মঙ্গলবার ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

‘জনতার উত্তাল তরঙ্গে মুক্ত হবেন খালেদা’

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ | ১:৪১ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জনতার উত্তাল তরঙ্গের মধ্য দিয়ে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া এ দেশের ১৭ কোটি মানুষের নেত্রী। সরকার যদি মনে করে থাকে খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে তারা নির্বাচন করবে, সে স্বপ্ন তাদের কোনো দিনও পূরণ হবে না। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে মুক্ত করা হবে।

খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের প্রতিবাদে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে তারা এসব কথা বলেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান।

পূর্ব ঘোষিত এ কর্মসূচি প্রথমে জাতীয় প্রেস ক্লাবে করতে চেয়েছিল বিএনপি। সেখানে অনুমতি না পেয়ে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় দলটি। কিন্তু সেখানেও পুলিশি অনুমতি মেলেনি।

সব শেষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর অংশ গ্রহণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। এ কর্মসূচিতে ২০ দলীয় জোটের কয়েকজন শীর্ষ নেতা অংশ নেন।

সমপনী বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশনেত্রীকে তারা কারাগারে নিয়ে গিয়ে মনে করেছে বাংলাদেশের মানুষকে স্তব্ধ করা যাবে, বাংলাদেশের মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে— সেটা যাবে না। দেশনেত্রীকে কারাগার থেকে এ বাংলাদেশের মানুষ অবশ্যই মুক্ত করে আনবে।

‘তারা ভুলে যায় অতীতে তাদের নেতা মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি হয়েছিলেন। সেদিন জনগণ তাদের নেতাকে কারাগার থেকে মুক্ত করে এনেছিল। আজকে বেগম খালেদা জিয়া ১৬ কোটি, ১৭ কোটি মানুষের নেত্রী। এ দেশর সব চেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দুইবার বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন। এখনো তিনি যদি রাজপথে আসেন লাখ লাখ মানুষ তার পেছনে আসে’— বলেন বিএনপির মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে সকল কর্মসূচি সফল করে জনতার উত্তাল তরঙ্গের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়ার পেছনে সরকারের একটাই উদ্দেশ্য তারা বিএনপিকে বাইরে রেখে আগামী জাতীয় সংসদ  নির্বাচন করতে চায়। আমরা বলতে চাই, খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে ছাড়া আগামী সংসদ নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।’

‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বাইরে ছিলেন। তার যে জনপ্রিতা ছিল, কারাগারে যাওয়ার পর খালেদা জিয়া আরো শক্তিশালী হয়েছেন এবং জাতীয় নেতা থেকে আন্তর্জাতিক নেতায় পরিণত হয়েছেন’— দাবি খন্দকার মোশাররফ হোসেনের।

বিএনপিকে ছাড়া এ দেশের জনগণ আগামী নির্বাচন হতে দেবে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘সরকার বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে খালেদা জিয়া কারাগারে এবং তারেক রহমান লন্ডনে থাকায় বিএনপির মধ্যে নাকি ভাঙ্গন ধরবে। আমরা তাদেরকে বলতে চাই, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর আগের তুলনায় বিএনপির নেতৃত্ব আরো শক্তিশালী হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা আরো বেশি শক্তি নিয়ে রাস্তায় নেমেছে।’

‘গতকাল (সোমবার) যে মানববন্ধন ছিল, তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আজকে আমাদেরকে নির্ধারিত জায়াগায় এই অনুষ্ঠান করতে দেয়নি। কিন্তু আমরা বলতে চাই, এই সব করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখা যাবে না। এ দেশের জনগণ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আগামী নির্বাচনে জগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে’— বলেন মোশাররফ।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে শিগগিরই আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন। একটা ভূয়া, মিথ্যা, বানোয়াট মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে উনি আছেন, সেটা একটি নির্জন কারাগার। সংবিধান এবং আইনের বরখেলাপ করে একটি পরিত্যাক্ত, অবাসযোগ্য দালানের মধ্যে রেখে সরকার প্রমাণ করেছে তারা প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করে। আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে এবং আইনে যে নিয়ম কানুন আছে, জেল কোডে আছে— সমস্ত কিছু বরখেলাপ করে তাকে একটি নির্জন কারাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়াকে যদি মুক্ত করে আনতে চান, তাহলে আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা তার মুক্তির ব্যবস্থা করব, আইনি প্রক্রিয়াও অব্যাহত রাখব।’

অবস্থান কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন প্রমুখ।

জোট নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

দুই দফা স্থান পাল্টে নয়াপল্টনে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি

সারাবাংলা/এজেড/একে

 

 

‘জনতার উত্তাল তরঙ্গে মুক্ত হবেন খালেদা’
‘জনতার উত্তাল তরঙ্গে মুক্ত হবেন খালেদা’
‘জনতার উত্তাল তরঙ্গে মুক্ত হবেন খালেদা’