শনিবার ২৩ জুন, ২০১৮, ৯ আষাঢ়, ১৪২৫, ৮ শাওয়াল, ১৪৩৯

চুলের রঙের সাতকাহন

মার্চ ২, ২০১৮ | ১:১৩ অপরাহ্ণ

রাজনীন ফারজানা ।।

তন্বী সম্প্রতি নগরীর এক পার্লার থেকে চুলে অম্ব্রে/অমব্রে (ombre) করেছেন। অম্ব্রে/অমব্রে হচ্ছে একটা ফরাসী শব্দ যার মানে শেডেড বা শেডিং যার বাংলা করলে দাঁড়ায় স্তরে স্তরে রঙের বিন্যাস। অমব্রে হেয়ারে সাধারণত সম্পূর্ন চুলের গোঁড়ার দিকে অপেক্ষাকৃত গাঢ় রঙ বেছে নেওয়া হয় এরপর মাঝামঝি জায়গায় মাঝারি মানের গাঢ় আর নিচের দিকে বা টেল এন্ডে একই কালার প্যালেটের হালকা শেডের রঙ টি বেছে নেওয়া হয়। অমব্রে নানারকম হলেও আমাদের দেশে ব্রাউন অমব্রে বেশ জনপ্রিয়। তন্বীও চুল রাঙিয়েছেন ব্রাউন অমব্রে তে। এধরণের রঙ করার কারণ হিসেবে তিনি বললেন, তিনি এর আগে ব্লন্ড করতেন কিন্তু সেটা একঘেয়ে লাগতে থাকায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে অমব্রে করলেন। তাছাড়া অমব্রে বেশ ট্রেন্ডি আর ফ্যাশনেবল বলে জানান তিনি।

চুলের নতুন কাটে বা রঙেই বদলে যায় চেহারা। আজকাল মেয়েরা নানা রঙে চুল রাঙাচ্ছেন। কেউ রাঙান সম্পূর্ণ চুল আবার কেউ বা করেন হাইলাইট। আগে ব্রাউন বা ব্লন্ডের নানা শেডে চুল রাঙাতেন তরুণীরা আর আজকাল একটি বা একাধিক রঙ মিলিয়ে মিশিয়ে লাল, নীল, সবুজ, বেগুনি, সাদা, ধূসর- যার যেভাবে ভালো লাগে সেভাবেই রাঙিয়ে তুলছেন নিজের চুল।

আজকাল আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অনুযায়ী চুলে রঙ করতে চায় অনেকেই। আর তার জন্য তারা ছুটছেন কোন না কোন পার্লারে।

গীতি’স বিউটি পার্লারের বনানী শাখায় রূপ বিশেষজ্ঞ গীতি বিল্লাহ’র মেয়ে শাবাবা বিল্লাহ গ্রাহকদের চুলের রঙটা নিজের হাতেই করেন। তিনি জানালেন, এখন চুলে প্যাস্টেল রঙ, ভাইব্রান্ট বা উজ্জ্বল, গ্র্যানি হেয়ার কালার বা সাদা ও ধূসর রঙ করার প্রবণতা বেশি।

তবে যে কেউ চাইলেই যে কোন রঙে চুল রাঙানো ঠিক না। শাবাবা মনে করেন বয়স, চুলের রঙ, চোখের রঙ ও যার যার ব্যক্তিগত জীবনচর্চার উপর নির্ভর করে চুলে রঙ করা উচিৎ। কারণ, চুলের রঙের সাথে পোশাক, সাজগোজ, গয়না সবই মানানসই হওয়া প্রয়োজন। যেমন কেউ যদি উজ্জ্বল সবুজ রঙে চুল রাঙায় তাহলে তার উচিৎ হবে লাল বা উজ্জ্বল রঙের পোশাক ও লিপস্টিক এড়িয়ে যাওয়া। তিনি আরও বলেন, ব্লন্ড বা ব্রাউন চুলে যেকোন পোশাক বা সাজগোজ মানিয়ে যায়। তার কাছে আসা গ্রাহকদের দেখে তারপর তিনি চুলের রঙ সুপারিশ করেন।

তিনি নিজের চুলে করেছেন গ্র্যানি হেয়ার কালার। নাম শুনেই বোঝা যায় এটা আসলে একদম সাদা বা ধূসর অর্থাৎ দাদী নানীদের চুলের রঙ। এই ধরণের রঙ পশ্চিমা বিশ্বে বেশ জনপ্রিয় আজকাল। আমাদের দেশে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু আমাদের চুলের রঙে পিগমেন্টেশন বেশি থাকার জন্য সম্পূর্ন সাদা করতে একের অধিক সিটিং এর প্রয়োজন হতে পারে। শাবাবার নিজের ক্ষেত্রে লেগেছে চারটি সিটিং। অন্যান্য রঙ করার ক্ষেত্রেও চুলের আকার, ঘনত্ব ও বৈশিষ্ট্য ভেদে সময় লাগতে পারে।

গীতিস এ চুল রাঙাতে চুলের আকার ও ঘনত্ব ভেদে খরচ পড়বে আড়াই হাজার টাকা থেকে শুরু করে পঁচিশ হাজার টাকা বা আরও বেশি।

পারসোনায় চুলে দুই ধরণের রঙ করা যায়। রেগুলার কালার ও ফ্যাশন কালার। নিজের ইচ্ছামত বা বিশেষজ্ঞ পরামর্শে চুল রাঙাতে পারেন এখানে। রেগুলার কালার বা সাধারণ রঙ করাতে প্রতি স্টিক খরচ পড়বে সাড়ে চারশ টাকা আর ফ্যাশন কালারে খরচ পড়বে স্টিক বা গোছা প্রতি বারোশ টাকা। লাল, বেগুনী, সবুজসহ ব্রাউন, ব্লন্ড যেভাবে ইচ্ছা চুল রাঙাতে পারেন এখান থেকে।

রঙ করা চুলে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন বলে জানান শাবাবা। খরচ একটু বেশি হলেও ভালো মানের রঙ বেছে নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। কৃত্রিম রঙে রাঙানো চুলের জন্য বিশেষ ধরণের শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার পাওয়া যায়। চুলের ধরণ অনুযায়ী বাজার থেকে যেকোন একটা বেছে নেওয়াই ভালো। তাছাড়া কেউ চাইলে পার্লার থেকেও রূপ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে বিশেষ ট্রিটমেন্ট বা সেবা নিতে পারেন।

চুলে রঙ করলে দ্রুত ময়েশ্চার হারিয়ে চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে তাই রঙ করা চুলের সৌন্দর্য রক্ষা করতে বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। বিশ্বখ্যাত চুলের পণ্যের ব্র্যান্ড ম্যাট্রিক্স এর পরামর্শকরা মনে করেন রঙ করার অন্তত দুইদিন পরে শ্যাম্পু করা ভালো, এই দুদিন চুল একদমই না ভেজালে আরও ভালো হয়। আর পানিটাও যেন হয় হালকা বা কুসুম গরম। গরম পানি চুলের রুক্ষতা আরও বাড়িয়ে দেবে। বাড়িতে বা পার্লারে গিয়ে হট অয়েল বা হালকা গরম তেল লাগাতে পারেন। আর অবশ্যই চেষ্টা করুন ভেজা চুলে হেয়ার স্টেটনার বা ব্লো ড্রাই এর ব্যবহার না করতে।

একরঙা চুলে নিজেকে দেখতে দেখতে বিরক্ত লাগলে আজই রাঙিয়ে ফেলুন চুল আর নিজেকে আবিষ্কার করুন একদম নতুন রূপে। তবে যে রঙেই রাঙান না কেন চুলের বিশেষ যত্ন নিতে ভুলবেন না যেন।

ছবি- শাবাবা বিল্লাহ

সারাবাংলা/আরএফ

Tags:

চুলের রঙের সাতকাহন
চুলের রঙের সাতকাহন