বুধবার ১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

নয়াপল্টনে যে কারণে পিছু হটেছিল পুলিশ

নভেম্বর ১৪, ২০১৮ | ১০:০৪ অপরাহ্ণ

।। সাদ্দাম হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: তৃতীয় দিনের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলছিল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যালয়ের সামনে বাড়তে থাকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড়। দুপুর নাগাদ নেতাকর্মীদের ভিড়ে বন্ধ হয়ে যায় ওই এলাকার যানচলাচল। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়, তা হাতাহাতিতেও গড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছুঁড়লে শুরু হয় উভয় পক্ষের সংঘর্ষ। পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটা পর্যায়ে পুলিশ উল্টো পিছু হটে আসে।

পুলিশ বলছে, সংঘর্ষের ঘটনার সময় তাদেরই একজন সহকর্মী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বিএনপি কার্যালয়ে। তার যেন কোনো ক্ষতি না হয় এবং তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে আনা যায়, সেটা নিশ্চিত করতেই বিএনপি নেতকর্মীদের ওপর চড়াও হতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত’ বলেও দাবি করছে তারা।

বুধবার (১৪ নভেম্বর) সকাল থেকেই নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুরু হয় তৃতীয় দিনের মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম। এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বড় একটি মিছিল আসে কার্যালয়ের সামনে। একই সময়ে আরও কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা ও তার সমর্থকদের মিছিল আসতে শুরু করলে গোটা এলাকা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।

এসময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী রাস্তায় যানচলাচল স্বাভাবিক করতে বিএনপি নেতাকর্মীদের রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে অবস্থান নিতে অনুরোধ করে পুলিশ। এতে নেতাকর্মীরা রাস্তা না ছাড়লে পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা রূপ নেয় হাতাহাতিতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুর ১টার দিকে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে কার্যালয়ের আশপাশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল মারা হয়। মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে এসময়।

পুলিশ জানায়, বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় একদম সামনের দিকে ছিলেন সহকারী কমিশনার (এসি, অপারেশন্স) ছিদ্দিক। একপর্যায়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশ জানতে পারে, তাকে বিএনপি নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে ফেলেছেন। এসময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্দেশনা দেন, কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ছাড়াই যেন তাকে উদ্ধার করা হয়। এই নির্দেশনা অনুসরণ করে কৌশলে এসি ছিদ্দিককে উদ্ধার করতে গিয়েই পিছু হঠতে হয় পুলিশকে। পরে বিকেল ৩টার দিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাকে।

মতিঝিল জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, আমরা যখন জানতে পারলাম এসি ছিদ্দিককে তারা অবরুদ্ধ করেছে, আমরা চাইলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে পারতাম। সে সক্ষমতা আমাদের ছিল। কিন্তু আমরা এ-ও জানতে পারলাম, তারা সুকৌশলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে প্রয়োজনে কোনো পুলিশ সদস্যকে হত্যা করতেও পিছুপা হবে না। সে কারণেই আমরা পিছু হঠার সিদ্ধান্ত নেই।

ডিসি আনোয়ার বলেন, ওই সময় আমরা কেউ তাদের কার্যালয়ের দিকে যেতে পারছিলাম না। তাই স্থানীয়দের সহায়তায় সাদা পোশাকে বিএনপি কার্যালয়ে লোক পাঠানো হয়। তারা আমাকে নিশ্চিত করে, এসি ছিদ্দিক সেখানেই আছেন। পরে আমাদের লোকেরা স্থানীয়দের সহায়তায় কৌশলে এসির গায়ের পুলিশের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে তাকে সেখান থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন। এরপর তাকে আমরা পুলিশ লাইন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠাই।

ডিসি আনোয়ার আরও বলেন, গত তিন দিন ধরে তাদের মনোনয়ন ফরম বিক্রির কারণে এই এলাকায় ব্যাপক জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছিল। তাই আমাদের ওপর নির্দেশনা ছিল, কোনো জনদুর্ভোগ যেন আর না হয়। তাই আমরা রাস্তায় ছিলাম। কিন্তু আমরা ভাবতে পারিনি, বিএনপি সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের কাউকে অবরুদ্ধ করে অপ্রীতিকর একটি ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করবে। আজ (বুধবার) এসি ছিদ্দিক ও কয়েকজন আনসারসহ আমাদের ১৩ জন সহকর্মী আহত হয়েছেন। কিন্তু আমরা ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছি।

এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার কিংবা আটক করা হয়নি। তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান মতিঝিল জোনের উপপুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন।

এদিকে, সন্ধ্যার পর আহত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের দেখতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাবাংলা/এসএইচ/টিআর/এটি

নয়াপল্টনে যে কারণে পিছু হটেছিল পুলিশ
নয়াপল্টনে যে কারণে পিছু হটেছিল পুলিশ
নয়াপল্টনে যে কারণে পিছু হটেছিল পুলিশ