মঙ্গলবার ১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং , ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

ক্ষুদ্র খামারি ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রকল্প অনুমোদন

নভেম্বর ৭, ২০১৮ | ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

।। স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা: ক্ষুদ্র খামারি ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পষিদের নির্বাহী কমিটি- একনেক। প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন নামের প্রকল্পটিতে খরচ ধরা হয়েছে, সরকারি তহবিল থেকে ৩৯৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা থেকে ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

বুধবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।

প্রকল্পটি সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট প্রাণীসম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও ভ্যালু-চেইন পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র খামারি ও কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎপাদনশীলতা, বাজার অংশীদারিত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সুষম খাদ্য এবং উন্নত স্বাস্থ্য ও প্রজনন সেবা দেয়ার মাধ্যমে পারিবারিক পর্যায়ে গবাদি পশুর স্বতন্ত্র উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ৫ হাজার ৫০০ উৎপাদক সংগঠনকে প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের সাথে সংযুক্ত করার মাধ্যমে ভ্যালু চেইন এবং মার্কেট লিংকেজ উন্নয়ন, নিরাপদ প্রাণিজ উৎপাদন ব্যবস্থা এবং মান নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রবর্তন, টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশ বান্ধব প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন, জ্ঞান প্লাটফর্ম এবং প্রাণিসম্পদ বীমা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরো জানান, এখন থেকে জমি বাঁচাতে জেলা পর্যায়ে সব সরকারি অফিসকে এক জায়গায় অর্থ্যাৎ একটি বড় বিল্ডিং এ নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া নেত্রকোণার শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত খেলার মাঠ রাখা এবং হাওর কেন্দ্রীক ব্যাপক গবেষণা করতে হবে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীকে দূষণমুক্ত রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস তৈরির সময় এগুলো যাতে দুর্যোগে সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করা যায় সেজন্য তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়নসহ ২৮ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ২৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২৪ হাজার ৮৫৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫৩৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪ হাজার ৮৪০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়:নিস্কাশন স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশন কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৪৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৫৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। চা বাগান কর্মীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সিলেট ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩০৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৪৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। বিনিয়োগ বোর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৯৮ কোটি টাকা। ১১টি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। মাদারিপুর সরকারি অফিসসমূহের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা। শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় নেত্রকোনা স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। নির্বাচিত ৯টি সরকারি কলেজের উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়, সদর গোপালগঞ্জ ও শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় সূত্রাপুর ঢাকা এর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম খুলনা রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। শহীদ কামরুজ্জামান টেক্সটাইল ইনিসটিটিউট স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ভোলা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। র‌্যাব ফোর্সেস এ অভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বিনির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৬২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ডিপিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। সোনাগাজী ৫০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৪৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ বিশেষ ধরনের নির্মাণ ও স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৬২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। বৃহত্তর রাজশাহী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬২৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বৃহত্তর নোয়াখালী পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৪০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। পানিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বাঙ্গালী-করতোয়া ফুলজোর-হুরাসাগর নদী সিস্টেম ড্রেজিং পুন:খনন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ৬৪টি জেলার অভ্যন্তর ছোট নদী খাল এবং জলাশয় পুন:খনন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৭৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ইমারজেন্সি মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপনস প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৩৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

সারাবাংলা/জেজে/জেএএম

Tags: , ,

ক্ষুদ্র খামারি ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রকল্প অনুমোদন
ক্ষুদ্র খামারি ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রকল্প অনুমোদন
ক্ষুদ্র খামারি ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রকল্প অনুমোদন