মঙ্গলবার ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

নদীও হতে পারে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা 

জানুয়ারি ১৯, ২০১৮ | ৯:৫০ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

নদীমাতৃক বাংলাদেশের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও  বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি তুলে ধরতেই আয়োজন করা হয় ভাসমান পর্যটন মেলা। ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করে এমন ১৩টি ট্যুর অপারেশনের যৌথ সংগঠন ‘বি ফিফটিন’ ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করে।

শুক্রবার সকালে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে সন্দরবন -১০ লঞ্চ করে নৌবিহারটি চাঁদপুরে গিয়ে আবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরে আসে। দিনব্যাপি এই আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও পর্যটন বোর্ডের সহযোগিতায় পর্যটন মেলা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‍্যাফেল ড্র।

আয়োজকরা জানান, ভাসমান পর্যটন মেলা নদীমাতৃক বাংলাদেশের জলভিত্তিক পর্যটন বিকাশের একটি প্রয়াস। এটি দেশের বৃহৎ এবং একমাত্র ভাসমান পর্যটন মেলা। ভাসমান পর্যটন মেলার কন্সেপটি বিশ্বে অদ্বিতীয় বলেও দাবি করেন আয়োজকরা।

মেলায় অংশ নিয়ে পর্যটন কপোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির বলেন, নদীপথে মেলার আয়োজন একটি ভিন্ন ধারার অনুষ্ঠান। ভবিষ্যতে এটিও হতে পারে বাংলাদেশ ট্যুরিজম শিল্পের একটি অংশ। তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে আমাদের পর্যটন শিল্প আরও এগিয়ে যাবে। তবে পর্যটকদের সঙ্গে গাড়ী চালকসহ সংশ্লিষ্টদের আরও বন্ধুসুলভ আচরণ করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

আখতারুজ্জামান খান কবির বলেন, ট্যুরিজম শিল্প নিয়ে আমরা খুব আশাবাদী। বাংলাদেশে অনেক বড় বড় প্রজেক্ট হচ্ছে। ভাল মানের হোটেল মোটেল হচ্ছে আশা করি ট্যুরিজম সেক্টর দিনে দিনে অনেক এগিয়ে যাবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যটন শিল্পের বিকাশে বড় বাধা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মনে করি আমাদের পর্যটন জায়গা গুলো অবশ্যই নিরাপদ। বাংলাদেশের কোথায় নিরাপদ নাই। আমাদের এখানে ট্যুরে এসে কেউ হেনস্থা হয়েছেন এমন কেউ বলতে পারবে না। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি।

ভাসমান পর্যটন মেলায় অংশ নেওয়া দর্শনার্থীরাও বেশ খুশি। ঢাকার ব্যবসায়ি খায়ের তালুকদার পরিবার সন্তান নিয়ে এসেছেন মেলায়। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ঢাকায় বাস করি। আমরা মূলত মেলা বলতে বুঝি কোনে খেলার মাঠে বা শপিং মলে কিংবা কোন হলরুমে। কিন্তু আজকের মেলার পরিবেশটা ছিল একটু ভিন্ন রকম। এখানে এসে নৌ-ভ্রমণও হলো আবার মেলায়ও অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন পর্যটন জায়গা সম্পর্কেও ধারণা হলো। এটি আসলেই একটি ভিন্ন ধারার মেলা।’

মেলায় আসা আশকোনা এলাকার মাসকট ইনোভেটিভ স্কুলের নবম শ্রেণী ছাত্রী সানজানা জানান, ঢাকায় সারাক্ষণ গাড়ীর শব্দ। এখানে কোনো শব্দ দূষণ নেই। গাড়ীর জ্যাম নেই। চারপাশে পানি আর পানি। নির্মল আবহাওয়ায় মনটাই যেন ভালো হয়ে যায়। এর সঙ্গে মেলা দেখে আরও ভালো লাগছে।’

আয়োজক সংগঠনের সদস্য টাচ ক্রিয়েশন লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মাহবুব হোসাইন সুমনা বলেন, ‘পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে আমরা অনেক ধরনের সেবা পণ্য তৈরি করেছি। এর মধ্যে বাংলাদেশের নদীকে কিভাবে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বি করা যায় সেটিরও চিন্তা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন,’ গত বছর আমরা পরীক্ষামূলকভাবে এ মেলার আয়োজন করি। এবার দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে। নদীমাতৃক  দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে পরিচিতি করাতেই আমাদের এই আয়োজন। আগামীতে বছরে অন্তত দুইবার এ মেলার আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানান।’

বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। শৈবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, রামুর বৌদ্ধ মন্দির, হিমছড়ির ঝর্ণা, ইনানী সমুদ্র সৈকত, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ, টাঙ্গুয়ার হাওরসহ অসংখ্য পর্যটক স্পট রয়েছে নদীমাতৃক আমাদের সবুজ শ্যামল বাংলাদেশে।

সারাবাংলা/এজেডকে/টিএম

নদীও হতে পারে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা 
নদীও হতে পারে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা 
নদীও হতে পারে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা