শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৭ আশ্বিন, ১৪২৫, ১০ মুহররম, ১৪৪০

নিউইয়র্কে বসছে ‘উন্নয়নশীল বাংলাদেশ’র সিদ্ধান্ত নেওয়ার বৈঠক

মার্চ ১২, ২০১৮ | ১২:১০ অপরাহ্ণ

গোলাম সামদানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আজ (১২ মার্চ) শুরু হচ্ছে একটি বৈঠক। বৈঠকটি বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বয়ে আনবে। পৃথিবীর বুকে নতুন তকমা পাবে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে ছোট্ট ব-দ্বীপ রাষ্ট্রটি  উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ সংক্রান্ত বৈঠকে বসবে কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট (সিডিপি)।

ত্রিবার্ষিক বৈঠকটি চলবে আগামী ১৬ মার্চ  পর্যন্ত।

বাংলাদেশসহ মোট ১৫টি দেশকে এলডিসি‘র তালিকা থেকে বের করে উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভূক্ত করা হবে এই বৈঠকে। দক্ষিণ এশিয়ার আরও দুটি দেশ নেপাল ও ভুটান রয়েছে এই তালিকায়।

জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল (ইকোসোক)‘র  আওতাধীন সিডিপি তিনটি সূচকের মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি দেয়। সূচক তিনটি হলো- মানব সম্পদের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এবং জাতীয় মাথাপিছু আয়।

একটি দেশকে উন্নয়নশীলের তালিকাভূক্তির জন্য মানব সম্পদ উন্নয়নে ১০০ এর মধ্যে ৬৬ পয়েন্ট থাকতে হবে। যেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ৬৮ দশমিক ৭ পয়েন্ট। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতায় ৩২ পয়েন্টের নিচে থাকতে হবে একটি দেশকে। বাংলাদেশ রয়েছে ২৫ দশমিক ১১ পয়েন্টে। আর জাতীয় মাথাপিছু আয় (জিএনআই) ১ হাজার ২৪২ মার্কিন ডলার হতে হবে। যাতে বাংলাদেশ এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে ১ হাজার ৬১০ ডলারে।

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বৈঠকে বাংলাদেশের ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ এই তিন বছরের সূচকের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হবে। তারা বলছেন, এরইমধ্যে তিনটি সূচকেই বাংলাদেশ সক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে বৈঠকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মানদণ্ড অর্জন করার স্বীকৃতি পেতে কোনও বাধা নেই।

তবে এ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত ও প্রক্রিয়া রয়েছে উল্লেখ করে সূত্র জানায়, সূচকের এই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। পরে ২০২২ সালের শেষের দিকে জাতিসংঘের নির্ধারিত নিয়মে সূচকের তথ্যগুলো চুড়ান্ত সমন্বয় করে হিসাব তৈরি করা হবে। ২০২৪ সালের মার্চে ফের বৈঠক করবে সিডিপিবে। ওই বৈঠকে চুড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন হলে তা পাঠানো হবে ইকোসোকে। ইকোসোক স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চুড়ান্ত করে প্রতিবেদন পাঠাবে জাতিসংঘে। পরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তা স্বীকৃতি পেলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে মোট ৬ বছর লাগবে।

এই ছয় বছর বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। যাতে বাংলাদেশ গড়িয়ে আবার পিছনে চলে না যায়।

এ ব্যাপারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, এলডিসি থেকে বের হয়ে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় উঠে গেলে সেখান থেকে আবার পিছিয়ে আসার কোন নজির নেই। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোন আশঙ্কা একেবারেই থাকছে না। কারণ ৭৫ মিলিয়নের বেশি যাদের জনসংখ্যাা রয়েছে তাদেরকে আর ফিরে আসার কোন সুযোগ নেই। ফলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হলে সেখানেই থেকে যাবে।

তিনি বলেন, মানব সম্পদ উন্নয়ন ও জাতীয় মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কখনো পেছনে যাওয়ার সম্ভবনা নেই। তবে বড় মাত্রার ঘুর্ণিঝড়, ভূমিকম্প হলে অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকটি কিছুটা সঙ্কটাপন্ন হলেও হতে পারে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সিনিয়র রিচার্স ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্রাচার্য্য সারাবাংলাকে বলেন, কাগজপত্রে ২০২১ সালে আমরা বিভিন্ন সূচক অর্জন করবো। কিন্তু আমাদের আরো তিন বছর করে মোট ছয় বছর পর্যবেক্ষণে রেখে দেওয়া হবে। যাতে গড়িয়ে আবার পেছনে যায় কিনা তা দেখা হবে। সেই ছয় বছর আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা থেকে বের হওয়ার জন্য। তবে এ বছরই বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সূচকগুলো অর্জন করে নিয়েছে।

তবে অর্থনৈতিক অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও বড় করছে দেখছেন এই অর্থনীতিবিদ।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো দেশের ভেতরে স্থিতিশীলতা না থাকলে, দেশের ভেতরে যদি ঐক্যবোধ না থাকে, তাহলে এই উত্তরণটাকে আমরা একটি সুফল হিসেবে, সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাব।’

উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলে বাংলাদেশের ওপর কিছু দায়িত্বও বর্তাবে, যা পালনে সতর্ক থাকতে হবে বলে মত দিয়েছেন অপর অর্থনীতিবিদ খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

সিপিডির এই অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ এই তালিকায় উন্নীত হলে বৈদেশিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। আবার বেশ কিছু দায়বদ্ধতাও সৃষ্টি হবে। ফলে এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

সারাবাংলা/জিএস/জেএএম/এমএম

 

নিউইয়র্কে বসছে ‘উন্নয়নশীল বাংলাদেশ’র সিদ্ধান্ত নেওয়ার বৈঠক
নিউইয়র্কে বসছে ‘উন্নয়নশীল বাংলাদেশ’র সিদ্ধান্ত নেওয়ার বৈঠক