বুধবার ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং , ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

তিতলিতে বিক্ষুব্ধ সাগর, উপকূলে ৪, নদীতে ২ নম্বর সংকেত

অক্টোবর ১০, ২০১৮ | ৪:২৬ অপরাহ্ণ

।। সারাবাংলা ডেস্ক ।।

ঢাকা: ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে সাগর। মেঘলা রয়েছে দেশের আকাশ, কোথাও কোথাও ঝরছে বৃষ্টিপাত। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত এবং নদী বন্দরগুলোতে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়া অধিদফতরের সিনপটিক অবস্থা বলছে, উত্তর দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় তিতলি। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর পাশের পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ও ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’তে পরিণত হয়েছে। এটি আরও উত্তর, উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আজ (বুধবার) সকাল ৬টায় পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর আশে পাশের এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড় রূপে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর, উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আসতে পারে।

বৃহস্পতিবার ভোরে উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হানবে ‘তিতলি’

বুধবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৯১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৭০ থেকে কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার। দমকা বা ঝড়ো হাওয়া আকারে যা ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। যে কারণে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ.কে.এম রুহুল কুদ্দুছ জানান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর এলাকায় ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

পূর্বাভাস বলছে, তিতলির প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তিতলীর প্রভাবে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপর দিয়ে পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। যে কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোতে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এছাড়া দেশের অন্য অংশে পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আগামীকাল (১১ অক্টোবর) রাত ১টা পর্যন্ত সতর্ক থাকতে বলছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ইন্ডিয়ান মেটিওরোলোজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১০ অক্টোবর বুধবার ভারতীয় সময় সকাল আটটা ৩০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় তিতলি তার কেন্দ্রে থাকলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে বঙ্গপসাগরের পশ্চিম দিক দিয়ে প্রায় ১৪ কিলোমিটার গতিতে ভারতের উত্তরাঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়েছে। বঙ্গপসাগরের পশ্চিম দিক থেকে ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি ল্যাটিচ্যুড ও ৮৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি লঙ্গিচ্যুডে অবস্থান করছে তিতলি।

যেটি ভারতের ওড়িষ্যা রাজ্যের গোপালপুর থেকে ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তম থেকে ২৭০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী তিন ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় তিতলি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ঝড়টি বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) সকালের দিকে ভারতের ওড়িষ্যা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের ওপর দিয়ে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে বয়ে যাবে। এরপর ঝড়টি উত্তর-পূর্বদিকে বাঁক নেওয়ার সময় ওড়িষ্যার কাছে এসে দূর্বল হয়ে তীব্রতা হারাবে।

সারাবাংলা/এটি/এমআই

Tags:

তিতলিতে বিক্ষুব্ধ সাগর, উপকূলে ৪, নদীতে ২ নম্বর সংকেত
তিতলিতে বিক্ষুব্ধ সাগর, উপকূলে ৪, নদীতে ২ নম্বর সংকেত
তিতলিতে বিক্ষুব্ধ সাগর, উপকূলে ৪, নদীতে ২ নম্বর সংকেত