মঙ্গলবার ২১ আগস্ট, ২০১৮, ৬ ভাদ্র, ১৪২৫, ৮ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

খুলনার পর গাজীপুর: বিএনপির জন্য লড়াইটা কঠিন হয়ে গেল

মে ১৬, ২০১৮ | ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

মোস্তফা ফিরোজ ।।

খুলনা সিটি নির্বাচনে বিএনপি হারার পর এখন তারা গাজীপুর নিয়ে শঙ্কায় পড়বে। অথচ ১৫ মে খুলনার সাথে যখন একই দিনে গাজীপুর সিটির নির্বাচন হবার কথা ছিল তখন অনেকেই বলছিলেন আসন দুটি দুই দলের মধ্যে ভাগাভাগি হতে পারে। সেখানে মতামত ছিল গাজীপুরে বিএনপি যাবে, আর খুলনা যাবে আওয়ামী লীগের হাতে। কিন্তু এখন সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেল। রাজনীতির লাটাই এখন সরকারের হাতে।

এখন রাজনীতির হিসেব বলে খুলনা নির্বাচনে ফলাফলের প্রভাব পড়বে গাজীপুরে। এই আসনে যদি ১৫ মে খুলনার মতো একই দিনে হতো তাহলে হয়তো বিএনপি সহজেই জিতে যেতো। এমনটাই জল্পনা-কল্পনা চলছিল। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখন নির্বাচনের হাওয়া উল্টো দিকে বইতে পারে বলেই পূর্বভাস পাওয়া যাচ্ছে। তার মানে খুলনায় আওয়ামী লীগের বিজয়ের ধাক্কা পড়বে গাজীপুরেও। খুলনায় ব্যাপকভাবে পরাজয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই আগের মতো উৎসাহ উদ্দীপনায় ভাটা পড়বে বিএনপির। হতাশ মনোবল নিয়ে গাজীপুরে নির্বাচনী মাঠ কতোখানি নিয়ন্ত্রনে আনা যাবে এখন তা নিয়ে যে গবেষনা শুরু হবে তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে, খুলনায় বিজয়ের পর এখন গাজীপুরের আসনটিও পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার পক্ষ মরিয়া হয়ে উঠবে। নারায়নগঞ্জের পর কুমিল্লা ও রংপুরের দুটি নির্বাচন হলেও সেখানে শাসক দলকে অন্যপক্ষের জয় দেখতে হয়েছে। নিজেরা জয়ী হয়নি।

সামনে জাতীয় নির্বাচন। এটা বড় চ্যালেঞ্জ। তার আগে খুলনা ও গাজীপুর নির্বাচন। খুলনায় পাস। এখন বিজয় অভিযান চলবে গাজীপুরে। এমনটাই শাসক দল চাইবে। এবার আরো বেশি চাওয়ার একটি কারণও আছে। ২০১৪ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যে পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন হয়েছিল তার প্রত্যেকটিতে হেরে ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে পরাজিত হয়ে শাসক দল বড় রকমের আস্থা ও গ্রহনযোগ্যতার ঝুঁকিতে পড়ে গিয়েছিলো। এর মধ্যে সব শেষ নির্বাচনটি হয়েছিল গাজীপুরে যেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমতউল্লাহ লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী এম এ মান্নানের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এই পরাজয়ে পর দেশব্যাপি এমন একটা আবহ তৈরি হয়েছিল যেখানে ধরে নেয়া হয়েছিল যে শাসক আওয়ামী লীগ সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র। অর্থাৎ গাজীপুর সহ পাঁচটি সিটিতে হারের প্রভাবে সামনের জাতীয় নির্বাচনেও ভরাডুবি হতে যাচ্ছে শাসক দলের। বিএনপি জোটের মনোবলও তুঙ্গে উঠে গিয়েছিল। হয়তো তার প্রভাবেই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যে সহিংসতা হয়েছিল তার মাত্রা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সেসব বিবেচনায় এবার আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে খুলনা সিটির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় সরকারকে গতবারের তুলনায় অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে। আর এই জয়ে উজ্জীবিত হয়ে এখন মরন কামড় দেবে সরকার, যাতে গাজীপুরে আবার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়।

খুলনা নির্বাচনে হতাশ হতোদ্যম বিএনপিকে পরাজিত করা এটাই মোক্ষম সুযোগ। গাজীপুরের পর আর যদি অন্যকোন সিটিতে নির্বাচন নাও হয় তাহলেও এই সিটিতে জয় তুলতে পারলে সেটা সঙ্গী করে জাতীয় নির্বাচন পাড়ি দেওয়াটা শাসক দলের জন্য অনেক সহজ হবে বলেই ধারণা করা যায়। খুলনা নির্বাচনে ভোটের আগে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। কিন্তু ভোটের দিন তেমন কোন বেগ পেতে হয়নি। ফলে, নির্বাচনে ক্রটি বিচ্যুতি হলেও এটা ব্যাপক জাল জালিয়াতি হয়েছে সেটা প্রমাণিত হয়নি। ফলে, এই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা গাজীপুরে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে শাসক দল। আর আগে একই দিনে দুটি সিটি নির্বাচন হবার তারিখ ছিল। প্রশাসনকে দুটি সিটি সামলাতে হচ্ছিল। কিন্তু মামলার কারনে গাজীপুর স্থগিত হওয়ায় প্রশাসন সব মনোযোগ দিয়েছিল খুলনায়। এতে বিএনপি চাপে পড়ে গিয়েছিল। এখনও সেই অবস্থার ভিতরে পড়লো বিএনপি। সামনে ২৬ জুন কেবলই গাজীপুর নির্বাচন হওয়ায় প্রশাসন তার সব নজর ও শক্তি কেন্দ্রীভূত করবে গাজীপুরে। এই অবস্থা মোকাবেলা করা বিএনপির জন্য অনেকটাই প্রতিকূল হয়ে যাবে। আবার গাজীপুরে নির্বাচনটাও হচ্ছে ঈদের পর পরই। ঈদের ছুটির রেশ কাটতে না কাটতেই অনেকটা ফাঁকা মাঠে নির্বাচনটা হয়ে যাবে। ওই ফাঁকা মাঠ বিএনপিকে স্বস্তি দেবে না। ফলে, খুলনায় হেরে গিয়ে বিএনপি ব্যাকফুটে চলে যাওয়াতে গাজীপুর সিটি এখন অনূকুলে আনা অনেক কঠিন হয়ে গেল।

মোস্তফা ফিরোজ : বার্তা প্রধান, বাংলাভিশন।

[মত-দ্বিমতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব]

খুলনার পর গাজীপুর: বিএনপির জন্য লড়াইটা কঠিন হয়ে গেল
খুলনার পর গাজীপুর: বিএনপির জন্য লড়াইটা কঠিন হয়ে গেল