শনিবার ২০ জানুয়ারি, ২০১৮, ৭ মাঘ, ১৪২৪, ২ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

Live Score

খোলা জায়গায় মলত্যাগ কমছে, তবে এখনো ৪৩ লাখ

জানুয়ারি ১১, ২০১৮ | ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগকারী মানুষের সংখ্যা আবার কমতে শুরু করেছে। এক বছরে এই সংখ্যা ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

তবে, সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও দেশে এখনো খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগ (পায়খানা) করছে অন্তত ৪৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ। যা মোট জনসংখ্যার (প্রায় ১৬ কোটি) ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ২ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায় যা ২০১৫ সালে ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে এর আগে ২০১৪ সালে দেশে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ১ শতাংশ নেমে গিয়েছিলো খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগকারীর সংখ্যা।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে দেশে স্যানিটারি পায়খানা ব্যবহারের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১৬ সালে এ হার দাঁড়িয়েছে ৭৫ শতাংশে। যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘বাংলাদেশ সাম্পল ভাইটাল স্টাটিসটিকস-২০১৬’ জরিপের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ চিত্র।

প্রতিবেদন প্রসঙ্গে জরিপ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক সারাবাংলাকে বলেন, বাংলাদেশ পরিংখ্যান ব্যুরো ১৯৮০ সাল থেকে দ্বৈত পদ্ধতিতে জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে ছাড়াও সামাজিক নানা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে আসছে। এরই মধ্যে টয়লেট সুবিধা ভোগ করার অংশটিও রয়েছে। যাতে উপরোক্ত তথ্য পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে নমুনায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এনেছে বিবিএস। যাতে প্রাপ্ত ফলাফলেও আসছে অনেক বেশি শুদ্ধতা, জানান এই পরিসংখ্যানবিদ।

তিনি জানান, প্রথম দিকে মাত্র ১০৩টি নমুনা এলাকা ( যেসব এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়) নিয়ে জরিপ চালানো হতো। ১৯৮৩ সালে নমুনা এলাকার সংখ্যা বাড়িয়ে ২১০টি করা হয়। যা ২০১৬ সালে ২ হাজার ১২টিতে উন্নীত করা হয়েছে।

আশরাফুল হক বলেন, নমুনা এলাকা কম থাকায় এ কার্যক্রমের আওতায় সংগ্রহীত তথ্য জেলা পর্যায়ে পুরোপুরি নিরুপণ করা সম্ভব হতো না। নতুন জরিপে ২ হাজার ১২টি নমুনা এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই বলা যায় এখন প্রতিবেদনটি অনেক বেশি নির্ভরশীল ও সঠিক।

অন্যদিকে স্যানিটারি পায়খানা (উন্নত পায়খানা) ব্যবহারকারীর হার বেড়েছে। ২০১৬ সালে এ হার দাঁড়িয়েছে ৭৫ শতাংশে। অর্থাৎ দেশে প্রতি ১’শ জন মানুষের মধ্যে ৭৫ জনই স্যানিটারি পায়খানা ব্যবহার করছেন। ২০১৫ সালে এ হার ছিল ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০১২ সালে এ হার ছিল ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আধা-পাকা, কাচা ও ঝুঁপরি পায়খানা বা গর্ত ইত্যাদি পায়খানা ব্যবহার করার হারও দিনে দিনে কমছে। ২০১৬ সালে এ ধরনের পায়খানা ব্যবহারের হার দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশে। যা ২০১৫ সালে ছিল ২৩ দশমিক ২ শতাংশ, ২০১৪ সালে ছিল ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০১৩ সালে ছিল ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০১২ সালে ছিল ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

সারাবাংলা/জেজে/এমএম