সোমবার ২২শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১১ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

প্রসূতির সুস্থতা ফিরতে চাই আস্ত একটি বছর

এপ্রিল ৬, ২০১৮ | ২:৪২ অপরাহ্ণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক ।।

সন্তান জন্মদান একজন নারীর জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা। কিন্তু মাতৃত্বের স্বাদ পায় যে নারী, সেই জানে গর্ভধারণের পুরোটা সময় তার শরীরের উপর কতটা ধকল যায়। প্রায়ই বইপত্রে লেখা থাকে বা চিকিৎসকরা বলে থাকেন যে সন্তান জন্মদানের ছয় সপ্তাহের মাঝে একজন মা আবার তার স্বাভাবিক শারীরিক সুস্থতা ফিরে পায়। কিন্তু লন্ডনের স্যালড্রফ বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে, কোন কোন প্রসূতি মায়ের স্বাভাবিক শারীরিক ফিটনেস ফিরে পেতে ছয়মাসের থেকেও বেশি সময় প্রয়োজন।

এই বিশেষ গবেষণা কার্যক্রমের একজন গবেষক ড. জুলি ওয়ারে গর্ভধারণের পুরোটা সময়ের নানা পর্যায় সম্পর্কে জানতে অসংখ্য প্রসূতি মায়ের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। প্রসূতিদের সাথে কথোপথনের মাধ্যমে তিনি দেখেছেন যে, প্রসূতির সুস্থ হতে ছয় সপ্তাহ লাগা ব্যপারটা পুরোপুরি ‘ফ্যান্টাসি’ বা কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। ছয় সপ্তাহ তো নয়ই, একবছরও লেগে যেতে পারে একজন প্রসূতিকে আবার গর্ভাবস্থা পূর্ববর্তী শারীরিক মানসিক অবস্থায় ফিরে যেতে।

একজন প্রসূতির জন্য শুধুমাত্র শারীরিক সুস্থতাই মূখ্য নয়, মানসিক সুস্থতাও বিবেচ্য বিষয়। অনেকেই আবার চদেখা গেছে সন্তান জন্মদানের পরে নিজের স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যাওয়ার জন্য মনে মনে অস্থির হয়ে পড়ে। ছয়সপ্তাহের মাঝেই কাজে ফিরতে উদগ্রীব থাকে কেউ কেউ। এই গবেষণা বলছে সেটা বাস্তবস্মমত নয়। অত অল্পসময়ের মাঝে একজন প্রসূতি নিজের স্বাভাবিক কাজকর্ম করার মত অবস্থানে নাও পৌঁছাতে পারে।

গবেষণার থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে ওয়ারে আরও বলেন, একজন প্রসূতির শারীরিক পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া হাসপাতাল থেকেই শুরু হওয়া উচিৎ। সাধারণত দেখা যায় প্রসূতি মা ম্যাটারনিটি ওয়ার্ডে বাচ্চাকে কীভাবে দেখাশোনা করতে হয় বা বুকের দুধ খাওয়াতে হয় সেটাই শেখে। ওয়ারে দেখেছেন বাস্তবে হাসপাতাল থেকে এর চাইতে বেশি সাহায্য তারা পায় না।

আবার ওয়ারে আরও দেখেছেন, অনেক সদ্য মাকে সন্তান জন্মদানের ছয়ঘন্টার মাঝেই হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে দেওয়া হয়। ব্যাপারটা এমন যে, সন্তান জন্মদানে প্রক্রিয়ায় সাহায্য করার কথা ছিল, করেছে। এখন বাকি ব্যাপারটা একজন প্রসূতিকে নিজেরটা নিজেকেই বুঝে নিতে হবে।

এই বিশেষ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ওয়ারে মনে করেন, একজন প্রসূতির আরও বেশি বাস্তবসম্মত আর নারী-বান্ধব সেবা পাওয়া উচিৎ। আর সেটাও ছয় বা আট সপ্তাহের মাঝে সীমাবদ্ধ না থেকে যার যতদিন লাগে সেই অনুযায়ী হওয়া উচিৎ।

সন্তান জন্মদানের পরে এক একজন প্রসূতির সুস্থ হতে এক একরকম সময় লাগে। কার কতটা সময় লাগবে তা নির্দিষ্ট নয়। তবে শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হতে একবছর সময় লেগে যায়।

সারাবাংলা/আরএফ

প্রসূতির সুস্থতা ফিরতে চাই আস্ত একটি বছর
প্রসূতির সুস্থতা ফিরতে চাই আস্ত একটি বছর
প্রসূতির সুস্থতা ফিরতে চাই আস্ত একটি বছর