বৃহস্পতিবার ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

ছুটে চলার একবছর

ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ | ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

।। এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

২০১৭ সালের ১ নভেম্বর। পুরানা পল্টনের প্রীতম-জামান টাওয়ারের ১৬ তলার দক্ষিণ-পূর্ব দিকের একদম শেষ রুমটিতে বসে আছেন একঝাঁক সংবাদকর্মী। তাদের মধ্যে তরুণরা যেমন আছেন, রয়েছেন মাঝবয়সীরাও। সারাবাংলা ডটনেটে যোগদানের পর আনুষ্ঠানিক প্রথম মিটিং। সেখানে একজন একজন করে বলতে থাকেন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে নিজের স্বপ্নের কথা। নতুন অনলাইন হিসেবে সারাবাংলা কেমন হবে, তা নিয়ে একে একে জানাতে থাকেন মতামত। সাইটটি কোন আঙ্গিকে সেজে উঠবে, কোন কোন ক্যাটাগরি থাকবে, কেমন কনটেস্ট এই নিউজ পোর্টালের জন্য উপযুক্ত— সব বিষয় নিয়েই হয় প্রাণবন্ত আলোচনা। একদিনের মিটিং থেকে সাইটের আঙ্গিক নিয়ে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছানোটা সম্ভব নয়। ওই দিনের মিটিংয়েও সেটা সম্ভব হয়নি। তবে একটি বিষয়ে সবাই সেদিন একমত হয়েছিলেন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল হলেও সারাবাংলার পথচলা হবে খানিকটা ব্যতিক্রম।

সেই স্বপ্ন নিয়েই ঠিক একবছর আগে, ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে প্রকাশ পায় সারাবাংলা ডটনেট। সে হিসাবে সারবাংলার প্রথম বর্ষপূর্তি আজ, শুরু দ্বিতীয় বছরে পথচলার। পথচলায় প্রথম দিন থেকে যারা পাঠক হিসেবে ছিলেন, শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে যারা পরামর্শ দিয়েছেন, প্রতিদিন যারা যুক্ত হচ্ছেন পাঠকের তালিকায়— সারাবাংলার কর্মীদের কাছে তারাই অনুপ্রেরণা।

আরও পড়ুন- মিডিয়া ডায়েট করুন… থাকুন সারাবাংলার সাথে

শুরুতেই বলা হয়েছে, প্রচলিত আর দশটি গণমাধ্যমের চেয়ে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে সারাবাংলাকে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল প্রথম দিন থেকেই। সেই আঙ্গিকের অন্যতম একটি উপাদান ছিল ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট। যাত্রার ‍শুরুর দিক থেকেই নির্বাহী সম্পাদক মাহমুদ মেনন ভাই যেমন বলে আসছেন, ‘থিংক ভিজ্যুয়াল’। আকাঙ্ক্ষাটি ছিল, প্রতিটি ঘটনাকে ‘ভিজ্যুয়ালি’ চিন্তা করতে হবে। অর্থাৎ ভিডিও কনটেন্টে সমৃদ্ধ হতে চেয়েছিল সারাবাংলা। ব্যস, সেই সূচনা স্বপ্নটিকে মাথায় রেখেই সারাবাংলার প্রতিটি কর্মীর পথচলা শুরু। আজ সেই পথচলার বর্ষপূর্তি।

সংবাদকর্মীর জীবনে স্থিরতা নেই। ছুটে চলতে হয়। সেই ছুটে চলা অবশ্যই সময়ের সঙ্গে। অনলাইন মাধ্যমের ছুটে চলা আরও গতিশীল। এর আগে একটি অনলাইনে কিছুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা মূলত ছাপা পত্রিকার। সারাবাংলায় আসার পর গত একবছরে নিজেকে অনলাইনের উপযুক্ত কর্মী করে তোলার চেষ্টা ছিল নিরন্তর। বলতে দ্বিধা নেই, শুরুর দিকে খাপ খাওয়ানোটা কঠিন ছিল বৈকি। একটা সময় পর্যন্ত লিখতে পিসির বিকল্প না ভাবতে পারলেও এখন আমি মোবাইলের ছোট্ট স্ক্রিনেও বেশ স্বচ্ছন্দ। আরেকটি বিষয় অবশ্যই উল্লেখ করতে হয়, সব খবরই সবার আগে আপলোড করতে হবে— এমন মানসিকতা থেকে মুক্ত সারাবাংলা। সত্যিকার অর্থেই যা ‘ব্রেকিং’, সেটাই কেবল সবার আগে দেওয়ার তাড়া আছে আমাদের নিউজ পোর্টালটির।

খবরের প্রাণ রিপোর্টার। কোনো একটি খবরের জন্য একজন রিপোর্টারকেই সবচেয়ে বেশি জবাবদিহিতার ‍মুখে পড়তে হয়। ফলে প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রে রিপোর্টারকে থাকতে হয় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সংবেদশীল। থাকতে হয় তথ্য যাচাইয়ের মনোবৃত্তি। প্রবণতা থাকতে হয়— কারও বক্তব্যই যেন ‘মিস কোট’ না হয়। কোনোভাবেই যেন কারও বক্তব্যের অর্থের বদল বা বিকৃতি না ঘটে। গত একবছরে দেখেছি, সারাবাংলার সহকর্মীদের মধ্যে এই বিষয়গুলো মেনে চলার চেষ্টাটি আন্তরিক।

কোনো প্রতিবেদন ঠিকঠাকমতো প্রকাশ হলো কি না— সে বিষয়টিও যাচাই করতে হয় রিপোর্টারকেই। সহকর্মী বড় ভাইদের কাছে শোনা, প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতে বিশেষ কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ওই রিপোর্টারকে পত্রিকা ছাপা না হওয়া পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। রিপোর্টটি কিভাবে যাচ্ছে, ঠিকভাবে ট্রিটমেন্ট পাচ্ছে কি না, তাও দেখতে হয় ওই প্রতিবেদকেই। অর্থাৎ রিপোর্টের জন্য প্রথম জবাবদিহিতা রিপোর্টারেরই। সারাবাংলার রিপোর্টাররাও এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংশোধনী আনার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক তা অফিসের নজরে আনেন।

অন্যদিকে, রিপোর্টারের দেওয়া প্রতিবেদন আরও সুন্দর ও সাবলীলভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরেন সম্পাদনা পরিষদ। সম্পাদনা যত সুন্দর হয়, দক্ষ হয়, প্রতিবেদন ঠিক ততটাই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এই বৈশিষ্ট্যও বজায় রেখেই চলার চেষ্টা করছে সারাবাংলা। শতভাগ কনটেন্টে এই বৈশিষ্ট্য ধরে রাখা সম্ভব হয়েছিল, তা নয়। সংবাদকর্মী হিসেবে নিজেদের সমালোচনা করেই বলছি, কোনো কোনো প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সংবাদের সঠিক উপাদান যেমন সরবরাহ করতে পারেননি প্রতিবেদক, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সঠিক উপদান  সরবরাহ করার পরও প্রতিবেদনটি তেমন আকর্ষণীয় হয়ে উঠেনি। তবে প্রতিটি কনটেন্টে সারাবাংলা তার বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে চেষ্টা করেছে।

এসব কারণেই কারও কারও কাছ থেকে সমালোচনা জুটলেও পাঠকদের প্রশংসাও মিলেছে। তবে সারাবাংলাকে নিয়ে এসব প্রশংসামূলক বক্তব্যে আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই বলেই ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি। বরং আরও ভালো করার প্রত্যয়ে নিজেদের ভুল-ত্রুটি খুঁটিয়ে দেখতে ভালোবাসি। নিজেদের ভুলকেই সামনে নিয়ে আসি, ভুলকে শুদ্ধ বলি না। তবে সারাবাংলার পাঠকরাই শেষ বিচারে বলতে পারবেন, সারাবাংলা কেমন করছে। সারাবাংলার কর্মী হিসেবে বলতে পারি— স্বপ্নের সমান কিছু একটা ছুঁয়ে দেওয়ার মতো ভালো করার প্রত্যয় রয়েছে আমাদের।

সারবাংলার ওয়েবসাইটের গেটআপ নিয়ে অনেকে প্রশংসা করেন। সাইট দেখতে খুবই সুন্দর বলেও শুনতে পাই কারও কারও কাছে। লাইভ পোগ্রাম ও সাক্ষাৎকার নিয়েও প্রশংসা রয়েছে। বিনোদন সংবাদ ও কার্টুনের উপস্থিতিতে অনেকেই চমকপ্রদ বলে আখ্যা দেন। নিশ্চিতভাবেই এসব কনটেন্ট কপি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অনলাইনে। প্রশংসা পাই অন্যান্য গণমাধ্যমে কর্মরত সহকর্মীদের কাছেও। পাঠকেরাও বলেন, ‘সহকর্মীকে বলেছি, সারাবাংলা ভালো করছে, সারাবাংলা ফলো করো।’ এমন সব প্রশংসা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেখায়। স্বপ্ন পূরণের পথে হেঁটে যাওয়ার ভরসা জোগায়।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

Tags: , ,

ছুটে চলার একবছর
ছুটে চলার একবছর
ছুটে চলার একবছর