রবিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং , ১২ ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৭ জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘ঝাড়ফুঁক নয়, মৃগী রোগীদের প্রয়োজন হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা’

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ | ১১:১৫ অপরাহ্ণ

।। সারাবাংলা ডেস্ক ।।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: মৃগী রোগের জন্য বৈদ্য-কবিরাজদের ঝাড়ফুঁকের মতো অপচিকিৎসার আশ্রয় না নেওয়ার সতর্কবাণী এসেছে চট্টগ্রামে এক সেমিনারে। এজন্য সাধারণ রোগীর মতো হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) এক সেমিনারে নিউরোলজি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান এই আহ্বান জানিয়েছেন। ‘আন্তর্জাতিক মৃগী রোগ দিবস’ উপলক্ষে চমেকের সেমিনার কক্ষে নিউরোলজি বিভাগ এই সেমিনারের আয়োজন করে।

হাসানুজ্জামান বলেন, ‘মৃগী রোগের চিকিৎসায় ঝাড়ফুঁক নয়, অন্য সাধারণ রোগের মতো সঠিক চিকিৎসায় মৃগী রোগীও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মৃগীরোগের উপসর্গ অন্য কোনো রোগের উপসর্গ হিসেবেও দেখা দিতে পারে। তাই পরিবারের কারও মৃগী রোগের উপসর্গ দেখা দিলে বৈদ্য কিংবা কবিরাজের অপচিকিৎসা না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, মৃগী রোগ নিয়ে সমাজে অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে। কেবল রোগের ইতিহাস ও খিঁচুনির ভিডিও দেখে কোনো রকম দামি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। ৯০ শতাংশ রোগী ওষুধ খেয়ে ভালো থাকে। ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ২ থেকে ৫ বছর ওষুধ খেয়ে রোগমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক খান বলেন, এ ধরনের জনসচেতনামূলক সেমিনার ও র‌্যালি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বাইরেও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আয়োজন করলে জনগণ আরও বেশি উপকৃত হবে।

চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এস এম নোমান খালেদ চৌধুরী বলেন, ‘ব্রেন টিউমার, মস্তিষ্কের আঘাতসহ বিভিন্ন নিউরোসার্জিকেল রোগের কারণে খিঁচুনি হতে পারে, যা সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব।’

চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অশোক কুমার দত্ত বলেন, কিছু কিছু রোগের ক্ষেত্রে আমাদের রোগীর ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট নির্ভর না হয়ে রোগের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সেলিম মো. জাহাঙ্গীর বলেন, রোগীর জন্য প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লেখার ক্ষেত্রে ওষুধের দাম, কার্যকারিতা ও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাথায় রাখা উচিত।

চমেকের অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাপস মিত্রের সঞ্চালনায় সেমিনারে নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রদীপ কুমার কায়স্থগীর, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শিউলি মজুমদার, সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম খন্দকার, সহকারী অধ্যাপক ডা. মসিহুজ্জামান আলফা, সহকারী অধ্যাপক ডা. তৌহিদুর রহমান, রেজিস্ট্রার ডা. জামান আহম্মদ এবং নিউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সীমান্ত ওয়াদ্দাদার উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

Tags: ,

‘ঝাড়ফুঁক নয়, মৃগী রোগীদের প্রয়োজন হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা’
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন