শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, ৬ মাঘ, ১৪২৪, ১ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

Live Score

গ্যাসের পাইপলাইন নির্মাণে দেরি, মন্ত্রণালয়ের ক্ষোভ

জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ | ৫:১৩ অপরাহ্ণ

হাসান আজাদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ধনুয়া-এলেঙ্গা এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ের নলকা পর্যন্ত গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণে দেরি হচ্ছে। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে তিন বছরে বাস্তব কাজ হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশের মতো। এদিকে প্রকল্প শেষ হবার কথা ২০১৯ সালের জুন মাসে।

নির্দিষ্ট সময়ে গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে জ্বালানি ও খনজি সম্পদ বিভাগ। সম্প্রতি প্রকল্প পরিচালকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই ক্ষোভ জানানো হয়। একইসঙ্গে কেনো নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন হয়নি সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। চিঠিতে পাইপলাইন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত প্রকল্প পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ প্রসঙ্গে সারাবাংলাকে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প শেষ করার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। পাইপলাইন প্রকল্পটি কেন নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়নি তা কর্মকর্তাদের জানাতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের যোগ্যতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী জানান, কোন কর্মকর্তার  দক্ষতা না থাকলে তার বদলে যোগ্য কর্মকর্তা সেখানে আসবেন। এ বিষয়টিও আমরা দেখছি।

জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এই প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ জানতে গত জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে জ্বালানি বিভাগ থেকে ‘ধনুয়া-এলেঙ্গা এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড় নলকা পর্যন্ত গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ’ প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে চিঠি দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা হচ্ছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।

প্রকল্প পরিচালককে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পটি মোট ৯ শ ৭৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুনে কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ তিন বছর অতিবাহিত হলেও বাস্তবে অগ্রগতি মাত্র ২৫ দশমকি ৫ শতাংশ।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গ্যাস সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের অধীনে ৬টি নদী ক্রসিং এবং একটি সিটি গেইট স্টেশন করা হবে।

এর মাধ্যমে দেশের পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে গ্যাসের স্বল্পতা থাকলেও চলতি বছর থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হলে গ্যাসের সংকট থাকবে না। এই অবস্থায় প্রকল্পটি জরুরি ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে হবে। কিন্তু যে গতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তাতে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা কঠিন হবে।

একটি প্রকল্প শেষ করা ওই প্রকল্প পরিচালকের যোগ্যতা ও দক্ষতার উপর নির্ভর করে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, সময়মতো প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের নীতি নির্ধারণে নানা প্রশ্ন ও বিব্রতকর পরস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই অবস্থায় প্রকল্প বাস্তবায়নে কি ধরণের সমস্যা হচ্ছে তা জানানোর জন্য প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে জ্বালানি বিভাগে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়।

সারাবাংলা/এনএস/জেডএফ