শুক্রবার ২০ জুলাই, ২০১৮, ৫ শ্রাবণ, ১৪২৫, ৫ জিলক্বদ, ১৪৩৯

থাকুন সারাবাংলা’য় সারাক্ষণ

ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ | ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ

মাহমুদ মেনন, নির্বাহী সম্পাদক

বিষয়টি এখন এখানে দাঁড়িয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন কোনো জনসভায় বক্তৃতা করেন তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে কিংবা ফেসবুক পেজে লাইভ কাস্ট করে। ফোক ফেস্টিভাল লাইভকাস্ট হয়ে যাচ্ছে আয়োজকদের অনলাইনে কিংবা ফেসবুকে। আয়কর মেলায় কী চলছে… কীভাবে সহজে আয়কর দিতে হবে তার বর্ণনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েব সাইটে মিলে যাচ্ছে। শিক্ষাবোর্ডের প্রকাশিত রেজাল্ট তার ওয়েবসাইটেই আমরা পেতে শুরু করেছি আরও আগে থেকে। এই সেদিনও দেখা গেল ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের জানাজা ও দাফন ফেসবুকে লাইভ হচ্ছে। তাতে ভিউয়ার ছিল হাজার পাঁচেক।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে হাডসন নদীর ওপর একটা এয়ার কলিশন হলে নিউইয়র্কের ফায়ার ডিপার্টমেন্ট উদ্ধার অভিযানে যায়, আর সে অভিযান সরাসরি দেখায় সংস্থাটির ওয়েবসাইট। এই জন্য যে, তাদের উদ্ধার অভিযানে কর্মীরা যে সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে তা তারা সরাসরি দেখাতে চায়। কেবল দেখানোই নয়, সেখানে ভিডিও ফিডের নিচে মন্তব্য করারও সুযোগ ছিল। ওই ঘটনায় নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট তার ওয়েব সাইটে তিন হাজারের বেশি অডিয়েন্সকে সরাসরি যুক্ত করতে পেরেছিল।

তাহলে !?

বিস্ময়ের এই প্রশ্ন এই জন্য যে, খবরের উৎস নিজেই এখন খবর প্রকাশ করছে। এর বাইরে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, আরও কত কী! যার কল্যাণে তারাই এখন খবর তুলে ধরছে যারা ছিল এতদিন খবরের সবচেয়ে পোটেনশিয়াল সোর্স।

হয়তো নিকট কোনো ভবিষ্যতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের কোনো জঙ্গিবিরোধী অভিযান, কিংবা ঢাকার কোনো অগ্নিদুর্ঘটনায় দমকলের অভিযান তাদের নিজস্ব ওয়েবফিডে সরাসরি দেখা যাবে।

বিশ্বের বড় বড় নেতারা তাদের কথা এখন টুইট করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টুইটার ফলোয়ার রয়েছেন ৩ কোটি ৪০ লাখ। টুইটের কল্যাণে বলতে গেলে প্রধানসারির মূলধারার সংবাদমাধ্যমের কোনো সহযোগিতা না পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই টুইট কিংবা ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর হয় বটে, কিন্তু কোটি কোটি মানুষ তো সে টুইট সরাসরি দেখতে পান। কিম কারদাশিয়ান কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরা টুইট, ইনস্টাগ্রামে নিজেদের কথা জানিয়ে ছবি পোস্ট করে কোটি ভক্তের ইচ্ছাপূরণ করছেন সরাসরি।

ফেসবুকে খবর পড়া তো এখন রীতিমতো ট্রেন্ড। মূলধারায় থাকা সংবাদমাধ্যমগুলোকেও হয়ে উঠতে হচ্ছে ফেসবুকনির্ভর। কেউ কেউ এই সিদ্ধান্তেও চলে গেছে, স্যোশাল ফার্স্ট। মানে হচ্ছে— স্যোশাল মিডিয়ায় খবরটি আগে দিয়ে তবেই তা নিয়ে আসা হচ্ছে নিজস্ব নিউজপোর্টাল কিংবা সাইটে। যে খবর স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে তা পোর্টালে আর কত পাঠকই পাবে!

সুতরাং সময়টা পাল্টে গেছে। পাল্টে গেছে মিডিয়ার ধরন-ধারণ। এই পরিবর্তিত সময়ে বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষাভাষীর জন্য এসেছে এই নতুন নিউজ পোর্টাল- সারাবাংলা.নেট

চ্যালেঞ্জ বড়। আমরা জানি এই চ্যালেঞ্জ ধীরে ধীরে আরও বড় হবে। কিন্তু তার পরেও সেই চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে তারুণ্যে ভরা একটি টিম নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছি।

হ্যাঁ, আমরা জানি, সাধারণ গতানুগতিক সাংবাদিকতার চর্চায় পাঠকের মন জয় করা এই পরিবর্তিত সময়ে আর সম্ভব নয়। আমরা জানি, যে খবর সবাই জেনে গেছেন সেই খবর প্রকাশ প্রচারে পাঠক মিলবে না। সুতরাং বক্সের বাইরে গিয়ে ভাবতে হবে। আমাদের এমন কনটেন্ট নিয়ে হাজির হতে হবে, যা কেবল খবরই নয়, খবরের ভেতরের খবর কিংবা খবরের চেয়েও অন্যকিছু।

সেই প্রত্যয় ও অঙ্গীকার নিয়েই এগুবে সারাবাংলা.নেট

আমাদের প্রধানতম লক্ষ্য পাঠক-দর্শকের কাছে সবশেষ খবর পৌঁছে দেওয়া, যা তাদের আপডেটেড রাখবে। তাদের পঠন, দর্শন, শ্রবণযোগ্য বিচিত্রতায় ভরা কনটেন্ট সামনে রাখা, যা তাদের বিনোদিত করবে।

কনটেন্ট ইজ দ্য কিং! কেউ কেউ বলে ‘কুইন’। সে লিঙ্গান্তরে যাব না। কিন্তু রাজা কিংবা রাণী যাই বলা হোক না কেন, কনটেন্টই সব। বলা হয়, কনটেন্ট ম্যাটারস। সুতরাং টিকে থাকতে হলে, অগ্রসর পাঠকের এই যুগে তাকে তার আগ্রহ ও প্রয়োজনমাফিক কনটেন্ট দিতে হবে। সে ধারণাটিও আমরা ধারণ করছি।

এখন খুব করে আরেকটি কথা বলা হচ্ছে, ‘ভিডিওই সব’। আমরা ইউটিউব যুগে বাস করছি বলেও বলা হচ্ছে। তাহলে সময়ের সাথে মিলে আমাদের বেশি বেশি অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্টের সমাহার ঘটিয়ে পাঠক-দর্শক-শ্রোতাকে মুগ্ধ করে রাখতে হবে। সারাবাংলা সে কাজটিই করবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন এক দৃশ্যমান বাস্তবতা। এবং ধীরে ধীরে সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। সারাবাংলা.নেট কোনো ব্যতিক্রম নয়। সামাজিক মাধ্যমে আমাদের সার্বক্ষণিক বিচরণ রয়েছে, থাকবে। আপনারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন সে পথ ধরেও। ফেসবুকে, ইউটিউবে, টুইটারে, ইনস্টাগ্রামে।

তবে আমরা এটাই সবচেয়ে বেশি করে চাই আপনারা ভালোবাসুন sarabangla.net নামের এই ইউআরএলটিকে। প্রতিক্ষণে খবরের প্রয়োজনে কিংবা বিনোদনের তাগিদে ব্রাউজ করুন।

আমরা বলছি, থাকুন সারাবাংলা.নেট এ সারাক্ষণ। আপনাদের প্রত্যাশা পূরণে আমরা সচেষ্ট থাকব।

থাকুন সারাবাংলা’য় সারাক্ষণ
থাকুন সারাবাংলা’য় সারাক্ষণ