রবিবার ১৯ আগস্ট, ২০১৮, ৪ ভাদ্র, ১৪২৫, ৭ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

গুলশান-বনানীতে হচ্ছে আরেক ‘হাতিরঝিল’

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ | ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

মেসবাহ শিমুল, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্পের মতো এবার গুলশান-বনানী-বারিধারার লেকগুলোও হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন। কেবল তাই নয়, নগরীর পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি বহুমুখি ব্যবহারে আসছে এ লেকগুলো। বিশাল এ এলাকায় পুরোদমে কাজ চলছে রাতদিন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে এটি হবে রাজধানীবাসীর জন্য আরেকটি উপহার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলশান ও বনানীকে আলাদা করেছে যে লেক এতোদিন  সেগুলো ছিলো মজা, দুর্গন্ধময়। কোথাও কোথাও অবৈধ দখলেও গিয়েছিলো প্রভাবশালীদের। কিন্তু রাজউকের ‘গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় সেগুলোর সংস্কার কাজ চলছে। ভরাট হয়ে যাওয়া লেকগুলো থেকে মাটি তোলা হচ্ছে। মাঝখানে বাঁধ দিয়ে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে করা হচ্ছে বিশাল এ কর্মযজ্ঞ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্রমাগত উন্নয়নের ফলে রাজধানীতে উঠছে সুউচ্চ ভবন। খুব দ্রুতই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকা ডোবা, ঝিল কিংবা খালি যায়গা। ফলে বৃষ্টির দিনে শহরে যেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি গুলশান-বনানী এলাকার বিশাল এলাকা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পড়ে আছে অব্যবহৃত। অথচ পরিকল্পনা মতো এর ব্যবহার করা গেলে একদিকে যেমন জলাধারের সমস্যা মিটবে তেমনি ভূমিকা রাখবে যানজট নিরসন ও নগরবাসীর বিনোদন পিপাসা মেটাতেও।

এসব বিবেচনায় ২০১৫ সালে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

সোমবার দুপুরে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গুলশান-১ নম্বর পাশে ওপারে কড়াইল বস্তি। এর মাঝখানের লেকের একটি অংশ এরইমধ্যে খনন কাজ শেষ করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিডিএল-আরসিসিএল।

কোম্পানির সাইট অফিসে দায়িত্বরত তানজিল আহমেদ জানালেন, পুরো প্রকল্প রাজউকের তত্ত্বাবধানে চলছে। মোট আটটি কোম্পানি পুরো কাজ বাস্তবায়ন করবে। এরইমধ্যে খনন কাজ অনেক এগিয়েছে। লেকের পাড়ে যে মাটি রাখা হয়েছে সেগুলো শুকিয়ে ওয়াকওয়ে বানানো হবে। আর বর্ধিত মাটি রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় রাতের বেলা ফেলে আসা হচ্ছে। সব মিলে বলা যায়, রাজউকের চাহিদামতো কাজ করছি আমরা।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় এ  এলাকার তিনটি লেক খনন করা হবে। লেকের পাড় দিয়ে থাকছে একমুখি সড়ক ও ফুটপাত। সেই সঙ্গে থাকবে আলাদা দুটি সড়ক এবং ৯টি ব্রিজ। ৪১০ কোটি টাকার এ প্রকল্পে লেক খননের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩১৪ কোটি টাকা। বাকি টাকায় ব্যয় হবে সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণকাজে।

তিনি জানান, তিনটি লেকের প্রথমটি নিকেতনের পুলিশ কনভেনশন সেন্টারের পেছন থেকে শুরু হয়ে বাড্ডা, শাহজাদপুর দিয়ে বারিধারায় অবস্থিত ইউনাইটেড হাসপাতাল পর্যন্ত। লেকের দ্বিতীয় শাখাটি নিকেতন থেকে শুরু করে গুলশান, গাউসুল আজম মসজিদের পাশ ঘেঁষে বনানী কবরস্থান পর্যন্ত। আর তৃতীয় শাখা নিকেতন থেকে শুরু করে গুলশান, কড়াইল বস্তির ভেতর দিয়ে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি পর্যন্ত।

এ বিষয়ে প্রকল্পের সাইট অফিসের তত্ত্ববধায়ক তানজিল আহমেদ জানান, নিকেতন থেকে বনানী কবরস্থান পর্যন্ত দ্বিতীয় লেকটির কাজ বর্তমানে চলছে এখন। এর আগে কাকলী থেকে গুলশান-২ নম্বর যাওয়ার পথের ব্রিজ এলাকার একটি অংশের কাজ শেষ হয়েছে।

তিনি জানান, এই প্রকল্পের দুটি রাস্তার একটি হচ্ছে শুটিং ক্লাবের পেছন থেকে শুরু করে মরিয়ম টাওয়ার দিয়ে ভারতীয় দূতাবাস পর্যন্ত । সেখানে এখন রাস্তার কাজ চলছে। দ্বিতীয় সড়কটি গুলশান-১ থেকে শুরু করে কড়াইল বস্তি হয়ে বনানী ১১ নম্বর পর্যন্ত করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম সুমন জানান, ওয়াসার লাইনগুলো লেকের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় লেকের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এ প্রকল্পে আমরা ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। ওয়াসার স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্পে সুয়ারেজের আলাদা প্লান্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা, কারওয়ান বাজার, রামপুরা, হাতিরঝিল এলাকাজুড়ে নেয়া এই প্রকল্পের লাইনের কাজ যখন শেষ হবে তখন আর সুয়ারেজ বাইরে ফেলার প্রয়োজন পড়বে না। উপরন্তু বৃষ্টির পানি এ লেকগুলোয় সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা থাকায় সারা বছরই জলযান থাকবে লেকে। গণপরিবহন হিসেবে তা নগরবাসীর যাতায়াতকে সহজ করবে বলে জানান সুমন।

জানা গেছে, রাজউক এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও এর ব্যবস্থাপনা থাকবে এ এলাকার বিভিন্ন সোসাইটির। সেক্ষেত্রে গুলশান সোসাইটি, বনানী সোসাইটি, নিকেতন সোসাইটির সঙ্গে চুক্তি করবে রাজউক। সোসাইটিগুলো নিজেদের দায়িত্বে নিরাপত্তা প্রহরী রাখবে, প্রতিদিন ঝাড়ু দেয়ার ব্যবস্থা করবে। এখান থেকে বিভিন্ন খাতে যে আয় আসবে তা দিয়েই ব্যয় সংকুলান করা যাবে বলে জানান রাজউক কর্মকর্তারা।

সারাবাংলা/এমএস/একে

 

গুলশান-বনানীতে হচ্ছে আরেক ‘হাতিরঝিল’
গুলশান-বনানীতে হচ্ছে আরেক ‘হাতিরঝিল’