বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৪ আশ্বিন, ১৪২৫, ৭ মুহররম, ১৪৪০

জামায়াতের ব্রিটিশ লবিস্ট হলেন খালেদার আইনজীবী

মার্চ ২০, ২০১৮ | ৮:৩০ অপরাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: গত ১৭ মার্চ বিখাত ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড এলেক্স কার্লাইলকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিষয়টি জানানো হলেও এ বিষয়ে এখনো কিছুই জানেন না বিএনপির সিনিয়র অনেক আইনজীবী।

২০১২ সালে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের শুনানিতে যুদ্ধাপরাধের বিচারে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর বিপক্ষে কথা বলেন ব্রিটিশ আইনজীবী ও আইন প্রণেতা লর্ড কার্লাইল।

এই শুনানিতে সে সময় বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

শাহরিয়ার কবির এ বিষয়ে সারাবাংলাকে বলেন, ‘কার্লাইল আমাকে বলেছেন তোমাদের যুদ্ধাপরাধ আদালতের নাম ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু ওখানে ইন্টারন্যাশনাল জাজ নাই। আমরা ওখানে যেতে পারি না কেন?’

ওই শুনানিতে লর্ড কার্লাইলসহ বিদেশি আইনজীবীদের বোঝানো হয় এটি দেশীয় ট্রাইব্যুনাল তবে তা আন্তর্জাতিক মানের।

শাহরিয়ার কবির বলেন, লর্ড কার্লাইল একজন নামকরা আইনজীবী, যার পারিশ্রমিক আকাশছোঁয়া। ২০১২ সালে লন্ডনে সে জামায়াতের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে। জামায়াতের পেইড এই আইনজীবী এ দেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কঠোর সমালোচক ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন শাহরিয়ার কবির।

এই বিচারের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে নানা সভা, সেমিনার এবং ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে দূতিয়ালি করেছে এলেক্স কার্লাইল। এ ছাড়াও ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি জানান লর্ড কার্লাইল। জেনেভার ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশন ফর হিউম্যান রাইটস-এর হাই কমিশনার নাভী পিল্লাইকে লিখিত এক চিঠিতে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপও চান লর্ড কার্লাইল।

শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া এই আইন ব্যবসায়ীকেই খালেদা জিয়ার মামলা চালাতে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে অবাক হচ্ছি না। জামায়াত বিএনপি একপথেই চলবে এটাই স্বাভাবিক।’

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘লর্ড এলেক্স কার্লাইল লন্ডনের শীর্ষ আইনজীবীদের একজন। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যর এই লবিস্টকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়াটা দুঃখজনক। এতে আবারও প্রমাণিত হলো জামায়াত-বিএনপি যে এক বৃন্তের ফুল।’

এদিকে, ব্রিটিশ আইনজীবী পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিএনপির শীর্ষ নেতারা  সংবাদ সম্মেলন করলেও এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বিএনপিপন্থী সিনিয়র অনেক আইনজীবী।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আর এ ধরনের মামলায় বিদেশী পরামর্শক বা আইনজীবীর কোনো প্রয়োজন নেই।’

বিএনপির আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

তবে বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ডিফেন্স টিমের অ্যাডভাইজার হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব।

জামায়তের লবিস্ট ছিলেন লর্ড এলেক্স কার্লাইল- এ বিষয়ে কায়সার কামাল বলেন, অতীতে কে কার আইনজীবী ছিল তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। লর্ড এলেক্স কার্লাইল ৬৪টি কমনওয়েলথভুক্ত দেশের স্বনামধন্য ক্রিমিনাল আইনজীবী, শুধু এ বিষযটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

কায়সার কামাল জানান, খালেদা জিয়ার মামলার ডিফেন্স কাউন্সিলকে আইনি সব ধরনের সহায়তা করবেন তিনি। প্রয়োজনে বার কাউন্সিলের নিয়ম মেনে বাংলাদেশেও আসবেন কার্লাইল। এমনকি খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতেও দাঁড়াবেন তিনি।

তবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার সারাবাংলাকে জানান, বার কাউন্সিলের বিধান মতে বিদেশি কোনো আইনজীবীর দেশের আদালতে মামলা পরিচালনা করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করলে আমরা সেটি নাকচ করে দেই। কেউ চাইলে বিদেশি আইনজীবীদের আইনি পরামর্শ নিতে পারবেন কিন্তু দেশের কোনো আদালতে তাকে এনে মুভ করানো যাবে না।’

সারাবাংলা/জেডএফ

জামায়াতের ব্রিটিশ লবিস্ট হলেন খালেদার আইনজীবী
জামায়াতের ব্রিটিশ লবিস্ট হলেন খালেদার আইনজীবী