বৃহস্পতিবার ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

সন্তান জন্মের পর ব্যাকপেইন- নতুন মায়ের যা যা জানা উচিত

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৮ | ৩:১৬ অপরাহ্ণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক।।

সন্তান গর্ভে ধারণ ও জন্মদানের মত ঘটনা যতটা সহজ স্বভাবিক লাগে আসলে তা নয়। গর্ভাবস্থায় একজন নারী প্রচুর শারীরিক এবং হরমোনাল পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে যায়। এই পরিবর্তনের ফলে একজন মায়ের শরীরের উপর দিয়ে বড় ধরণের ধকল যায়। গর্ভাবস্থায় এবং পরবর্তীতে ব্যাকপেইন ঠিক তেমনই একটি সমস্যা। পৃথিবীব্যাপী অসংখ্য নারী আছে যারা এই সমস্যায় ভোগেন।

ব্যাক পেইনের কারণ
সমাধান খোঁজার আগে আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে সমস্যার কারণ। দুই তৃতীয়াংশ প্রসূতিই ব্যাকপেইন বিশেষত পোস্টটেরিয়র পেলভিক ও লাম্বার পেইনে ভুগে থাকে। এর একটা কারণ হতে পারে গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে হরমোনাল পরিবর্তন। জরায়ু বড় হলে তা তলপেটের মাসলগুলোকে দুর্বল করে দেয় ফলে এটা পিঠের মাসলের উপর চাপ ফেলে। আর পেটের ভেতর বাচ্চা বড় হওয়ার সাথে সাথে এই বাড়তি ওজন মায়ের শরীরের উপরের সেই চাপ বাড়াতেই থাকে। এই ব্যথা সন্তান জন্মদানের পরেও থেকে যায়।

হরমোনের ভূমিকা
গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন মায়ের শরীরের জোড়গুলোকে দুর্বল করে দেয়। পেলভিক বোন আর স্পাইনকে যুক্ত রাখা লিগামেন্ট ঢিলা হয়ে যায় এই সময়ে। এতে কিছুটা নমনীয়তা আসলেও বাদবাকি শরীরের চালচলন ও ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।

লোয়ার ব্যাকপেইন দূর করতে কী করব

সবার আগে পশ্চার বা দেহভঙ্গিমায় পরিবর্তন

ঘাড় ও পিঠ টানটান করে একদম সোজা হয়ে দাঁড়ান
বাচ্চা ক্যারি করার স্লিং পিঠে না ঝুলিয়ে সামনের দিকে ঝোলান
বাচ্চাকে স্তনদানের সময় সামনে ঝুঁকবেন না
লাম্বার পেইনের ব্যাথা কমাতে পায়ের নিচে টুল ব্যবহার করুণ
পিঠ বেশি বাঁকানোর চেষ্টা করবেননা
কোনকিছু তুলতে হাঁটু ভাঁজ করে বসুন
হঠাৎ করে লাফ দিয়ে দাঁড়ানো থেকে বসবেননা না বসা থেকে উঠবেননা
হিল পরা ভুলে যান কিছুদিনের জন্য
পায়ের উপর চাপ ফেলেনা এমন আরামদায়ক আর নরম জুতা ব্যবহার করবেন
ঘুমানোর সময় আরাম নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে বালিশ আর কুশন ব্যবহার করুন সাপোর্টের জন্য।



ব্যাকপেইন থেকে মুক্তি পেতে ব্যায়াম

আমরা বুঝতে পারি ব্যাথার কারণে আপনার শরীর আরাম খোঁজে কিন্তু ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে আরামের পাশাপাশি কিছু হালকা ব্যায়ামও খুব জরুরি। ব্যায়াম আপনার রক্ত চলাচল ঠিক রেখে কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের গঠন সুন্দর রাখে।

স্ট্রেচিং
নিয়মিত হালকা স্ট্রেচিং আপনার শরীরের মাসল শক্তিশালি করার পাশাপাশি বডি পশ্চার বা দেহভঙ্গিমায় জড়তা দূর করে।

হাঁটা
কার্ডিওভাসকুলার এক্সারসাইজের সবচাইতে সহজ রূপ হচ্ছে হাঁটা। নিয়মিত হাঁটা ওজন কমানোর পাশাপাশি মেটাবলিজম বাড়ায়।

ইয়োগা বা যোগব্যায়াম
যোগবায়্যাম দেহভঙ্গিমায় উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি শরীরকে নমনীয় করে ও মানসিক চাপ কমায়। তবে ঝুঁকি কমাতে ও নিয়মিত রুটিন মেনে চলতে একজন প্রশিক্ষকের তত্বাবধানেই যোগব্যায়াম করা ভালো।

মেডিটেশন বা ধ্যান
নিজের সাথে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটালে ব্যাথা আর মানসিক চাপ দুয়ের সাথেই লড়াই করতে সাহায্য করে।

সাঁতার
সাঁতারকে বলা যায় পূর্ণাঙ্গ ব্যায়াম। তবে যোগব্যায়ামের মত গর্ভাবস্থায় সাবধানতা অবলম্বন করতে সাঁতারও প্রশিক্ষকের ত্বত্তাবধানে করা ভালো।

সতর্কতা
একেকজনের শারীরিক গঠন একেক রকম তাই হাঁটা, সাঁতার বা যোগব্যায়াম যাই করুন, অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেননা।

গোসলে ব্যবহার করুন হালকা গরম পানি
হালকা গরম পানিতে গোসল করলে আপনার শরীরের মাসলগুলো শিথিল হওয়ার পাশাপাশি আপনি ভালো বোধ করবেন।

প্রয়োজনে স্পা নিন
আজকাল অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে স্পা করা যায়। স্পা’র হালকা মাসাজ আপনার মানসিক চাপ ও শারীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। এটা রক্ত চলাচল নির্বঘ্ন করতেও সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি
সবার শারীরিক গড়ন, উচ্চতা ও বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওজন থাকা লাগে। একজন গর্ভবতী মায়েরও তাই। যদি আপনার ওজন খুব বেশি হয়ে যায় তাহলে সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কারণ ওজন খুব বেশি বেড়ে গেলে তা সন্তান জন্মদানের পরে ব্যাকপেইনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

পরিবর্তন আনুন খাদ্যাভ্যাসে
গর্ভাবস্থার এ কমাসের জন্য সবুজ শাকসবজি ও ফলমূলকে আপনার নিত্যসঙ্গী বানিয়ে ফেলুন। এগুলোতে থাকা প্রচুর পরিমান ভিটামিন ও মিনারেল একজন গর্ভবতী মা ও তার বাচ্চার জন্য খুবই জরুরি।

স্ন্যাকস কে না বলুন
ডুব তেলে ভাজা ও চিনিযুক্ত খাবারকে না বলুন পুরোপুরি। এ ধরণের জাংক ফুড মেটাবলিজম বা খাদ্য হজমের প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। আদতে এর চাইতে অস্বাস্থ্যকর খাবার আর হয়না।

প্রচুর পানি পান করুন
দিনে অন্তত আট থেকে বারো গ্লাস পানি অবশ্যই পান করুণ। পানিশূন্যতা শরীরকে দুর্বল করার পাশাপাশি ওজন কমার প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়।

কর্মক্ষম থাকুন
নিয়মিত হাঁটলে এবং কর্মক্ষম থাকলে তা শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায় ও ওজন কমাতে সাহায্য করে।

শেষ কথা
ব্যাকপেইন আপনার কর্মক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়, শুধু তাই না, সাধারণ কাজটিও কঠিন বানিয়ে ফেলে। এতে করে প্রসূতি মায়ের জন্য তার সদ্যজাত সন্তানের যত্ন নেওয়া রীতিমত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাই গর্ভপরবর্তী নতুন মায়ের ব্যাকপেইন একদমই অবহেলা করা যাবেনা। এবং এর থেকে মুক্তি পেতে উপরের পরামর্শগুলো মেনে চলতে চেষ্টা করুন।

ছবি- ইন্টারনেট

সারাবাংলা/আরএফ/এসএস

সন্তান জন্মের পর ব্যাকপেইন- নতুন মায়ের যা যা জানা উচিত
সন্তান জন্মের পর ব্যাকপেইন- নতুন মায়ের যা যা জানা উচিত
সন্তান জন্মের পর ব্যাকপেইন- নতুন মায়ের যা যা জানা উচিত