মঙ্গলবার ২১ আগস্ট, ২০১৮, ৬ ভাদ্র, ১৪২৫, ৯ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

EID MUBARAK

কমলাপুরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই

আগস্ট ১০, ২০১৮ | ৪:১২ অপরাহ্ণ

।। মেসবাহ শিমুল, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: ঈদুল আযহা উপলক্ষে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুক্রবার দেওয়া হচ্ছে ১৯ আগস্টের অগ্রিম টিকিট। তবে সে টিকিট যেন সোনার হরিণ। যিনি পাচ্ছেন তিনি খুশিতে আত্মহারা। বাকিরা পাওয়া না পাওয়ার দোলাচলে অধীর অপেক্ষায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় পুরো কমলাপুর স্টেশনে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কি অগ্রিম, কি নিয়মিত। দুই দিকেই টিকেট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ সারি।

প্রতিদিনের ন্যায় সকাল ৮টায় ২৬টি কাউন্টার থেকে একযোগে টিকেট বিক্রি শুরু হয়। তবে সে টিকেট নিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে কমলাপুরে। সকাল নাগাদ সে ভিড় উপচে পড়ে স্টেশনের কাউন্টারের সামনে থেকে রাস্তায়। শুক্রবার চারটি স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৩৫টি ট্রেনের ২৬ হাজার টিকেট ছাড়া হয়। দুপুর একটার দিকে কাউন্টারের টিকেট বিক্রেতারা জানান, যাত্রীদের যে চাপ তাতে বিকেল ৫টার আগেই শেষ হয়ে যাবে সব টিকেট।

স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেছেন, ১৭ ও ১৮ তারিখের কোনো টিকেট নেই। ১৯ তারিখের টিকেটও আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। আগামীকাল ১১ আগস্ট দেওয়া হবে ২০ আগস্ট এবং পরদিন ১২ আগস্ট ২১ আগস্টের টিকেট দেওয়া হবে। শনিবার থেকে এ চাপ আরো বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।

উত্তরবঙ্গগামী দ্রুতযান ট্রেনের টিকিট নিতে বৃহস্পতিবার রাতেই কমলাপুরে আসেন সানোয়ার হোসেন। ঈদের আগে টিকেটের জন্যই একটি দিন অফিস থেকে ছুটি নিয়েছেন বলে জানান তিনি। সানোয়ার বলেন, প্রতিবছর ঈদেই ট্রেনে বাড়িতে যাওয়া হয়। এবার এর প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি। তার মতে, গত কয়েকদিনের আন্দোলনে সড়ক পথে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রভাব দূরপাল্লার যাত্রায়ও পড়তে পারে।

দুপুর ১২টার কিছু আগে হাতে টিকেট পাওয়া এ যাত্রী জানান, শেষ রাতে এখানে এসেছি। তখনই শতশত মানুষ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত টিকেট পেয়েছি এটাই খুশির ব্যাপার।

টিকেট নিতে আসা যাত্রীরা পুরো স্টেশন এলাকা সরগরম করে রেখেছেন। নিজেরা লাইন ধরে দাড়িয়ে অন্যদেরকেও লাইনে দাঁড়ানোর ব্যাপারে তদারকি করছেন। কখনো কখনো লাইন ভঙ্গের ঘটনায় একযোগে চিৎকার চেঁচামেচি উঠছে। টিকেট কাউন্টারগুলোর মধ্যে অযাচিত বিলম্ব কিংবা অন্য কোনো অসঙ্গতি চোখে পড়লেই একযোগে আওয়াজ তুলছেন তারা। সবমিলে স্টেশন এলাকা এখন পুরোপুরি কোলাহলপূর্ণ।

এবার মোট টিকেটের ২৫ ভাগ ছাড়া হচ্ছে অনলাইনে। অনেকে আগেভাগে অনলাইনে টিকেট কিনলেও দিন তারিখের সঙ্গে ছুটি মিলাতে না পেরে ফেরত দিতে কমলাপুরে আসছেন। রিফান্ড টিকেটের ৬ নম্বর কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায় একটি বড় অংশই বিভিন্ন দিনের টিকেট ফেরত দিতে আসছেন।

স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে এটি সমস্যার সৃষ্টি করছে। অনলাইনে টিকেট কিনে আবার ফেরত দেওয়াটা যাত্রী এবং কাউন্টারম্যানদের জন্যই বিড়ম্বনার।

এদিকে নরমাল টিকেট থাকলেও এসির টিকেট নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ বেশ জোরালো। তাদের অভিযোগ, এসি টিকেট মিলছেনা। টিকেট বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে এসি টিকেট। কর্তৃপক্ষ বলছে, তাপমাত্রা বেশি থাকায় এসি টিকেটের চাহিদা অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে বিক্রি শুরু পরপরই শেষ হয়ে যাচ্ছে কেবিনগুলোর টিকেট।

সরেজমিনে কমলপুরে গিয়ে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম কিংবা সিলেটের চেয়ে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোর টিকেট নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ দীর্ঘ সময় এবং সড়কের অবস্থা খারাপ ও দুর্ঘটনা প্রবণ হওয়ায় এ এলাকার মানুষের ট্রেনের প্রতি ঝোঁক বেশি।

বরাবরের মতো এবারও মোট টিকেটের ৫ শতাংশ ভিআইপি এবং ৫ শতাংশ রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। সংরক্ষিত এসব টিকেটের জন্য সকাল থেকেই স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তীর কক্ষে ভিড় দেখা গেছে।

এদিকে, ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হবে ঈদ ফেরত যাত্রীদের জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। ঈদ ফেরত অগ্রিম টিকেট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বিক্রি শুরু হবে। ফিরতি টিকেট ১৫ আগস্টে পাওয়া যাবে ২৪ আগস্টের টিকেট। একইভাবে ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ আগস্ট যথাক্রমে পাওয়া যাবে ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ আগস্টের টিকেট। টিকেট বিক্রি শুরু হবে সকাল ৮টায়।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, প্রতিবারের মতো এবারও যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সকল প্রকার ছুটি বাতিল করা হবে। ২১ ও ২২ আগস্ট মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং ২৩ আগস্টে বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচল করবে না। একজন যাত্রীকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪ টি টিকেট দেয়া হবে এবং বিক্রিত টিকেট ফেরত নেয়া হবে না। এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার ৫ দিন আগে ১৮ আগস্ট থেকে ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেন সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও চলাচল করবে বলে জানা গেছে।

সারাবাংলা/এমএস/এএস

কমলাপুরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই
কমলাপুরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই