মঙ্গলবার ২২ মে, ২০১৮ , ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫, ৫ রমযান, ১৪৩৯

পাস্তুরিত তরল দুধের ৭৫ শতাংশে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া

মে ১৬, ২০১৮ | ৮:৪০ অপরাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: দুধের খামার থেকে শুরু করে দোকান পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পাস্তুরিত তরল দুধের ১১ শতাংশে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এসব তরল দুধের ৭৫ শতাংশে কলিফর্ম ও ফিকাল কলিফর্মের মতো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াও রয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)।

শিশুদের পুষ্টির প্রাথমিক উৎস বাণিজ্যিকভাবে পাস্তুরিত দুধ নিয়ে সম্প্রতি এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে বুধবার (১৬ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কাঁচা দুধ পান করার প্রবণতা বেশি উল্লেখ করে আইসিডিডিআরবি বলছে, পাস্তুরিত দুধ তখনই বিপজ্জনক হবে, যখন এই দুধ ‘কাঁচা’ (ফুটানো ছাড়া) অবস্থায় পান করা হবে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, উৎপাদনকারীদের থেকে দুধ সংগ্রহের স্থানে উচ্চমাত্রার কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া ও মল দ্বারা দূষিত শতকরা ৯১ এবং ৪০ শতাংশ নমুনাতে উচ্চমাত্রার ই-কোলাই উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, হিমাগার থেকে সংগৃহীত নমুনায় দুধ সংগ্রহের স্থান থেকে নেওয়া নমুনার চেয়েও দূষণের হার বেশি দেখা গেছে। আর পাঁচটি জেলার ১৫টি হিমাগারে সংগৃহীত নমুনায় অনেক বেশি পরিমাণে কলিফর্ম ও মলবাহিত কলিফর্ম পাওয়া যায়।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, সবগুলো হিমাগার থেকে সংগৃহীত নমুনাতেই ই-কোলাই পাওয়া যায়। কিন্তু দেখা যায়, ৬৭% নমুনা ই-কোলাই দ্বারা উচ্চমাত্রায় দূষিত। দুধ উৎপাদনকারীর থেকে শুরু করে হিমাগার ও সব শেষে ভোক্তা অর্থাৎ স্থানীয় রেস্তোরাঁ পর্যন্ত দুধে ক্ষতিকারক এসব ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা ক্রমশ বেড়েছে।

দুগ্ধ শিল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে দুধের অণুজীবিজ্ঞানগত মান যাচাইয়ের জন্য উত্তরাঞ্চলের দুধ উৎপাদনকারী, হিমাগার ও স্থানীয় রেস্তোরাঁ থেকে কাঁচা দুধের ৪৩৮টি এবং ঢাকা ও বগুড়ার বিভিন্ন দোকান থেকে বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা দুধের ৯৫টি নমুনা সংগ্রহ করে এই গবেষণা চালানো হয়।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী বিজ্ঞানী ও ফুড মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরির প্রধান এবং এই গবেষণার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারের পাস্তুরিত কাঁচা দুধে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে এবং এসব দুধ খুব ভালোভাবে না ফুটিয়ে খাওয়া উচিত নয়। তবে, আলট্রা হাই টেম্পারেচার (ইউএইচটি) দুধ থেকে সংগৃহীত নমুনায় জীবাণুর সংক্রমণ দেখা যায়নি। কাজেই সেগুলো পানের জন্য নিরাপদ।’

এই গবেষক আরও বলেন, ‘দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার কারণে দুধের মূল গুণ, অর্থাৎ এর পুষ্টিগত গুণাগুণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা পরীক্ষা করে দেখতে পেয়েছি, দুধের প্রাথমিক উৎপদানকারী পর্যায়ে এর দূষণের সাথে গরুর প্রজনন প্রক্রিয়া, গুরুর দ্বারা উৎপাদিত দুধের পরিমাণ, দুধ দোয়ানোর সময় ও যিনি দুধ দোয়ান তার হাত ধোয়ার অভ্যাসের মতো বিভিন্ন বিষয় এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এছাড়াও, পানের জন্য দুধকে নিরাপদ রাখতে দুধ উৎপাদনের স্থান থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পাস্তুরিত দুধকে নিরবচ্ছিন্নভাবে শীতল রাখার পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি।’

কেয়ার বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় ‘স্ট্রেনদেনিং দ্য ডেইরি ভ্যালু চেইন (এসডিভিসি)’ প্রকল্পের আওতায় বগুড়া, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, রংপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলার মোট ১৮টি উপজেলায় এই গবেষণা চালানো হয়। গবেষণার ফলাফল ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ফুড মাইক্রোবায়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে।

সারাবাংলা/জেএ/এমআইএস

আরও পড়ুন