শনিবার ২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

গরমের স্বস্তি শরবতে

আগস্ট ১০, ২০১৮ | ৭:১৪ অপরাহ্ণ

।। মাকসুদা আজীজ, অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর।।

শ্রবণ মাস। কই একটু বৃষ্টি হবে, গায়ে চাদর টেনে আরাম করে গরম চা আর খিচুড়ি খাওয়া যাবে তা না, গরমে জীবন বের হওয়ার জোগাড়। বৃষ্টি নেই, তবে এক গাদা মেঘ এসে বাড়িয়ে দিয়েছে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা। প্রতিটি রোমগ্রন্থি ফেটে বের হচ্ছে ঘাম।

গরম, ঘামের এমন দিনে প্রাণ বাঁচাতে পারে একমাত্র ঠাণ্ডা একগ্লাস শরবত। সেই শরবতের খোঁজে তৃষ্ণার্ত নগরবাসী পথমধ্যে খুঁজে নিচ্ছে জলের উৎস। রকমারি জলযোগ নিয়ে পথে পথে বসেছে মৌসুমি ফেরিওয়ালারা। ফুটপাথে ফুটপাথে ঠেলার গাড়িতে লেবু আর পানি নিয়ে হাজির তারা।

এর চেয়ে একটু ভালো যাদের সামাজিক অবস্থা, তারা জড়ো হচ্ছেন একটু মার্কেটের ভিতরে শরবতের দোকানের দিকে ঝুঁকছেন। বাহারি নামও আছে তাদের অমুক জুস কর্নার, তমুক জুস বার।

এমন এক জুসের দোকান ছায়েদ পলাশী জুস কর্নার। রাজধীন পলাশীর মোড়ে কাঁচাবাজার ঘেঁষে এই জুস কর্নার, সিড়ির নিচে ছোট্ট দোকান। দুপুর ১২টা, তিল ধরানোর জায়গা নেই দোকানের সামনে। ছয়টি ব্লেন্ডার সমান তালে চলছে। কোনোটায় কাঁচা আমের শরবত তো কোনোটায় পাকা। কলা, জাম, লাচ্ছি সব মিলে জমজমাট দোকান।

তিনজন কর্মচারী নিরলস কাজ করছেন দোকানে একজনের কাজ শুধুমাত্র গ্লাস পাতা যেন পরের জন শরবত ঢালতে পারে। দোকানের মালিক রবিন জানান, গরমে ক্রেতাদের চাপ অনেক বেশি। দিনে ৯০০ থেকে হাজার গ্লাস শরবতও যাচ্ছে।

ক্রেতার চাপে কথা আগায় না রবিনের সঙ্গে। দোকানে ক্রেতারা অপেক্ষা করছেন। এমনই একজন ক্রেতা মুনির। এসেছেন আজিমপুর থেকে। জানালেন, সপ্তাহিক কাঁচা বাজার করতে এসেছিলেন, ক্লান্তি লাগায় একগ্লাস শরবত খেয়ে নিচ্ছেন।

স্বপ্তর্ষী ও পায়েল এসেছিলেন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। ফিরতি পথে ভিজিয়ে নিচ্ছেন গলা।

নগরবাসীর গরমে এরকম গলা ভিজিয়ে নেওয়া সমর্থন করছেন চিকিৎসকরাও। বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের চিকিৎসক ড. ইকবাল হোসেন বলেন, তীব্র আর্দ্রতা ও তাপে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ বের হয়ে যায়। এর ফলে শরীরের গ্লুকোজ ঘাটতি হয় এবং সান স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এমন সময় শরবত পানি এবং গ্লুকোজ যোগান দেয় যা শরীরকে দ্রুত চাঙ্গা করে। তবে গরম থেকে বের হয়েই বরফ শীতল শরবত না খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এতে সর্দি লেগে যেতে পারে। ড. ইকবাল বলেন, শরীরের সঙ্গে মানানসই তাপমাত্রার জলীয় পদার্থ খেলে সর্দি লাগার সম্ভাবনা কমে আসে।

এ ছাড়াও শরবতের পানি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন এ চিকিৎসক। বলেন, বর্ষায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেশি থাকে তাই পানি বিশুদ্ধ না থাকলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি থাকে।

সারাবাংলা/এমএ/এমআই

Tags: ,

গরমের স্বস্তি শরবতে
গরমের স্বস্তি শরবতে