শুক্রবার ২০ এপ্রিল, ২০১৮ , ৭ বৈশাখ, ১৪২৫, ২ শাবান, ১৪৩৯

নগর চাষীর কলাম – পর্ব ৩ – ছাদবাগানে লাউ চাষ

ডিসেম্বর ২০, ২০১৭ | ৩:০০ অপরাহ্ণ

শাওন মাহমুদ

এ বছর অতি খরা এবং অতি বৃষ্টিতে আমার ছাদবাগানের সব ধরণের চাষাবাদ অনেক সমস্যায় পড়েছে। পোকা মাকড়ের অত্যাচার তো আছেই, তাছাড়া সঠিক সময়ে বীজ বপন না করতে পারার জন্য শীতকালীন সবজিগুলো চাষাবাদ আরম্ভ করতে দেরি হয়ে গেছে।

ছাদবাগানে কতটুকু জায়গা নিয়ে আপনার চাষাবাদ শুরু করেছেন তার উপর নির্ভর করবে শীতের সবজি চাষ করা। জানা মতে লাউ ভালোবাসে না এমন পরিবার খুব কমই আছে। এবার আমার মত করে লাউ চাষাবাদের একটা উপায় বের করে ফেলি আপনার নিজস্ব উঠোনে।

ছাদে ভালো রোদ লাগবে এমন একটা কোণ হলে লাউয়ের জন্য ভালো। বড় ড্রামে তিনভাগ জৈব সার আর একভাগ মাটি দিয়ে কয়েকদিন রেখে দিতে হবে। লাউয়ের বীজ থেকে চারা তৈরি যেহেতু সময়সাপেক্ষ তাই ভালো নার্সারি থেকে চারা নিয়ে আসলে ভালো হয়। একটা ড্রামে আমি সর্বোচ্চ চারটি চারা বুনে দেখেছি। সমস্যা হয় না একদমই। চারা লতানো শুরু করলে তাদেরকে আপনার কাঁধ দিতে হবে। মানে যে কোনো ধরণের চিকণ বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডাল হলে ভালো হয়। সেটাতে সূতা দিয়ে হালকা করে লতার সাথে বেঁধে দিতে হবে। লাউ লতা ছড়ানোর আগেই আপনি বাঁশের মাঁচা বা মোটা সূতার জাল তৈরি করে দিলেই তাদের বড় হতে অসুবিধা হবে না।

লাউয়ের ফুল আসবার সাথে সাথে কখনও কখনও পোকার আক্রমণ হয়ে থাকে। আমি সবসময় তাই সাতদিন পর সকালে ছাই গুড়া ছিটিয়ে দেই পাতার উপরে। মাঝে মধ্যে পাতাগুলো উল্টেপাল্টে দেখবার অভ্যাস করলে পোকা মাকড় চোখে পরবে সহজেই। লাউ গাছের সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য হচ্ছে ঘরে রান্না করবার জন্য যে কোনো মাছ ধোয়া জল। যদি আপনি এটা দিতে পারেন তাহলে আপনার লাউ গাছ আপনাকে প্রচুর লাউ উপহার দিবে নিশ্চিত।

লাউ গাছের গোড়া ভেজা থাকা ভালো। তারমানে প্রতিদিন একবার ভালো করে জল দিতেই হবে। বাসায় সবজি রান্না হলে সেগুলোর উচ্ছিষ্ট একসাথে লাউ গাছের গোড়ায় দেয়া যায়। এই সবজির সার পৃথিবীর শ্রেষ্ট সার বলে আমি মনে করি। আমার বাগানে বাজারের অতি পরিচিত সারের ব্যবহার হয় না। কষ্ট হলেও আমি চেষ্টা করি প্রাকৃতিক সার তৈরী করবার জন্য।

যারা বারান্দায় লাউ গাছ বুনতে চান, তারা বালতিতে একই উপায়ে লাউ চাষ করতে পারেন। বিশেষ করে দখিন পূবের বারান্দা হলে আপনি লাউ শাকের সাথে লাউ পেয়ে যেতে পারবেন। আমি লাউ চাষ করবার সময় অন্যান্য মাটিতে সরিষা বীজ ছিটিয়ে দেই। লাউয়ের ফুল আসবার সাথে সাথে সরিষাতেও ফুল আসে। সরিষা ফুল থেকে মধু আহরণে মৌমাছির আনাগোনায় লাউ ফুল পরাগায়ণে আমি প্রাকৃতিক সাহায্য পেয়ে থাকি। নিজে নিজেই এই বুদ্ধি বের করেছি গত বছরে। আর না হলে ভালো লাউ পেতে আপনাকে নিজ হাতে পরাগায়ণ করতে হবে। যা খুব সময় সাপেক্ষ এবং নির্ধারিত সময়ে করতে হয়।

চলুন না এবার আমরা একটা লাউ চারা দত্তক এনে লাউ চাষাবাদ শুরু করে দেই। আর কিছু না হোক আপনার ভালোবাসায় লাউ শাক হয়তো উঁকি দিবে সবুজ সবুজ পাতায় ভর করে। লাউ চাষাবাদের গতিবিধি জানা হয়ে গেলে আগামী বছর আপনার ছাদে বা বারান্দায় আমরা লাউ ঝুলতে দেখবো, যা আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি নিজের অভিজ্ঞতার কারণে।

চাষী পরিবার, সুখী পরিবার।

 

সারাবাংলা/ এসএস

Tags: ,

আরও পড়ুন