শুক্রবার ২৭ এপ্রিল, ২০১৮ , ১৪ বৈশাখ, ১৪২৫, ৯ শাবান, ১৪৩৯

কোনো বিতর্কে যেতে চান না খালেদ মাহমুদ

জানুয়ারি ১৪, ২০১৮ | ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

কাগজে কলমে তিনি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, অন্তত এই সিরিজের জন্য তার আনুষ্ঠানিক পদবী এটিই। তবে বাস্তবে খালেদ মাহমুদ সুজন ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের অঘোষিত কোচের দায়িত্বই পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বোর্ডের পরিচালকসহ আরও বেশ কিছু দায়িত্বও পালন করছেন। এ নিয়ে প্রচ্ছন্ন কানাঘুষাও আছে। তবে খালেদ মাহমুদ সুজন আপাতত এসব খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না। বরং নিজের কাজটাই ঠিকঠাক করতে চান।

চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর মাহমুদকে অন্তবর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, আভাস দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। পরে অবশ্য সেটি আর করা হয়নি, বরং মাশরাফি-সাকিবকেই নিজের কোচ বলে জানিয়ে দিয়েছেন। দলে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন আছে, সেই প্রশ্নও আজ সংবাদ সম্মেলনে উঠল। তবে খালেদ মাহমুদ দাবি করলেন, অধিনায়কের কাজ নেওয়ার চেয়ে এই কাজটা তার জন্য তুলনামূলক সহজ।

তিনি জানালেন, ‘২০০৩ সালে আমি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম, ওই সময়টা খুব কঠিন ছিলো। তখন দলটাকে এক করার একটা কাজ ছিলো আমার। দায়িত্বটা অনেক বেশি ছিলো আমার। সে তুলনায় এখন কাজটা অনেক সহজ।’

মাহমুদের দাবি, বিপিএলের অভিজ্ঞতার পর এখন তিনি অনেক বেশি পরিণত, ‘এখন আমি অভিজ্ঞ। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমার অভিজ্ঞতা কম। কিন্তু গত তিন চারটা বিপিএলে কাজ করে, চাপ নেয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি মনে করি জাতীয় দলের চেয়ে বিপিএলে চাপ বেশি থাকে। ’

এই দলের অনেকের সঙ্গেই ক্লাব পর্যায় থেকে কাজ করেছেন। সেটিও তাকে এগিয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস মাহমুদের, ‘ক্রিকেটার যারা আছে, তারা ছোট থাকতেই তাদের সঙ্গে কাজ করেছি। সুতরাং এই কাজটা আমার জন্য সহজ। আমি জানি না, আসলে কতোটা কী করতে পেরেছি। বেশি কিছু অবশ্য করারও ছিলো না। সিনিয়রদের সাথে বেশি কাজ করিনি। কারণ তারা তাদের কাজটা খুব ভালো জানে। কিন্তু তরুণ যারা আছে, তারা যদি পারফর্ম করা শুরু করে, আমি মনে করি আমাদের দলটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।’

কিন্তু সমালোচনা তো থেমে থাকে না তারপরও। একসঙ্গে বেশ কয়েকটি দায়িত্ব নেওয়ার অভিজ্ঞতাও কি একটু পীড়া দেয় না? মাহমুদের আত্মপক্ষ সমর্থন, ‘আমি বোর্ড রুমে ঢুকি, তখন আমি বোর্ড ডিরেক্টর থাকি। আমাকে অন্য যে দায়িত্ব দেয়া হয়, আমি তা চেষ্টা করি ভালোভাবে করতে। পারি বা না পারি, সফল হই বা না হই, সেটা অন্য ব্যাপার। আমি কোনো বিতর্কে যেতে চাই না।’

কোচ হিসেবে নিজের যোগ্যতা নিয়েও ব্যাখ্যা দিলেন, ‘আমি মনে করি কোচিং আমার পেশা। আমি এটা উপভোগ করি। ২০০৬ সালে খেলা ছাড়ার চার মাস পর থেকেই আমি কোচিং শুরু করি। অনূর্ধ্ব-১৩ পর্যায় থেকে সব পর্যায়েই আমি কোচিং করিয়েছি। সুতরাং আমার কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা নেই, ব্যাপারটা তা নয়। কিন্তু আমি ভালো কোচ নাকি খারাপ, তা মানুষ বলবে। আমি যখন ৮৩ বা ৮৪-এর দিকে ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন থেকে একটা দিনের জন্যও আমি ক্রিকেটের বাইরে থাকিনি। ক্রিকেটই আমার সব কিছু। ক্রিকেটই আমার জীবিকা। ক্রিকেট ছাড়া আসলে নিঃশ্বাস নেয়াই কঠিন।’

এই সিরিজ মাহমুদের জন্য মুক্তভাবে নিঃশ্বাস নেওয়ার আরেকটি পরীক্ষাও বটে।

সারাবাংলা/এএম

আরও পড়ুন