শুক্রবার ২০ জুলাই, ২০১৮, ৫ শ্রাবণ, ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ, ১৪৩৯

জরায়ু ক্যান্সারে বাড়ছে মৃত্যুহার, ভাঙতে হবে অচলায়তন

জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ | ৩:১৩ অপরাহ্ণ

জাকিয়া আহমেদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা :  বাল্যবিবাহ, ঘনঘন সন্তানের জন্ম, নারীশরীরে পুষ্টির অভাব, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস(এইচপিভি), বার্থ কন্ট্রোল পিল, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব জরায়ু মুখের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। তাই এবারে প্রথমবারের মতো ‘বাল্যবিবাহকে জোর না’ স্লোগানে পালিত হচ্ছে জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা দিবস। জানা গেছে, দেশে মোট ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের মধ্যে ৩০ জনই জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত।

ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর পাঁচ লাখ ২৮ হাজার নারী জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। আর বাংলাদেশে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ১২ হাজার নারী। বিশ্বে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দুই লাখ ৬৬ হাজার নারীর মৃত্যু হয়, বাংলাদেশে এ সংখ্যা ৬ হাজার। এ হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ১৭ দশমিক ৮ জন নারী জরায়ু ক্যান্সারে মারা যাচ্ছেন। অথচ জরায়ু ক্যান্সার সর্ম্পর্ণ প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য একটি রোগ। প্রাথমিক অবস্থায় যদি চিকিৎসা শুরু করা যায়, তাহলে জরায়ু ক্যান্সার থেকে নিরাময় সম্ভব। আর সে কারণে সচেতন হতে হবে সবাইকে।

বিশেষজ্ঞরা রলেন, একজন নারীর জন্য যে কোনও বয়সে জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকলেও ঝুঁকিটা বেশি বেড়ে যায় ৩৫ বছর থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে নারীদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতোটা ভয়ের জন্য তার চেয়ে বেশি লজ্জায় নারীরা এ বিষয়ে মুখ খোলেন না। আর এ লজ্জা ঝেড়ে যখন চিকিৎসকের কাছে তারা যান, তখন সময় অনেক পার হয়ে যায়।

জরায়ু মুখের ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আজ শনিবার ১৩ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন ‘জননীর জন্য পদযাত্রা শীর্ষক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জননীর জন্য পদযাত্রার প্রধান সমন্বয়কারী এবং জাতীয় ক্যান্সার গবেষনা ইন্সটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন সারাবাংলাকে বলেন, ২০১৬ সাল থেকে ‘জননীর কাছে সবার আছে জন্ম ঋণ/জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতায় অংশ নিন’ এই স্লোগানে র‌্যালির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী অন্যান্য সচেতনতা কার্যক্রম পালন করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের নারীরা স্তন ও জরায়ু এ দুটি অঙ্গ নিয়ে কোন সমস্যা হলে তা নিয়ে কথা বলতে সংকোচবোধ করেন। নারীকে এই লজ্জা ও সংকোচ থেকে বের করে আনতেই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আমাদের মূল কথা হলো নারীকে লজ্জার এই অচলায়তন ভাঙতে হবে। এতে পরিবারের সদস্যসহ তার সন্তানদের এগিয়ে আসার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

তবে নারীদের এ অসুখ নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও কুসংস্কার ভাঙতে হবে জানিয়ে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বিলকিস বেগম চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, আমাদের দেশের নারীরা পরিবারের অন্য কারও অসুখ বিসুখে যতোটা সরব থাকে ঠিক ততোটাই নীরব থাকেন নিজের যে কোনও অসুখে। আর সেটা যদি স্তন ক্যান্সার বা জরায়ু ক্যান্সারের মতো বিষয় হয় তাহলে সেটা পারলে তারা নিজের কাছেও লুকাতে চান। এ লজ্জা বা শংকোচ থেকে নারীদের বেড়িয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, অন্য যে কোনও অসুখের মতোই এগুলোও একটি অসুখ। এর চিকিৎসা প্রয়োজন।

বিলকিস বেগম চৌধুরী বলেন, শুরুতে সচেতন হলেই এ রোগ থেকে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরায়ু মুখের ক্যান্সার নির্ণয়ে বিনামূল্যে ভায়া টেস্ট চালু করেছে।

জরায়ুমুখের ক্যান্সার কোনও লজ্জার বিষয় নয়। এটি একটি অসুখ এবং অন্যান্য অসুখের মতোই এর কথা বলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। সারাবাংলাকে তিনি বলেন, এই রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এবং চিকিৎসা নিতে হবে। এই রোগে আক্রান্ত নারীর পাশে থাকতে সবাইকে, তাকে সাহস জোগাতে হবে।’

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য একটি রোগ। শুরু থেকেই এই রোগ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

সারাবাংলা/জেএ/একে

জরায়ু ক্যান্সারে বাড়ছে মৃত্যুহার, ভাঙতে হবে অচলায়তন
জরায়ু ক্যান্সারে বাড়ছে মৃত্যুহার, ভাঙতে হবে অচলায়তন