মঙ্গলবার ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

নগর চাষীর কলাম (পর্ব- ২)

ডিসেম্বর ১২, ২০১৭ | ৩:০৫ অপরাহ্ণ

এবার ঠিক করা যাক কোন গাছটিকে  বাড়িতে প্রথম দত্তক নেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত। সে অনুযায়ী টব এবং মাটি জোগার করে ফেলতে হবে। সত্যি বলতে আমার কখনও হিসেব করে এই কাজগুলো করা হয় না। হাতে কিছু টাকা জমলেই আমি টব আর মাটি কিনে রাখতে স্বাচ্ছন্যবোধ করি। গাছ বাসায় আনলে, যেন সহজেই তাদের বসবাসের স্থানটি তারা পেয়ে যায় তাই।

আমার চাষাবাদের জায়গা মুলত ছাদের এক কোণায়। মোটামুটি দেড় হাজার স্কয়ার ফুটের ছাদটির নীচেই আমাদের থাকবার বাড়িটি। হাউজিং কমিটি আমাদের ছাদে চাষাবাদের কারণে কোন সমস্যা হলে আমাদের দায়িত্বে ঠিক করবার চুক্তিতে বাগান করবার জন্য অনুমোদন দিয়েছেন।

সে অনুযায়ী আমি খুব ধীরে ধীরে গাছদের এক এক করে তাদের বসবাস করবার জন্য স্থান নির্ধারণ করেছি। গাছ সকলেই ভালোবাসে কিন্তু তাদের বেড়ে উঠবার মতন আবহাওয়া বা জায়গা না পেলে মন চাইলেই গাছ কিনে এনে এনে ঘরে গাদাগাদি করে রাখবার কোন মানে নেই। কারণ এভাবে তারা কখনই সুন্দর করে বেড়ে উঠবে না। বরং সময়ে পাতা ঝরে যাবে। ছোট হয়ে থাকবে। হয়তো মারাও যাবে একসময়ে।

যাক এবার আসি সবচেয়ে সহজ একটি গাছ ঘরে আনবার প্রসংগে। যা কিনা আপনার ঘর, বাথরুম, টেবিল বা রেলিং বেয়ে ঠিকঠাক যত্ন পেলে খুব দ্রুত সবুজ হয়ে উঠবে। তেমন একটি সহজলভ্য এবং পছন্দের গাছ সাধারণত মানিপ্ল্যান্ট, যতদূর সবার থেকে জেনে এসেছি। আমারও ভীষণ ভালোবাসার গাছ এই মানিপ্ল্যান্ট লতা।

একটা কথা সবসময়ের জন্য মনে রাখতে হবে যে, টবের আকার অনুযায়ী গাছের বৃদ্ধি নির্ভরশীল। যত ছোট টব তত কম মাটি, ঠিক ততটাই ছোট থাকবে গাছ। এবং সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, সে গাছের আয়ুও হবে কম। মানিপ্ল্যান্টের সুবিধা হচ্ছে তারা মাটি ছাড়াও পাথর আর জল বা শুধু জলে বেঁচে থাকে। তবে সে সব ক্ষেত্রে লতায় পাতা ছাড়ে ধীরে।

দ্রুত মানিপ্ল্যান্ট দীর্ঘ লতায় আনবার জন্য তাদের টবের মাটিতে বুনতে হবে। মাটিতে প্রথমেই জৈবসার মিলিয়ে নিলে আর ছয় মাসের মধ্যে তেমন সারের প্রয়োজন হয় না। এ ছাড়াও আমি ঘরে চা তৈরী করবার পর একটা পাত্রে কয়েকদিনের চাপাতা একসাথে জমিয়ে রাখি। একটু বেশী জমলে ওগুলো গোড়ায় দিয়ে রাখলে টবের মাটিটা ভেজা থাকবে। তবে চাপাতা জমাতে হলে তাদের অবশ্যই ঢেকে রাখতে হয়। নাহলে সেখানে মাছির জন্ম হয় খুব সহজে।

দিনে একবার জল সব গাছের জন্যই ভালো। শুধু মানিপ্ল্যান্ট নয়, আমি ঘরের গাছের পাতাগুলো পরিস্কার রাখবার জন্য বোতলে জল ভরে স্প্রের সাহায্যে দিনে একবার জল স্প্রে করি। আর ছাদের গাছদের জল দেয়ার সময় প্রতিদিনই স্নান করিয়ে দেই। ঝকঝকে পরিষ্কার লাগে দেখতে তাদের তাই।

পাথর আর জলে রাখা মানিপ্ল্যান্টে জল দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে আপনার চোখের উপর। কতটা জল শুষে নিয়ে গেছে গাছ, ঠিক সেই অনুযায়ী আবার সে পরিমান জল দিতে হবে। পাতা পরিস্কার করবার কথা তো আগেই লিখেছি। এ ক্ষেত্রে বাসায় অব্যবহৃত চায়ের মগ, গ্লাস, বাটি, কেটলী বা জলের মগ হলেই হয়ে যাবে গাছের বাসস্থান। পাথর বাসায় না থাকলে সমস্যা নেই। জলে তার বসবাস শুরু হোক। শিকড় ছাড়ুক। সময় মতন নীলক্ষেতে যাওয়া হলে এ্যাকুরিয়াম সাজানোর দোকান থেকে পাথর কিনে এনে এক সময় আবার পাথর আর জল সাজিয়ে নিলেই কাজ শেষ।

তাহলে শুরু হয়ে যাক। একখানা মানিপ্ল্যান্ট দত্তক নেয়ার মাঝ দিয়ে আমাদের ভালোবাসার প্রথম চাষাবাদ। আপনার পরিবারে দত্তক নেয়া আদরের নতুন সদস্যর একখানা হাসিখুশী ভালোবাসার ছবি আগামীতে দেখবো বলে অপেক্ষায় থাকবো। চাষী পরিবার, সুখী পরিবার।

(চলবে)

সারাবাংলা/ এসএস

 

Tags: , ,

নগর চাষীর কলাম (পর্ব- ২)
নগর চাষীর কলাম (পর্ব- ২)
নগর চাষীর কলাম (পর্ব- ২)