শনিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৮, ৩ ভাদ্র, ১৪২৫, ৬ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

পুলিশের বাধায় পণ্ড বিএনপির অনশন

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮ | ১:০৬ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা রিপোর্ট

ঢাকা : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে প্রেস ক্লাবে আয়োজিত অনশন কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে। দুপুর ১টার দিকে ডিবি পুলিশ অনশনস্থলে এলে গ্রেফতার এড়াতে কয়েকজন নেতাকর্মী ভয়ে দৌড় দেন। এর কিছুক্ষণ পরই বিএনপির প্রতীকী অনশন কর্মসূচি শেষ হয়ে যায়।

সারাবাংলার সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  উজ্জ্বল জিসান জানান, দুপুর ১টার আগে ডিবি পুলিশের দুইটি দল অনশন স্থলে আসেন। একটি দল আসে সাদা পোশাকে। অপর দলটি আসে বাহিনীর জ্যাকেট পরে। ডিবি সদস্যরা অনশন মঞ্চের কাছে এসে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটকের চেষ্টা করে। যদিও তাদের মূল টার্গেট ছিলেন ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সভাপতি হাবিব উন-নবী-খান সোহেল।

কিন্তু হাবিব উন-নবী-খান সোহেল প্রেস ক্লাবের রেলিং ভেঙে দৌড় দেন। তার পিছু পিছু ডিবি পুলিশ সদস্যরাও সচিবালয় ভবন পর্যন্ত দৌড় দেন। সোহেলকে না পেয়ে ডিবি পুলিশ সদস্যরা প্রেস ক্লাব এলাকায় ফিরে আসেন।

সারাবাংলার স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট আসাদ জামান জানান, ধরপাকড়ের এই চেষ্টার মধ্যেই ৪৫ সেকেন্ড বক্তৃতা দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অতি সংক্ষিপ্ত  বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিকেল ৪ টা পর্যন্ত আমাদের এই অনশন কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আমরা এটাকে ১টা পর্যন্ত করে দিয়েছি। আমরা এই অনশন কর্মসূচি থেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি এবং সব রকম প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘৪টা পর্যন্ত এই অনশন ধর্মঘট করার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনের অনুরোধে আমরা ১টার সময় এই অনশন শেষ করতে বাধ্য হচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমানকে জেল দিয়ে বিএনপিকে বাইরে রেখে আগামী নির্বাচন করতে চায়। আমরা বলতে চাই, খালেদা জিয়াকে ছাড়া, বিএনপিকে ছাড়া এ দেশে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।’

‘সরকারকে বলতে চাই, দেশনেত্রীকে নিয়ে আপনারা যে খেলা করছেন, এই খেলা আগুন নিয়ে খেলা। আপনারা আগুনে হাত দিয়েছেন। এ দেশের জনগণ দেশনেত্রীকে মুক্ত করে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করে  নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে’— বলেন মোশাররফ।

পুলিশের ধাওয়া খাওয়ার আগে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেখে যদি মনে করেন বিএনপি দুর্বল হয়ে গেছে, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। অনতিবিলম্বে মুক্তি না দিলে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা হবে।’

মূলত, হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের এই বক্তব্যের পরই চারদিক থেকে ডিবি পুলিশসহ পুলিশের নিয়মিত সদস্যরা একটু একটু করে প্রতীকী অনশন মঞ্চের দিকে এগোতে থাকে। ফলে শেষ তিন জন বক্তা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিলে মাত্র ৫/৬ মিনিট বক্তব্য দেন।

হাবীব-উন-নবী খান সোহেলকে লক্ষ্য করে পুলিশ সদস্যরা মঞ্চের দিকে আগাতে থাকলে দ্রুত বক্তব্য শেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুলিশের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। এ সময় তিনি উত্তেজিত কণ্ঠে পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, ‘আপনারা এমন করছেন কেন? আপনাদের কথামতো তো আমরা প্রোগ্রাম শেষ করে দিলাম।’

পুলিশের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই কথা কাটাকাটির মধ্যে প্রেস ক্লাবের রেলিং ভেঙে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যান হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। তার পেছন পেছন ডিবি পুলিশের এক ঝাঁক সদস্য ছুটতে থাকেন। সচিবালয় গেট পর্যন্ত গিয়ে ডিবির কয়েকজন সদস্য মোটর সাইকেলে করে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। এরইমধ্যে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে সরে যান বিএনপির নেতা-কর্মীরা। শীর্ষ নেতারাও চলে যান যে যার গন্তব্যে।

এর আগে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে  প্রতীকী অনশন কর্মসূচি শুরু করে বিএনপি। এ কর্মসূচি শেষ করার কথা ছিল বিকেল ৪টায়। কিন্তু সকাল ১১ টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় সাড়ে ১২টার মধ্যে শেষ করতে কর্মসূচি।

পুলিশের এই নির্দেশের কথা জানতে পেরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ১২টা ২০ মিনিটে অনশনস্থল থেকে বের হয়ে আসেন। তিনি খুঁজতে থাকেন পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের। অবশেষে কদম ফোয়ারার কাছে পেয়ে যান পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদারকে।

মির্জা ফখরুল উপকমিশনারকে অনুরোধ করে বলেন, ‘আমরা ৪টা নয়, দুপুর ১টায় অবস্থান কর্মসূচি শেষ করব। দয়া করে আর বাধা দেবেন না।’পুলিশও মির্জা ফখরুলের অনুরোধ মেনে নেয়।

এর আগে একে একে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মো.শাহজাহান, নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন প্রমুখ।

জোট নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর ) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মোহম্মদ ইসহাক, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম, ইসলমী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান আব্দুর রাকিব, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, এনপিপির চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, হামদুল্লাহ আল মেহেদি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ভুইয়া প্রমুখ।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর দুই দফায় ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। দ্বিতীয় দফায় ঘোষিত তিন দিনের কর্মসূচির বুধবার ছিল শেষ দিন। কর্মসূচির অংশ হিসেব ‘প্রতীকী অনশন’ পালন করতে গিয়ে পুলিশি বাধায় নির্ধারিত সময়ের ৩ ঘণ্টা আগেই কর্মসূচি শেষ করতে বাধ্য হয় বিএনপি।

সারাবংলা/এজেড/ইউজে/একে

পুলিশকে ফখরুলের অনুরোধ ‘দয়া করে আর বাধা দেবেন না’

খালেদার মুক্তি দাবিতে অনশনে বিএনপি

পুলিশের বাধায় পণ্ড বিএনপির অনশন
পুলিশের বাধায় পণ্ড বিএনপির অনশন