শনিবার ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং , ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৮ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

চাকরি করতেন বাবুবাজারে, লাশ হলেন বসুন্ধরা শপিং মলে

জুলাই ১১, ২০১৮ | ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: সকালে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন বাবুবাজারের দোকানে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তা না গিয়ে গেলেন বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে। আর সেখানে গিয়েই লাশ হতে হলো সার্জিল আহমেদ অনিমকে। অনিম কেন, কী কারণে গেলেন বসুন্ধরা শপিং মলে, সেই প্রশ্নই কেবল ঘুরপাক খাচ্ছে তার পরিবারের সদস্যদের মনে।

মঙ্গলবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের সাত তলা থেকে পড়ে নিহত হন সার্জিল আহমেদ অনিম (২৭)। সেখান থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বুধবার (১১ জুলাই) অনিমের মরদেহ দাফনের পর তার বাবা বাবা আব্দুল আউয়ালের সাথে কথা হয় সারাবাংলা’র। তিনি জানান, তাদের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ ইমামবাড়ি এলাকায়। অনিম পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। পরে তিনি কাজ নেন বাবুবাজারে একটি ওষুধের দোকানে।

আব্দুল আউয়াল বলেন, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে কাজে যাওয়ার জন্যই বাসা থেকে বের হয় অনিম। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দোকান মালিক বাড়িতে ফোন দেন। বলেন, অনিম দোকানে আসেনি, তাড়াতাড়ি ওকে দোকানে আসতে বলেন। কিন্তু আমরাও অনিমকে ফোনে পাই না। পরে দুপুর ১টার দিকে তেজগাঁও থানা থেকে ফোন দেয়। থানায় গিয়ে জানতে পারি, ছেলে আর নেই।

অনিমের বাবা বলেন, দৈনিক বাটিতে করে দুপুরের খাবার নিয়ে যেত অনিম। কিন্তু গতকাল খাবার বাসার সিঁড়ির কাছে রেখে গেছিল। কী থেকে কী হলো, কিছুই বুঝতে পারছি না।

অনিমের মামা ইয়াকুব আলী জানান, অনিমের সাথে কারও শত্রুতা ছিল বলে জানা নেই তার। তিনি বলেন, ‘কার সঙ্গে সে (অনিম) ওখানে (বসুন্ধরা শপিং মলে) গেল, তা কেউ ধারণা করতে পারছে না। এক উকিলের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে। অনিমকে একটি মোবাইল ফোনও উপহার দিয়েছিল ওই উকিল। তাকে ধরলে হয়তো কোনো তথ্য পাওয়া যেতে পারে।’

অনিমের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেওয়ান মোহাম্মদ সবুর। তাতে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের সপ্তম তলার ক্যাপসুল লিফটের উত্তর পাশে রেলিং থেকে নিচে পড়ে যান অনিম। এতে তার চোয়াল, থুঁতনি ও ডান হাত ভেঙে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দুপুর পৌঁনে ১টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সেন্টু মিয়া সারাবাংলা’কে বলেন, অনিম কেন শপিং মলের সাত তলায় উঠেছিলেন এবং সেখান থেকে কিভাবে পড়ে গেলেন, তা জানতে তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য শপিং মল কর্তৃপক্ষের কাছে সিডি চাওয়া হয়েছে। সেটি পেলে গোটা ঘটনাটি জানা যাবে। এ ছাড়া অনিমের সাথে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড থেকেও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানান সেন্টু মিয়া।

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেজগাঁও থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) বলেন, ঘটনার দিন অনিমের সাথে বসুন্ধরা শপিং মলে একটি মেয়েও ছিল বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই জানিয়েছেন। অনিমের মৃত্যুর ঘটনার সাথে ওই মেয়েটি কোনোভাবে জড়িত কিনা, সে বিষয়ে অবশ্য স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি ওই এসআই।

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

চাকরি করতেন বাবুবাজারে, লাশ হলেন বসুন্ধরা শপিং মলে
চাকরি করতেন বাবুবাজারে, লাশ হলেন বসুন্ধরা শপিং মলে
চাকরি করতেন বাবুবাজারে, লাশ হলেন বসুন্ধরা শপিং মলে