সমন্বয়েরও কাজ করবে। এর আগে গত বছরের ১৮ অক্টোবর জ্বালানি উপদেষ্টার সভাপতিত্বে এলএনজি বিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এই কমিটি গঠন ছাড়াও আরও বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে ছিল এলএনজি খাতে অর্থ সংস্থানের জন্য এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) সহ অন্যান্য দাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা, দেশিয় প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থের সংস্থান, সরকারের অর্থ বিভাগ থেকে টাকার সংস্থান করার কথা বলা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড (ইইবিএল) ও দেশিয় প্রতিষ্ঠান সামিট কর্তৃক ফ্লোটিং স্টোরেজ এন্ড রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপন, এলএনজি আমদানি, টার্মিনাল পরিচালনা এবং কাফকো, সিউএফএল ও সাঙ্গু জেটিতে ছোট আকারে এলএনজি আমদানি ও রি-গ্যাসিফিকেশন করতে মোট খরচ হবে ১১ হাজার ৮৪২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

ওই কর্মকর্তা জানান, এই পরিমাণ টাকার জন্য অর্থ বিভাগ ও বিইআরসি গঠিত জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলের কাছে চিঠি দেয়া হয়। এর মধ্যে বিইআরসি গত বছরের ডিসেম্বরে এক চিঠিতে জানায়, এলএনজি খাতের অর্থ সংস্থানের বিষয়ে বিইআরসি জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল থেকে টাকা দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও পুরো টাকা দেয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় টাকার মধ্যে ছয় হাজার ৩৬০ কোট ৩২ লাখ টাকার সংস্থান তারা করতে পারবে। কারণ জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলে এর চেয়ে বেশি টাকা নেই। সেজন্য বিইআরসির পক্ষ থেকে বাকী টাকা সরকারের অর্থ বিভাগ থেকে নেয়ার কথা বলা হয়। এই টাকার পরিমাণ ৫ হাজার ৪৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা। এই টাকার বিষয়ে গত ৭ ডিসেম্বর অর্থ বিভাগে চিঠি দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত নিশ্চয়তা দিয়ে কোনো উত্তর দেয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, অর্থ বিভাগ থেকে বাকী টাকা প্রাপ্তির বিষয়ে কোন আশ্বাস না পাওয়ার কারণেই এখন আর্ন্তজাতিক দাতা সংস্থাগুলোর কাছে এই টাকা চাওয়া হচ্ছে।

এখানে উল্লেখ্য, সরকার গ্যাসের ঘাটতি পূরণের জন্য এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার ইতিমধ্যে বড় আকারে এলএনজি আমদানির দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর একটি করছে আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। অন্যটি শীর্ষস্থানীয় দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপ। প্রতিষ্ঠান দুটি দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সমপরিমাণ এলএনজি এনে তা পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরিত করে পাইপলাইনে সরবরাহ করবে। এর জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে তৈরি হচ্ছে ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট)।

এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে আগামী বছরের এপ্রিলে। সে অনুযায়ীই সব কাজ করছে কোম্পানীটি। এর পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে, অর্থাৎ আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে সরবরাহ শুরু হবে সামিটের ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন।

পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছর দেশে গ্যাসের দৈনিক সর্বোচ্চ চাহিদা হবে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশের ক্ষেত্রগুলো থেকে কম-বেশি ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। আর ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি হিসেবে আমদানি হবে। ফলে দেশের সর্বোচ্চ চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সামঞ্জস্য আসবে। এইভাবে সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যে দৈনিক ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সমপরিমাণ এলএনজি আমদানি করা।
এর অংশ হিসেবে ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ার লিমিটেড ২০১৯ সালের জুনে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুটের সমপরিমাণ এবং হংকং সাংহাই-মানজালা নামের একটি যৌথ উদ্যোগের কোম্পানি ২০২০ সালের মধ্যে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুটের সমপরিমাণ এলএনজি সরবরাহ শুরু করবে। ভারতের পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট এবং চীনের দুটি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে দৈনিক আরও ১০০ কোটি ঘনফুটের সমপরিমাণ এলএনজি আমদানির জন্য স্থলভিত্তিক অবকাঠামো তৈরির প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রামের সিইউএফএল ও কাফকো জেটি এবং পরিত্যাক্ত সাঙ্গু গ্যাস ক্ষেত্রে প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ছোট আকারে এলএনজি আমদানির উদ্যোগও নিয়েছে সরকার।

সারাবাংলা/এইচএ/জেএএম