মঙ্গলবার ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

নগর চাষীর কলাম – ৫ (শশা গাছ আমায় নিরাশ করেনি!)

জানুয়ারি ৩, ২০১৮ | ৩:৫৪ অপরাহ্ণ

আমার চাষী হওয়ার স্বপ্নটা এলোমেলো ছিল তাই আমার ছাদবাগানটাও অগোছালো।  একদম পরিপাটি করে সারি সারি এক মাপের টব বা ড্রাম এমন কিছুই নেই।  আগেও বলেছি শাড়ির ভাঁজের সঞ্চয় একটু বাড়লেই চাষাবাদের উপকরণ কেনা হয় আমার।  কখনও দুইটা ড্রাম বা পাঁচ বস্তা মাটি। কখনও বা একটা পেয়ারা গাছের চারা বা শিউলী ফুলের চারা দত্তক নেয়া হয়েছে।  সেই গাছের বৃদ্ধি কতটুকু হবে তার উপর নির্ভর করে চাষাবাদ করা।

গত তিন বছরে কিছু সবজি ফলাতে ব্যর্থ হয়েছি।  তার মাঝে করল্লা, মিষ্টি কুমড়া এবং শশা ছিল। এবার আবারও শশার দিকে নজর দিয়েছিলাম আমি।

বেশ কয়েকটা বীজ ছিল গত বছরের।  দেশের বীজ ছাড়াও আমাকে কেউ বিদেশ থেকে কি আনবো জিজ্ঞাসা করলে, তাদের বিভিন্ন রকমের শষ্য বা ফুলের বীজ আনতে বলি।  চাষী হিসেবে বেশ আগোছালো তাই দেশি বিদেশি শশার বীজ একসাথেই মিশিয়ে রেখেছিলাম বয়ামে।  সেখান থেকে সাতটা বীজ নিয়ে চারা বানানোর জন্য টবে মাটি তৈরি করে তাতে বুনে দিয়েছিলাম।  বীজ থেকে চারা তৈরি করবার বিষয়টি আগামীতে ভালো করে জানাব।

 তো সেই শশার প্রতিটি বীজ থেকেই চারা পেয়েছিলাম আমি। সাতটি চারাই জন্ম নিয়েছিল এবার। খুব যত্ন করে আলাদা আলাদা টব এবং ড্রামে চারাগুলো আলাদা করে বুনেছিলাম। নভেম্বর মাসের সেই বৃষ্টির কথা নিশ্চয় মনে আছে সবার। প্রায় তিন চারদিন টানা বৃষ্টিতে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রেখে তাদের বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছি তখন।

সেখান থেকে শুধু একটি শশা চারা বাঁচাতে পেরেছিলাম।  রোদ উঠবার পর শুধুমাত্র সেই মাথা উঁচু করে কাধ খুঁজতে লতা ছেড়ে এগিয়ে এসেছিল।  ব্যস লেগে গেলাম তাকে বড় করবার কাজে। আবারও এক ভাগ মাটি আর তিন ভাগ জৈব সারের তৈরি বড় গামলায় তাকে আগের জায়গা থেকে সরিয়ে নতুন বাসস্থান করে দিয়েছি।  মাটির সাথে বাড়ির সবজি থেকে বেঁচে যাওয়া উচ্ছিষ্ট তো আছেই। লাউয়ের চেয়ে কিছুটা ছোট আকারের মাঁচা তৈরি করেছি তার জন্য। মাত্র সাতদিনের মাথাতেই সে ফুল ফুটিয়ে আমাকে তার হলুদ রঙের বাহার দেখিয়ে চমকে দিল।

এরপর শুধু প্রতিদিন প্রকৃতির কাছে বলতে থাকলাম, এবার একটা শশা হলেও যেন দেখতে পাই। এতো বিরূপ আবহাওয়ার পরও প্রকৃতি আমাকে শিশু শশার চেহারা দেখালো ঠিক। আর এই লেখা পর্যন্ত শশা গাছটি প্রায় কেজি খানেক শশা নিয়ে মাঁচায় বাসা বেঁধেছে।  সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে এবারও দেশী শশা ফলাতে পারিনি। সিডনি থেকে পাঠানো লেবানিজ শশা হয়েছে চাষীর ছাদবাগানে। তারপরও যে শশাই হোক, এই চাষে সফলতা আসায় কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে।

শশা গাছের সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে তারা বারান্দার গ্রিল বেয়েও বড় হয়ে যেতে পারে। তাই বারান্দায় শশা চাষ করতে হলে একই পদ্ধতিতে মাটি তৈরী করে বড় বালতি বা গামলাতে বুনে দেয়া যায়। দিনে একবার জল দিতে হবে।  প্রতিদিন খেয়াল রাখতে হবে শশা ফুলে যেন পোকা না ধরে। ভোরের কুয়াশার সাথে ছাই ছিটিয়ে দিলে পোকার আক্রমণ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়। আশে পাশে সরিষা ফুল থাকলে তো পরাগয়াণেও আর কষ্ট নেই। মৌমাছিরাই সে কাজটি করে দেয় সহজে।

একটা কথা বাদ পরে গিয়েছে, যে কোন ফলবতী লতানো গাছকে মাঁচা দিলে তার উচ্চতা নিজের কাঁধ বরাবর দিলে ফলন দ্বিগুণ পাওয়া যায় সবসময়।  এটাও নিজে নিজেই আবিষ্কার করেছি আমি। গত বছর থেকে তাই লাউ, শশা, শিম, বরবটির মতন লতানো ফলবতী গাছগুলোর মাঁচা কাঁধ বরাবর উচ্চতা দিয়ে থাকি। অতি উচ্চতায় বেয়ে উঠবার জন্য তাদের আর বেশি কষ্ট করতে হয় না। স্বস্তিতে বড় হয়।

এবার তাহলে একটা শশার চারা দত্তক নিয়েই ফেলুন না! ছাদ বাগানের মাঁচা বা বারান্দার গ্রিলের ফাঁকে ফাঁকে হলুদ ফুলের মাঝ দিয়ে সবুজ সবুজ শশা ঝুলবে। দারুণ লাগবে দেখতে। পর পর তিন বছর ব্যর্থ হবার পর এবার ছাদবাগানে শশাদের দেখে আবারও আমার বিশ্বাস প্রমাণ করেছে যে চাষী পরিবার, সুখী পরিবার।

নগর চাষীর কলাম (পর্ব-১)

 

সারাবাংলা/এসএস

 

Tags: , ,

নগর চাষীর কলাম – ৫ (শশা গাছ আমায় নিরাশ করেনি!)
নগর চাষীর কলাম – ৫ (শশা গাছ আমায় নিরাশ করেনি!)
নগর চাষীর কলাম – ৫ (শশা গাছ আমায় নিরাশ করেনি!)