রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৬ ফাল্গুন, ১৪২৪, ১ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯

Live Score

‘চরিত্রের মধ্যে নিজেকে দেখতে পাই’

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮ | ৭:০২ অপরাহ্ণ

কলকাতার জনপ্রিয় পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। তার প্রযোজিত প্রথম সিনেমা ‘নূর জাহান’ ১৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। সিনেমার প্রচারণায় অংশ নিতে সম্প্রতি এসেছিলেন ঢাকায়। প্রচারণার বিভিন্ন কাজের ফাঁকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতীক আকবর।


‘চিরদিনই তুমি যে আমার’- তরুণ তরুণীর অদম্য এক ভালোবাসার গল্প। নিজের প্রথম সিনেমাতেই কেন এত স্পর্ধা পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর? মফস্বলের হাওয়াটাই হয়ত তুখোর করে তুলেছে তাকে। কলকাতার হালিশহর এলাকার বিভিন্ন ঘটনা, দৃশ্য রাজকে এত সাহস দিলো কল্পনা করতে, অন্যভাবে!

মফস্বলে অনেক বাধা পেরিয়ে যেমন প্রস্তুত করতে হয় নিজেকে, আদায় করে নিতে হয় নিজের চাওয়া-পাওয়া। ‘প্রেম আমার’, ‘পারবো না আমি ছাড়তে তোকে’, ‘বরবাদ’ সিনেমাগুলোতে সেই ছোঁয়াই দিলেন রাজ।

এই সাহস দেখাতে নিজের পা দুটো শক্ত করেছেন কিন্তু থিয়েটারে, ছোটবেলায়। তখন রাজ চক্রবর্তী অভিনেতা। মঞ্চের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছুটছেন নির্দেশকের আদেশে। কিছুদিনেই বুঝে গেলেন সব কাজের কাজী ওই একজনই, নির্দেশক বা পরিচালক। আর তখন থেকে অভিনয়ের ইচ্ছাটা গোত্তা খেয়ে চলে গেলো পরিচালনার পথে। চেয়েছিলেন এমনটাই, দৃশ্যগুলো নিজের মতো করে দেখতে।

‘আমি এমনটাই চেয়েছিলাম। এটা এমন হলে কেমন হতো? সারাক্ষণ এমন মনে হতো আমার। তাই আমি ধীরে ধীরে টেলিভিশনের দিকে ঝুকি।’

কলকাতার টিভি চ্যানেলের জন্য অসংখ্য টেলিফিল্ম নির্মাণ করেছেন রাজ চক্রবর্তী। টিভি সিরিয়ালও বানিয়েছেন প্রচুর। করেছেন অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও পরিচালনা। যার মধ্যে মিরাক্কেল, ডান্স বাংলা ডান্স অন্যতম। অনুষ্ঠানগুলোতে এদেশের প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

২০০৮ সালে রাজ তার প্রথম সিনেমা ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ নির্মাণের পর থেকে নিয়মিত হন চলচ্চিত্রে। তুমুল নাচ গান ওয়ালা চলচ্চিত্র পছন্দ রাজের। তবে ক্যারিয়ারে প্রথম দিকে এই তুমুল নাচ-গানওয়ালা চলচ্চিত্রের ধারণাটাই পছন্দ হয়নি অনেক প্রযোজকের। নবীন পরিচালক রাজ তখন স্বপ্ন দেখেছিলেন কখনো সুযোগ হলে করবেন প্রযোজনা। সেখানে সুযোগ দিবেন নবীন পরিচালকদের। এখন রাজ অনেক জনপ্রিয়, তাই শুরু করে দিয়েছেন প্রযোজনা। ‘রাজ চক্রবর্তী প্রোডাকশন’ হাউজের ব্যানারে প্রথম প্রযোজিত সিনেমা ‘নূর জাহান’।

জনপ্রিয়তা সহজে আসেনি রাজের কাছে। পরীক্ষা দিয়েছেন নিয়মিত। তুমুল নাচ-গান আর ধুন্দুমার অ্যাকশন রেখে নির্মাণ করেছেন ‘কাঠমান্ডু’, ‘প্রলয়’, ‘দুই পৃথিবী’-র মতো ভিন্ন স্বাদের সিনেমা।

‘নাচ-গান, অ্যাকশনের সিনেমাই আমার পছন্দ। তবে আমি দেখি সব সিনেমাই। সবার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে আমার। বিভিন্ন ধরনের সিনেমা হলে ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো।’

দশ বছরের ক্যারিয়ার পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর। কলকাতাসহ বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা তিনি দেখেছন, দেখছেন। উত্থান-পতনের সব খবর রয়েছে তার কাছে। অভিজ্ঞতা হলে যা হয়, নিজের ভাবনার সঙ্গে ভাবতে হয় অন্যেরটাও। তাই পরিচালনা-প্রযোজনার ভাবনা ছাড়াও রাজের ভাবতে হচ্ছে চলচ্চিত্রের বাজার নিয়ে।

আর সেই ভাবনায় বাজার হিসেবে প্রথম নজর বাংলাদেশ। দেশে এখন সিনেমাও নির্মিত হচ্ছে কম। এইতো জানুয়ারি মাসে মুক্তি পাওয়া অধিকাংশ সিনেমাই যৌথ প্রযোজনার, না হয় সাফটা চুক্তির আওতায় আমদানিকৃত। এমন অবস্থা টালিউডের লগ্নিকারিদের ভালো মনে হতে বাধ্য।

রাজও সুর মেলালেন, ‘এদেশের বাজার খুবই ভালো। আমরা দুই বাংলা একসঙ্গে কাজ করতে পারলে, দুই ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে যাবে।’

দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করতে করতে চোখ এখন হয়ে গেছে পরিপক্ক। চলচ্চিত্রের বাজারের মতো তীক্ষ্ন নজর রাখেন ক্যামেরাতেও। মূলত সেটাই রাজের মূল কাজ। পরিচালনার সময় আর কোনো দুনিয়া থাকেনা রাজের মাথায়। চোখে শুধু চরিত্রের আস্ফালন। অনেকটা সেই মফস্বলের ঘটনা আর দৃশ্যের মতো।

মফস্বলে, ছোটবেলায়, যেসব দৃশ্য দেখে চমকিত হতেন বা মুগ্ধ হতেন, বড়বেলায়, জনপ্রিয়তার পরও চলে যান সেই আবেশে। খোঁজেন ছোটবেলার সেই চরিত্রগুলো।

‘আমি যখন কোনো চরিত্র লিখি বা ক্যামেরার সামনে দেখি, তখন আমার মনে হয়, ঐ চরিত্রগুলো আমি। সেই চরিত্রে আমি হলে কেমন করতাম। তার সঙ্গে সেই অভিনয়শিল্পীর নিজস্বতা মিশিয়ে একটা রসায়ন তৈরি করার চেষ্টা করি।’

রাজ চক্রবর্তী, ছবি: আশীষ সেনগুপ্ত

রাজ চক্রবর্তীর পরবর্তী প্রজেক্টগুলো দেখলে বোঝা যায়, এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীভেঙ্কটেশ ফিল্মসের হয়ে ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা’ নির্মাণ করবেন রাজ। এছাড়াও এগারো বছরের একটি গল্প নিয়ে নির্মাণ করবেন ছোটদের জন্য সিনেমা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন রাজ চক্রবর্তী। সুযোগ পেলে এদেশে আরো অনেক কাজ করার ইচ্ছা আছে কলকাতার এই জনপ্রিয় পরিচালকের।

সারাবাংলা/পিএ/টিএস

Tags: ,