মঙ্গলবার ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের এমন জয়ে মুমিনুলের একটুর আক্ষেপ

আগস্ট ৯, ২০১৮ | ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।।

মুমিনুল হক রেকর্ডটা গড়ার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে এতোদিন ডাবল সেঞ্চুরি ছিল না কারও, মুমিনুল আর ১৮ রান হলেই সেটা করতে পারতেন। তবে ডাবলিনে আশা জাগিয়েও সেটা হলো না, রান আউট হয়ে গেলেন ১৮২ রানে। বাংলাদেশ ‘এ’ সেটার কল্যাণেই পৌঁছেছে ৩৮৬ রানের চূড়ায়। তবে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দল একদম ছেড়ে কথা বলেনি, শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের ফিরে পাওয়াতে অলআউট হয়ে গেছে ৩০১ রানে। ৮৫ রানের জয়ে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ ‘এ’ । পাঁচ ম্যাচ সিরিজের বাকি শুধু একটি ওয়ানডে।

মুমিনুল যখন নেমেছিলেন, বাংলাদেশ ‘এ’ দল তখন হারিয়ে ফেলে ওপেনার মিজানুর রহমানকে। জাকির হাসানের সঙ্গে এরপর মুমিনুলের জুটিটাই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে বড় স্কোরের ভিত। দুজন মিলে যোগ করেছেন ২১০ রান। জাকির সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত আউট হয়ে গেছেন ৭৯ রানে। তবে ৩৭ বলে ফিফটির পর শেষ পর্যন্ত ৮১ বলে সেঞ্চুরি পেয়েছেন মুমিনুল। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বাইরে এই প্রথম।

তবে এই ইনিংসটা যে ক্যারিয়ারেরই অন্যতম সেরা হয়ে যাবে, তখন সেটা বোঝা যায়নি। সেঞ্চুরির পর মুমিনুল খেলতে শুরু করেন আরও দাপটের সঙ্গে। অন্য পাশে মোহাম্মদ মিঠুনও শুরু করেন তাণ্ডব। মুমিনুল যখন মনে হচ্ছে ডাবল সেঞ্চুরিটা পেয়েই যাবেন, তখনই হয়ে গেলেন রান আউট। ১৩৩ বলে ১৮২ রানে থেমেছেন, ২৭টি চারের সঙ্গে যে ইনিংসে আছে ৩টি ছয়। যার মানে ১০৮ রানই নিয়েছেন না দৌড়ে। বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের লিস্ট ‘এ’তে এটাই সবচেয়ে বেশি চার-ছয় মারার রেকর্ড।

মুমিনুল আউট হয়ে গেলেও মিঠুন ঝড় থামাননি। সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৫১ বলে ৮৭ রান করে। শেষ পর্যন্ত ৩৮৬ রান করে বাংলাদেশ ‘এ’, এটাই নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড।

এই রান তাড়া করতে নেমে ১৯ রানেই শ্যাননকে ফিরিয়ে দিয়েছেন এই সিরিজের আবিষ্কার তরুণ বোলার শরিফুল হক। কিন্তু এর পরেই আবার ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছে আয়ারল্যান্ড। ম্যাককুলাম ৩৬ বলে ৪৩ রানে আউট হয়ে ফিরে গেলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় আইরিশরা, এটি নিয়েছেন ফজলে রাব্বি। বালবির্নি ও থম্পসন অবশ্য পালটা আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকেন, দুজন মিলে এরপর যোগ করেছেন ৭৩ রান। থম্পসনকে ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দিয়েছেন খালেদ আহমেদ। তবে এরপর আয়ারল্যান্ডের জয়ের আশা সত্যিকারভাবে জাগিয়ে তুলেছিলেন বালবির্নি ও সিমি সিং।

বালবির্নি এর মধ্যে পেয়ে যান সেঞ্চুরিও। দুজনের জুটিটা যখন জমে উঠতে শুরু করেছে, বালবির্নিকে ১০৬ রানে ফিরিয়ে ৯৩ রানের জুটিটা ভেঙে দিয়েছেন খালেদ। তবে সিমি সিং ছিলেন বিপজ্জনক, তাসকিন ও আফিফকে কচুকাটা করছিলেন। ৩২ বলে ৫২ রান করার পর সাইফ উদ্দিনের বলে আউট হয়ে যান। ওখানেই শেষ হয় আইরিশদের স্বপ্ন। শেষ ৪৩ রানে ছয় উইকেট হারিয়েছে আইরিশরা। বাংলাদেশের হয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন রাব্বি ও খালেদ। দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন সাইফ উদ্দিন ও শরিফুল। তাসকিন ও আফিফ ছিলেন উইকেটশূন্য।

সারাবাংলা/এএম/এমআরপি

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের এমন জয়ে মুমিনুলের একটুর আক্ষেপ
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের এমন জয়ে মুমিনুলের একটুর আক্ষেপ
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের এমন জয়ে মুমিনুলের একটুর আক্ষেপ