বুধবার ২০ জুন, ২০১৮, ৬ আষাঢ়, ১৪২৫, ৫ শাওয়াল, ১৪৩৯

‘পুঁজিবাজারে আস্থা ও তারল্যের সংকট রয়েছে’

মার্চ ১৩, ২০১৮ | ১১:০৯ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘টানা দরপতনের কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। আর এই সংকট মোকাবিলা করতে হলে পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে হবে। আর তা করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে এগিয়ে আসতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ও এডিআর সংক্রান্ত নানা জঠিলতা দূর করতে হবে।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে পুঁজিবাজারে দরপতনের কারণ ও করণীয় সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে ডিবিএ সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)-এর সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আগে ডিএসইতে মঙ্গলবার দুপুরে জরুরি বৈঠক করেছে পুজিবাজার সংশ্লিষ্ট ৫টি সংগঠন। এগুলো হলো, লিস্টেড কোম্পানি অ্যাসোসিয়েশন, ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ), লিজিং কোম্পানি অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ও ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন।

মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তারল্য এবং আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। এই দুই সংকটের কারণে বাজার নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু করণীয় রয়েছে। বিশেষ করে এডিআর কমিয়ে আনা এবং পুঁজিবাজারে বিনিযোগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট সংক্রান্ত জঠিলতা দৃর করা। এই দুইটি বিষয় সমাধান করা হলে বাজারে তারল্য সংকট কেটে যাবে। এ বিষয়ে আমরা আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিব।’

বিএমবিএ-এর সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট সম্মিলিতভাবে না দেখে পুঁজিবাজারের জন্য এককভাবে শুধু ব্যাংকের এক্সপোজার বিবেচনা করা উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে গুরুত্ব দিলে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা কেটে যাবে বলে আমরা মনে করছি। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এটি করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সরকারি ব্যাংকগুলোর এডিআর অনেক কম। এই মুহূর্তে তারা যদি পুঁজিবাজারকে একটু সার্পোট দেয় তাহলে বাজারে তারল্য সংকট অনেকটা কেটে যাবে। দ্বিতীয়ত, প্রাইভেট ব্যাংকগুলের তারল্য যদি কিছুটা বাড়ানো যায় এবং বিশেষ করে সিআরআর কিছুটা শিথিল করা হয়, তাহলে বাজারে প্রতি আস্থা আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার ফান্ড রয়েছে, কিন্তু এক্সপোজার ইস্যুতে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে পারছে না। এক্সপোজার লিমিটের কারণে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। তাই শুধু ব্যাংক অথবা আমাদের নিজস্ব যে এক্সপোজার সেটাকেই ধরা উচিত। অর্থাৎ এককভাবে ব্যাংকের এক্সপোজার ধরা উচিত, সাবসিডারি কোম্পানিগুলো যে বিনিয়োগ করছে সেটা নয়। এটা ধরা হলে এক্সপোজার লিমিট বেড়ে যাবে।’

ডিএসই তিন দিনে সূচক হারিয়েছে ২০৪ পয়েন্ট: এদিকে আজ টানা তৃতীয় দিনের মতো পুজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) বড় ধরনের দরপতনে ডিএসই সূচক হারিযেছে ৮১ পয়েন্ট। এ নিয়ে গত তিন কার্যদিবসে ডিএসই প্রধান সূচক কমেছে ২০৪ পয়েন্ট। পুঁজিবাজারের এই অবস্থা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। টানা দরপতন ও বাজারে তারল্য সংকটের প্রতিবাদে আজ ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

এদিন ডিএসইতে ৩৩৬টি কোম্পানির ৮ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩০১টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া এসব শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮টির, কমেছে ২৯১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টি কোম্পানির শেয়ার। এদিন ডিএসইতে ২৮২ কোটি ৩১ লাখ ৯২ হাজার টাকার শেয়ার কেনা-বেচা হয়েছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৮২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬২৩ পয়েন্ট, ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ২২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরীয়াহ সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৩৩ পয়েন্টে নেমে আসে।

সারাবাংলা/জিএস/আইজেকে

‘পুঁজিবাজারে আস্থা ও তারল্যের সংকট রয়েছে’
‘পুঁজিবাজারে আস্থা ও তারল্যের সংকট রয়েছে’