মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৮ ফাল্গুন, ১৪২৪, ২ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯

ফুটপাতের মেমোরি কার্ড : সস্তার তিন অবস্থা

জানুয়ারি ১৮, ২০১৮ | ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

আরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ৩২ গিগাবাইট (জিবি)-এর একটি মেমোরি কার্ডের দাম তিনশ টাকা আর ১৬ জিবির দুটো পাওয়া যায় মাত্র দুইশ টাকায়! বিশ্বাস হচ্ছে না? হওয়ার কথাও না, তবে বিশ্বাস করে যদি কিনে ফেলেন তবে বিরাট জয়ী হওয়ার আনন্দ হয়তো খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না।

রাজধানীর গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতে মেলে এই স্বল্পমূল্যের মেমোরি কার্ড। যেমন দাম, তেমনি তার কাজ। দুদিন না ঘুরতেই নষ্ট হয়ে যায় এ মেমোরি কার্ডগুলো। নষ্ট হওয়া মেমোরি কার্ড নিয়ে হয়তো তেড়েফুঁড়ে আসেন গ্রহকরা। তবে আসা পর্যন্তই। একবার কিনে ফেললে আর কিছুই করার থাকে না বিক্রেতাদের।

তা নিয়ে অবশ্য কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। নেই প্রতারণার বন্ধের কোনো উদ্যোগও। প্রতিদিন পুলিশের নাকের ডগায় বিক্রি হচ্ছে নষ্ট, মেয়াদোত্তীর্ণ মেমোরি কার্ড। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতারকরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে খুশি রেখে নিরাপদে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কর্মকাণ্ড।

ভুক্তভোগী রাজিব হাসান বলেন, ‘আমি গত ১৫ দিন আগে গুলিস্তানের ফুটপাত থেকে তিনশ টাকা দিয়ে ৩২ জিবি একটি মেমোরি কার্ড কিনেছিলাম। কিন্তু ২ দিন না যেতেই অকেজো হয়ে পড়ে। পরে বাধ্য হয়ে আবার নতুন করে মেমোরি কার্ড কিনেছি।’

রাজিব বলেন, এ প্রতারণার অভিযোগ জানানোরও কোনো জায়গা পাইনি।

আরেক ভুক্তভোগী মেহেদী সারাবাংলাকে বলেন, ‘দিন দশেক আগে মিরপুর ফুটপাত থেকে চারশত টাকায় দুই টা ১৬ জিবি মেমোরি কার্ড কিনেছিলাম। সপ্তাহ না ঘুরতে মেমোরি কার্ড নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট মেমোরি কার্ড দেখানোর জন্য দোকানদারের কাছে গেলে জানতে পারি, এইটা ফেরত নেয়া হয় না। এখন আমার কিছুই করার নেই।’

গুলিস্তানের দোকানদার কাওসার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রথমে গ্রাহকদের বলি, ক্রেতার সামনে চেক করে দিব, পরে কিছু হলে ফেরত নেওয়া হবে না। আমরা কোনো প্রকার ওয়ারেন্টি গ্যারান্টি দিচ্ছি না।’

নাম প্রকাশে গুলিস্তানের আরেক দোকানদার বলেন, ‘আমরা মেমোরি কার্ড তৈরি করি না, আমরা কিনে আনছি। প্রত্যেক সপ্তাহে আমাদের কাছে ডিলার আসে। আমরা তার কাছ থেকে ১৬ জিবি ৮০ টাকা এবং ৩২ জিবি ১০০ টাকায় কিনে মার্কেটে বিক্রি করি।’

এ মেমোরি কার্ড কোথায় তৈরি হয়ে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘ডিলারের কাছে শুনেছি, চায়না থেকে মেমোরি কার্ড আনা হয়। আমরাও জানি যে, এই মেমোরি কার্ডগুলো দুই দিনের বেশি যায় না, কিন্তু আমরা কী করব? পেটের দায়ে এই কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফুটপাতে দোকানদারী করার জন্য আমরা নিয়মিত টাকা দিচ্ছি। শুনেছি বড় স্যাররাও এখান থেকে নিয়মিত ভাগ পান।’

শুধু গুলিস্তানই প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টা দোকান আছে যারা মেমোরি কার্ড বিক্রি করে। এ ছাড়াও ফার্মগেটে, মহাখালীতে, নীলক্ষেত, সদরঘাট ইত্যাদি প্রায় সব ফুটপাতেই দেখা যায় মেমোরি কার্ডের দোকান।

গুলিস্তানে এক মোবাইল টেকনেশিয়ান জানান, ১৬ জিবির মেমোরি কার্ডে আসলে ১০ এমবিও থাকে না। অধিকাংশ মেমোরি কার্ড বাতিল বা নষ্ট হয় আর এগুলো ব্যবহার করলে মোবাইলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

তবে নকল মেমোরি কার্ড বিক্রেতাদের প্রতারণার বিষয়ে গুলিস্তানে টহলরত পুলিশ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে এই রকম কোনো অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। যদি আসে তবে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে।’

বাজারে সিম্ফনি বা স্যামসং ব্যান্ডের একটি ১৬ জিবি মেমোরি-কার্ডের দাম ৬৬০ টাকা এবং ৩২ জিবি দাম ১৩২০ টাকা। উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষ সেগুলো না কিনে, কমদামী মেমোরি কার্ডের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এই আকর্ষণকে পুঁজি করে ফুটপাতের দোকানিরা সহজেই প্রতারিত করে তাদের।

ভুক্তভোগীরা মনে করেন, সস্তায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও নষ্ট পণ্য কিনে মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্টদের নজরদারি।

সারাবাংলা/এআই/এমএ

Tags: ,