সোমবার ২২শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১১ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

দ্য লাই পিকচারস টেল: এক মডেলের নিখুঁত ছবির লুকোনো গল্প

এপ্রিল ২২, ২০১৮ | ৫:১৭ অপরাহ্ণ

[পর্ব -১]

কিছুদিন আগে বলিউড ছেড়ে হলিউডে পাড়ি জমানো ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জানিয়েছেন তাকে তার বাদামি চামড়ার কারণে হলিউডি এক মুভি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কথিত আছে বিনোদন জগতে নারীকে তার চেহারা, শারীরিক কাঠামো ও গায়ের রঙ দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত লেখিকা রীমা জামান যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক লেখায় অভিনেত্রী ও মডেলিং কেরিয়ার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। জানিয়েছেন কেন তিনি ছেড়ে দিলেন অভিনয় ও মডেলিং কেরিয়ার। এই লেখায় তিনি আরও তুলে ধরেছেন ব্যক্তি জীবনের নানা বঞ্চনার অধ্যায়।

একাধারে একজন অভিনেত্রী, বক্তা ও গায়িকা রীমা জামানের জন্ম বাংলাদেশে আর তিনি বেড়ে উঠেছেন থাইল্যান্ডে। পরবর্তীতে কেরিয়ার গড়তে তিনি যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি দেন। হারপার’স বাজার, দ্য রামপাস, বিচ ম্যাগাজিন ইত্যাদি পত্রিকায় নিয়মিত তার লেখা ছাপা হয়। লেখালিখির স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ এর ওরেগন লিটারেরি আর্টস রাইটার অফ কালার ফেলোশিপ সম্মান অর্জন করেছেন তিনি। ২০১৯ এর এপ্রিলে অ্যাম্বারজ্যাক থেকে প্রকাশিত হবে রীমা জামানের আত্মজীবনীমূলক বই ‘আই এম ইওরস’।

দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত রীমা জামানের লেখাটি সারাবাংলার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।

অনুবাদ- রাজনীন ফারজানা।।

ছবি যখন মিথ্যা বলে : নিজের ‘পারফেক্ট ছবি’ নিয়ে সাবেক মডেলের স্বীকারোক্তি

‘এই ছবিটিতে, আমার প্রত্যেকটা ছবিতে, ‘আমি’ কতটুকু আছি ভেবে অবাক হই। এভাবে এক একটি ছবিতে আমার যতগুলো টুকরো আমি হারাই, ততগুলো পুরুষকে আমি আকর্ষণ করি।’

বাচ্চা আমি কার্পেটে হামা দিয়ে বসে আছি, দেওয়ালের হিটার থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে আমার পিঠ, ঠিক যেন দোলনায় দোলা আমার শিশু বয়স। আঙুলের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়া পানির ফোঁটার মতো বাচ্চাটির পেলব মুখ আমি হাতের মুঠোয় ধরতে চেষ্টা করি।

সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে পরার জন্য কানের দুল খুঁজতে খুলেছিলাম কাঠের গয়নার বাক্স। বাক্সের ডালা খুলতেই বেরিয়ে এল এক গুচ্ছ ছবি। সবগুলো আমারই ছবি কিন্তু তাও যেন ছবির মানুষটা আমি নই। প্রত্যেকটা ছবিতে আমিই আছি কিন্তু সে আমি ভিন্ন কারও চিন্তার প্রতিফলন। ভিন্ন কারও প্রয়োজন, মতামত, ইচ্ছা আর চিন্তাধারা দিয়ে দেখা আমি।

ছবির বাচ্চাটি যেভাবে উষ্ণতা খুঁজতে হাঁটুতে ভর দিয়ে উবু হয়ে হেঁটে হিটারের দিকে যাচ্ছিল, সেই আমি আর এখনকার আমি এক ব্যক্তি নই। ছবি হাতে নিয়ে বসে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আমার সাথে বাচ্চাটার কত পার্থক্য ভাবছিলাম আমি। এখনকার আমি হিটারের কাছে যেয়ে উষ্ণতার খোঁজে হাঁটু মুড়ে বসিনা।

এইযে একটা ছবিতে আঠারো বছরের আমি। ব্যাংককের সূর্যালোকের অনন্য উত্তাপ আর আবহাওয়ার বাষ্প আমার চামড়ায় এনেছে উষ্ণ লাবণ্য। একটা সম্মানজনক প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে আমার বন্ধু আমার ছবি তুলেছিল। আমি আমার বন্ধুর জন্য, সে যেন জিততে পারে তাই নিজেকে সুন্দর দেখাতে চাচ্ছিলাম। আশা করছিলাম ছবিতে উঠে আসা আমার মুখ যেন আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করে। আমার মাঝে থাকা গল্পগুলো যেন আমার মুখে ফুটে থাকে।

আমার মাঝে গল্পগুলো জমতে শুরু করেছিল বেশিদিন হয়নি। আমার হাইস্কুলের সাইকোলজির শিক্ষক আমাকে চিঠি পাঠাতে শুরু করেছিল। চিঠিগুলো ছিল লাল কালিতে লেখা বড় হাতের অক্ষরে। তিনি আমার ক্লাসের সময়সূচী জানতেন আর আমাকে ক্লাসরুমের ফোনে কল করেছিলেন।

ফোনের ওপাশ থেকে বলেছিলেন, ‘কলগুলো আমি রেকর্ড করছি।’

এটাই ছিল তার কাছে যৌনতা। শক্তিমত্তা। শিকার। অনুসরণ। মাত্র আঠারো বছর বয়সেই আমি জেনে গিয়েছিলাম কোন কোন পুরুষের জন্য যান্ত্রিক ছোট ছোট বাক্সে মেয়েদের গলার স্বর জমিয়ে রাখাও একধরণের যৌন উত্তেজনা এনে দেয়। পরে সেসব রেকর্ডেড ভয়েস শোনাও কারও কারও জন্য পছন্দের অবসর-বিনোদনের বিষয় হতে পারে তা আমি সেই সময়ই জেনে গিয়েছিলাম আমার সাইকোলজি শিক্ষকের মাধ্যমে।

‘তুমি খুব দুষ্টু’ চিঠিতে লিখতেন তিনি, ফোনের ওপাশ থেকেও বলতেন সে কথা। এ কথা বলার সময় তার কন্ঠ এমনভাবে হিস হিসিয়ে উঠত যেন গরম পাত্রে তেল ফুটছে। এভাবেই হিসহিসে কন্ঠে আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমার শাস্তি পাওয়া উচিৎ। অন্যরা না বুঝলেও আমি তোমাকে ভালোই বুঝি। তুমি নিজেকে ‘লিটল মিস পারফেক্ট’ বা সবকাজে নিখুঁত ভাবো। তোমার হাসি। তোমার শারীর। সববিষয়ে তোমার পারফেক্ট গ্রেড। ঠিক আছে, এখন তবে আমাকে খুশি করতে হবে।’

আমি স্কুলের প্রিন্সিপালের কাছে ওনার নামে বিচার দিলাম। আমাকে চিঠি লেখা, কল করা, থ্রেট দেওয়া সব কথা বললাম। প্রিন্সিপালের অফিসে ছাত্রদের জন্য রাখা চেয়ারে বসছিলাম আমি। প্লাস্টিকের চেয়ারের খরখরে পেছন দিক আমার পিঠে ব্যাথা দিচ্ছিল। আর উঁচু চেয়ার থেকে আমার পা বাচ্চাদের মত ঝুলে ছিল। কে জানে প্রিন্সিপাল হয়ত ইচ্ছা করেই চেয়ারের উচ্চতা বাড়িয়ে রেখেছিল যেন আমার মত মেয়েরা এখানে বসলে তাদের পা ঝুলে থাকে। এতে করে হয়ত কর্তৃত্ব আর ভয় দেখানোর মাধ্যমে আমাদের আনুগত্য পাওয়া সহজ হয়ে যায় তার জন্য।

তিনি শুনছেন। গলার স্বর যতটা সম্ভব নির্বিকার রেখে আমি প্রাণপণে চেষ্টা করছি নিজেকে ব্যাখ্যা করতে। আমি চেষ্টা করছি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সমস্ত তথ্যই তুলে ধরতে যেমন করে একজন নাট্যকার চিত্রনাট্য লেখে। আমার কন্ঠে একবিন্দু আবেগ দেখা দিলেও তা সত্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। আমি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলাম, কারণ যৌন ব্যপারে ঝুঁকি আছে এমন বিষয়ে এটা আমার প্রথম খণ্ডযুদ্ধ ছিল না। প্রথমবার এরকম পরিস্থিতির সামনে পড়েছিলাম যখন আমার বয়স ছিল এগারো। সে ছিল আমার থেকে বিশ বছরের বড় এক কাজিন। আমাকে তিনি বলেছিলেন, ‘বয়েজ উইল বি বয়েজ’ অর্থাৎ এরকম ঘটনায় ছেলেদের কিছুই হয়না। এভাবেই একের পর এক ঘটনার মাধ্যমে আমি নিজেকে প্রতিরোধ করতে শিখেছিলাম।

আমার কথা শেষ হলে প্রিন্সিপাল বলেছিলেন, ‘ধন্যবাদ তোমাকে। আমি দেখব ব্যপারটা। আর বিষয়টা গোপন রাখার জন্য ধন্যবাদ।’

এ কথা শুনে চুপ করে থাকা ছাড়া কি করব বুঝতে পারছিলাম না।

‘তুমি এখন ক্লাসে ফিরে যেতে পারো।’ বলে প্রিন্সিপাল মুখ ফিরিয়ে অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।

আমি ফিরে আসলাম ড্রাগনের ডেরায়। মানুষের আচরণের অতি সূক্ষ্ম তারতম্য নিয়ে লেকচার দিতে দিতে আমাকে বিরক্ত করা শিক্ষক আমার দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে সবসময় যে হাসিটি দেন তা দিলেন। আমি বুঝে গেলাম আজীবন ধরে উনি আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে থাকবেন। হাসিতে ফেটে পড়তে পড়তে অন্য ছাত্রছাত্রীদের বলবেন আমিই আসলে ওনার প্রেমে পড়ে মনগড়া গল্প বানিয়েছি।

 

‘তোমার হাসার প্রয়োজন নাই’, ছবি তুলতে তুলতে ফটোগ্রাফার বন্ধুটি বলেছিল। সেই মুহূর্তে কথাটি শুনে আমার এত ভালো লেগেছিল যে আমি বলতে গেলে কেঁদেই ফেলেছিলাম।

ছবির স্তুপ থেকে আরেকটা তুলে নিলাম। এইটাতে আমি তেইশের তরুণী। সময়ের সাথে সাথে আমরা মুখের মাংস শুকিয়ে লম্বাটে আকার পেয়েছে আর তারুণ্যের স্বভাবিক সৌন্দর্যের জায়গা নিয়েছে মেকাপ। এখন আমি নিউ ইয়র্ক সিটিতে থাকি, অভিনয় করি। ফটোশুটের সময় তোলা হাজারখানেক ছবি থেকে আমার এজেন্ট এইটিই বেছে নিয়েছিল। তার কাছে এটাই সবচাইতে ভালো মনে হয়েছিল।

‘তোমাকে খুব পবিত্র আর শক্তিশালী লাগছে এই ছবিটাতে,’ ছবিটি দেখে তারা বলেছিল।

কী চমৎকার করেই না তারা ভেবেছিল।

অভিনেত্রী হওয়া মানে যেন নিজের অস্তিত্বটাই অদ্ভুতভাবে বদলে যাওয়া। আমাদেরকে সুন্দর করে কথা বলতে শেখানো হয়, কিন্তু তা নিজের কথা না। অন্যরা যা বলতে বলে তাই বলতে শিখি আমরা। পুরো প্রক্রিয়াজুড়েই আমাদের সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। পরিচালনা করা হয়। খোদাই করা হয়। চকচক না করা পর্যন্ত পালিশ করা হয়। তারা যেভাবে চায় সেভাবে না চললে, কথা না বললে, তাদের মনের মত করে পরিস্ফুটিত না হতে পারলে আমাদের বিদায় জানিয়ে দেওয়া হয়।

‘আমরা দিক পরিবর্তন করছি।’ ‘আমরা যাকে চাচ্ছি সে আপনি নন।’ ‘এই রোলে আপনাকে মানাবে না, যে চেহারা, যে নারীকে আমরা চাচ্ছি তা আপনার মাঝে নাই।’

দিন নাই, রাত নাই এইসব কথা সাপের শীতলতা নিয়ে আমার হৃদয়ের গভীরে কিলবিল করে বয়ে চলে। আঠার মত লেগে থাকে আমার সাথে আর দংশন করে যায় প্রতিনিয়ত। প্রতিটা মেয়েই এমন অসংখ্য বিদ্রুপবাণী সহ্য করতে করতে বেড়ে ওঠে।

এই সমস্ত কথারা ঠিক যেন ভেতরে গুণ গুনিয়ে বেজে চলা সুরের মত আমাকে অনুসরণ করত। এই বিষাক্ত সুর আমাকে সেই রাত পর্যন্ত তাড়া করেছিল যে রাতে আমি ধর্ষিতা হলাম। সারা শরীরে ভয়ের তীব্র স্রোত এফোঁড় ওফোঁড় করে দিচ্ছিল। কিন্তু সেই মুহুর্তে আমার মনের যেন শরীরের সাথে কোন সংযোগ ছিল না। আমার হৃদয় আমার শরীর থেকে বেরিয়ে ঘরের দূরপ্রান্তে গিয়ে বসে ছিল। সেখানে সে কুঁকড়ে যাচ্ছিল। ছোট্ট বাচ্চার মত হাঁটু মুড়ে বুকের কাছে নিয়ে বসে ছিল। ভাবছিল সে। নানা চিন্তায় নিজেকে ব্যাস্ত রেখে শরীরে, মাংসের পরতে পরতে ছড়িয়ে পড়া যন্ত্রণা থেকে মুক্তি খুঁজতে চেষ্টা করছিল সে।

‘এখন থেকে আমার পরিচয়টা কি বদলে যাবে? মুভির চরিত্রটার জন্য কি আমি ফিট হব? এই রাতের ক্ষত কী আজীবন আমার চামড়ায় বয়ে নিয়ে বেড়াবো? ধর্ষণ কি একটা গন্ধের মতো? আমার সংস্পর্শে আসা যে কেউই কি গন্ধেই বুঝে যাবে যে আমি ধর্ষিত হয়েছি? আমার পরিচয় কী এখন থেকে ‘মহিলা’ না হয়ে ‘ভিক্টিম’ হবে?’ এরকম হাজারো ভাবনা নাড়িয়ে চাড়িয়ে দিচ্ছিল তখন আমাকে।

আমার সৌভাগ্য যে আমার ধর্ষক সময়ের সাথে সাথে মিতব্যয়ী হয়ে উঠছিল। সেই সাথে আমার সময়ের সাথে ও আমার সাথেও মিতব্যায়ী হয়েছিল সে। সে চলে গেলে আরেকটা দিন আসল। বিকেলের মডেলিং কলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রেস্টুরেন্টে আমার নির্দিষ্ট শিফটে কাজ করতে লাগলাম আমি। ধর্ষনের স্মৃতিটুকুকে মিউট করে সুন্দর দেখাতে লাগলাম নিজেকে। মডেলিং কলের পরে যেতাম গসিপ গার্লের অডিশনে। এই শো টা ছিল সে বছর তরুণ অভিনেত্রীর স্বপ্নের শো। অডিশনের সময় আমি মুখের উপর স্ক্রিপ্ট ধরে বসে থাকতাম। শব্দগুলো ছিল স্বাদগন্ধ আর কালিবিহীন। ঠিক যেন কালিবিহীন সাদা কাগজ।

‘সিনটা আবার করে দেখাও, অথবা আমাদের দিকে তাকিয়ে একটু মুখ চেপে হাসবে কী?’ কাস্টিং ডিরেক্টর বলে যাচ্ছিলেন। এ কথা শুনে প্রযোজক খুশি হয়ে সম্মতিসূচক মাথা নাড়লেন। হাত নেড়ে নীচের দিকে টিপে বসানোর ভঙ্গি করে কাস্টিং ডিরেক্টর বলে গেলেন, ‘‘আমরা তোমাকে আরেকটু ‘কম’ হিসেবে চাই। আসলে চরিত্রটা অতটা ধারালো না।’’ এ কথা শুনে সবাই মিলে হেসে ফেলল। তারপর বলল, ‘শুধুমাত্র আমাদের দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসো একটুখানি।’

পরিচালকের কথা মত অভিনয় করলাম। মুখ চেপে হাসলাম। কম কম দেখালাম নিজেকে। আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে পরের জনকে ডাকা হল।

পরের যে ছবিটা হাতে নিলাম, সেখানে আমি পঁচিশের তরুণী। আমার মডেলিং কার্ডের জন্য যে পাঁচটি ছবি বাছাই করেছিলাম এটি তাদের মধ্যে একটি। এই ছবিটা একদম আলাদা, একজন পরিচালকের মস্তিষ্কপ্রসূত ফটোগ্রাফ না। এই মডেলিং কার্ডের দু’পাশেই ছবি। একপাশে চারটি আর অন্যপাশে একটি। ইন্ডাস্ট্রির অলিখিত নিয়মানুযায়ী এই ছবিগুলোতে নানা মাত্রার কম পোশাকে আমি।

‘এই ছবিটা আমার সবচাইতে ভালো লেগেছে’, যার সাথে তখন ডেট করছিলাম তাকে জিজ্ঞাসা করলে বলেছিল। ‘এটা আমার সবচাইতে প্রিয়। এই ছবিটাতে তোমার মুখটা দেখে মনে হচ্ছে যেন তুমি কোন বার্তা পাঠাচ্ছ।’

‘কী ধরণের বার্তা?’ জানতে চাইলাম আমি। আসলে আমি জানতে চাইছিলাম সেও ঠিক আমার মত করেই ছবির গল্পটা ধরতে পেরেছে কিনা।

‘যেমন, আমার কাছে আসো, আমি তোমাকে চাই’ বলতে বলতে হাসল সে। ‘তুমি জানো ‘তাড়াতাড়ি আসো’ ধরণের বিষয়গুলো আর কী’ বলতে বলতে আমাকে নিজের দিকে টেনে নিল সে। ওর সাথে আমিও হেসে ফেললাম। ফিরতি চুমু দিয়ে ওর বিছানায় পড়ে গেলাম।

(চলবে)

শেষ অংশ পড়ুন

দ্য লাই পিকচারস টেল: এক মডেলের নিখুঁত ছবির লুকোনো গল্প

 

সারাবাংলা/আরএফ/এসএস

দ্য লাই পিকচারস টেল: এক মডেলের নিখুঁত ছবির লুকোনো গল্প
দ্য লাই পিকচারস টেল: এক মডেলের নিখুঁত ছবির লুকোনো গল্প
দ্য লাই পিকচারস টেল: এক মডেলের নিখুঁত ছবির লুকোনো গল্প