শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৭ আশ্বিন, ১৪২৫, ১০ মুহররম, ১৪৪০

‘চরিত্র ভেঙে নিজেকে যাচাই করি’

মার্চ ৯, ২০১৮ | ২:৪৭ অপরাহ্ণ

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট ।।

যমের ঘর কেউ কি দেখেছেন? না কেউ কল্পনা করতে পারেন। আর যমদূত! তাকে দেখতে কেমন? কারো সাথে কথা হয়েছি কী তার? দেখা হলে, কী কথা হতে পারে যমদূতের সঙ্গে? কোথাও পাওয়া যেতে পারে এই ধারণা?

এমন নানা প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে কনফিউজড চিত্রনায়িকা আইরিন, যখন যমদূতের একটি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব আসে তার কাছে। কোথায় পাবেন এমন চরিত্রের রেফারেন্স?

ভাবলেন আইরিন। ‘থাক, আজগুবি এই চরিত্রে অভিনয় করবো না’। এমনটা না ভেবে, উল্টো নিয়ে নিলেন চ্যালেঞ্জ। ‘যে চরিত্র ভিষণ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে আমাকে, সেটাই করতে হবে। দেখিয়ে দিতে হবে আমি পারি।’

একই সঙ্গে যমদূতের চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা ও নিজেকে প্রমাণ করা, এই দুই পরীক্ষা নিয়ে আইরিন অভিনয় শুরু করেন ‘একজন কবির মৃত্যু’ চলচ্চিত্রের। পরিচালক আবু সাইয়ীদ।

‘আমি নিজেকে একজন অভিনয়শিল্পী দাবি করি। নিজেকে প্রমান করার ইচ্ছা সবার মতো আমারও আছে। ছবিটির প্রস্তাব আসার পর তাই আর না করিনি। ছবিতে মাত্র দুটি চরিত্র। আমার উপস্থিতিও অনেক কম। তবুও আমি আগ্রহী হই। কারণ ছবিটির প্রেক্ষাপট ও চরিত্রের রূপায়ন আমাদের প্রেক্ষাপটে খুবই ইউনিক। ছবির সংলাপের প্রত্যেকটা শব্দ অনেক যুক্তি দিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। শুটিংয়ের সময় অনেক কষ্ট হয়েছে। অনেক বড় বড় সংলাপ-দৃশ্য একবারে ধারণ করতে চেয়েছেন পরিচালক। সেগুলো অনেক কঠিন ছিল।’ বললেন আইরিন।

‘একজন কবির মৃত্যু’ গণ-অর্থায়নে নির্মিত হওয়া বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা। এতে আইরিন একটি চরিত্র এবং আরেকটি চরিত্রে (কবি) অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। ছবিটি এদেশে এখনো মুক্তি পায়নি, প্রদর্শিত হয়েছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে।

আইরিন ছিলেন উৎসবের প্রদর্শনীতে। বলেন, ‘কলকাতার নন্দনে দেখানো হয় ছবিটি। ছবিতে মাত্র দুটি চরিত্র আর তাদের সংলাপ। নেই কোনো নাচ-গান, নায়িকার সৌন্দর্য প্রকাশের কোনো বালাই নেই। হিরো দেখাতে পারেনি তার হিরোইজম। তবুও নন্দন হলটি ছিল দর্শক পূর্ণ। সংলাপ আর ভাবনাটাই সবার ভালো লেগেছে। শো শেষে আমাদের এমনটাই বলেছেন দর্শকরা।’

এমন সিনেমায় অভিনয় করাটা আইরিনের কাছে ফ্রেমের মতো। দেয়ালে টানানো বিভিন্ন ফ্রেম যেমন ঘরের শোভা বাড়ায়, বিভিন্ন রকম-ধরনের সিনেমা ও চরিত্রে অভিনয় করলে ক্যারিয়ারের শোভা বাড়ে- আইরিনের বিশ্বাস।

সেই লোভে অনেক সময় হই-হই, রই-রই গ্ল্যামারাস দুনিয়াকেও দূরে ঠেলে দিয়েছেন আইরিন। অনেকের মধ্যে থেকে বেছে নিয়েছেন ক্ষুধা মেটানোর চরিত্র। আবার চাকচিক্যের টানে অতি বাণিজ্যিক সিনেমাতেও নিয়মিত তিনি। আইরিনের শুরুটা ঢালিউডের ঝলমলে দুনিয়া থেকেই।

আইরিন বলেন, ‘আমি কিন্তু কোনো ঘরানার না। আমি সব ধরণের কাজ করতে চাই। চরিত্রের সব রকম মজা নিতে চাই। (হেসে) আমার দাঁতটা হয়ত পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু চরিত্র বা লুক সর্বপরি আমাকে তো পরিবর্তন করা যাবে। আমি সেইটা করতে চাই।’

রোদ্রছায়, ভোলা শিরোনামের সিনেমাসহ বেশ কিছু বাণিজ্যিক সিনেমায় কাজ করছেন আইরিন। অভিনয় করবেন অন্য যে কোনো ঘরানার সিনেমাতেও। কিন্তু সবখানেই নিজের ছাঁপ রাখতে চান তিনি। চরিত্রায়নে নিজেকে ভেঙে, প্রস্তুত করে হয়ে উঠতে চান প্রকৃত শিল্পী।

ছবি: আশীষ সেনগুপ্ত

সারাবাংলা/পিএ

 

‘চরিত্র ভেঙে নিজেকে যাচাই করি’
‘চরিত্র ভেঙে নিজেকে যাচাই করি’