মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৮ ফাল্গুন, ১৪২৪, ২ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯

তুষার-রাজ্জাককে অনুসরণ করতে বললেন মাশরাফি

জানুয়ারি ১৮, ২০১৮ | ৫:৫৭ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

মিরপুর যখন ত্রিদেশীয় রঙিন নিশুতিতে উজ্জ্বল, তখন কুয়াশায় ঢাকা বিকেএসপিতে পাদপ্রদীপের বাইরেই রয়ে গেল বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুইটি মাইলফলক। তুষার ইমরান প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম শ্রেণিতে করেছেন ১০ হাজার রান, আর আবদুর রাজ্জাক নিয়েছেন প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫০০ উইকেট। সেই কীর্তি মনে করিয়ে দেওয়া হলে আজ সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বিন মুর্তজাও জানালেন, তুষার-রাজ্জাককে নিয়ে তাদের মধ্যেও কথা হয় অনেক।

তুষার-রাজ্জাক বয়সে মাশরাফির চেয়ে খানিকটা বড় হলেও স্পম্পর্কটা বন্ধুর মতোই। কাছাকাছি অঞ্চল থেকেই এসেছেন তিন জন, জাতীয় দলের হয়ে সতীর্থও ছিলেন। মাশরাফি যখন জাতীয় দলের প্রতীক হয়ে উঠেছেন, তুষার-রাজ্জাক ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছেন দৃশ্যপট থেকে। কিন্তু তাদের অর্জন অন্তত জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অগোচরে থাকেনি, জানিয়েছেন মাশরাফি।

‘প্লেয়ারদের কাছ থেকে বলেন, অবশ্যই তারা সম্মান পাচ্ছে। আমরা একটু আগে বাসে আসার সময়ও তাদের নিয়ে কথা বলছিলাম। তুষার ইমরান ১০ হাজার রান করেছে, রাজ্জাক ৫০০ উইকেট পেয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বললেই আমার বিশ্বাস আপনারা এটা পরিষ্কার হবেন। আর আপনাদেরও কিছুটা দায়িত্ব তো থাকেই।’

জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুজনই পারফর্ম করে যাচ্ছেন টানা। মাশরাফি সেটাকে তরুণদের জন্য আদর্শ বলেই মানছেন, ‘যে ডেডিকেশন নিয়ে দুজন খেলে যাচ্ছে সেটা অনেক বড়, তাদের অনুসরণই করা উচিত। নতুন বা ইমার্জিং খেলোয়াড়দের অনেক কিছু শেখার আছে এখান থেকে। আমাদের মানসিকতা থাকে, সাকিব-তামিম-মাশরাফি-মুশফিকরা কী বলছে সেটা ফলো করা। আমি মনে করি তাদের কাছ থেকে শিখে এসে এখানে খেলা উচিত।’

দুজনের অর্জনটা কতটা বড় তাও আরেকবার মনে করিয়ে দিলেন মাশরাফি, ‘ফার্স্ট ক্লাসে ৫০০ বা ১০ হাজার কোনো হেলাফেলা নয়। এসেই কেউ এটা করে ফেলেছে এমন কিছু নয়। সেজন্য তাদের ১৭-১৮ বছর খেলতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সব না। সুস্থ থেকে এতদিন খেলে গেছে, তাদের যে সম্মানটা দেওয়া দরকার সেটা খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে আমরা দিতে চাই এবং দিচ্ছি। হয়তো আনুষ্ঠানিক কিছু সম্ভব হয়নি। তবে অবশ্যই আমাদের জায়গা থেকে তাদের সম্মান দিই, সব সময় তাদের নিয়ে আলোচনা হয়।’

মাশরাফি মনে করিয়ে দিচ্ছেন, তুষারদের পারফরম্যান্স থেকে তরুণদেরও বোঝা উচিত, ঘরোয়া ক্রিকেটের মঞ্চটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জায়গা প্রস্তুত করে দেয়, ‘চার পাঁচ হাজার রান করলে বুঝতে পারবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাপটা কী জিনিস। আমি বলব তারা যেন আরও সিরিয়াস হয়ে খেলে, মাঠে গিয়ে ওই মানসিকতা নিয়ে খেলে।’

মাশরাফি না হয় তাদের অনুসরণ করতে বলেছেন, কিন্তু যাদের দেখার কথা তারা কি দেখেছেন?

সারাবাংলা/এএম/এমআরপি