সোমবার ১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং , ৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

বাস্তবায়নে সঠিক পথে সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র

নভেম্বর ১৯, ২০১৮ | ১১:১৯ অপরাহ্ণ

।। জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: ১০ বছরব্যাপী পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালে সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র হাতে নেয় সরকার। দারিদ্র্য ও অসমতা কমানোর গতি ত্বরান্বিত করতে সরকারের সবগুলো সামাজিক সুরক্ষামূলক কার্যক্রম সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থায় নিয়ে আসতে এই কৌশলপত্র গ্রহণ করা হয়। গ্রহণের তিন বছর পর প্রথমবারের মতো মূল্যায়নে দেখা গেছে, সঠিক পথেই এগুচ্ছে কৌশলপত্রটি।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কৌশলপত্রের প্রধান প্রধান অনেক সুপারিশই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

জিইডি’র সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম সারাবাংলাকে জানান, এ কৌশলপত্রের মূল উদ্দেশ্যই হলো— দেশের সব সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা লাভের যোগ্য নাগরিককের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে কার্যকরভাবে দারিদ্র্য ও অসমতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। সেই সঙ্গে ব্যাপকতর মানব উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে যেন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো ভূমিকা রাখতে পারে, সেই লক্ষ্যও রয়েছে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন এই কৌশলপত্রের।

ড. শামসুল আলম বলেন, কৌশলপত্রের প্রতিটি উপাদান বাস্তবায়নে যে গতি দেখা যাচ্ছে এবং যে হারে কর্মসূচিগুলোর আওতা, পরিধি ও ভাতার পরিমাণ সম্প্রসারিত হচ্ছে, এতে আশা করা যায় ২০২১ সালের মধ্যেই দেশে অতিদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর সবাই সামাজিক সুরক্ষা বলয়ে আসবে।

কৌশলপত্রের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পোষ্যদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে যেসব কর্মসূচি রয়েছে, তার সবগুলোকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ কর্মসূচি নামে অব্যাহত রাখার নির্দেশনা রয়েছে কৌশলপত্রে। এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার পরিমাণ মাসিক ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া সুপারিশ অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে প্রতিবন্ধী সহায়তার আওতা ২১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। দেশে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের মধ্যে ভাতাগ্রহীতার সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে এ সুবিধার আওতায় ১৪ লাখ নারী রয়েছেন। একটি শক্তিশালী ও পুর্নগঠিত সমাজসেবা অধিদফতর প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। অর্থ বিভাগে এরই মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপিত হয়েছে। এ ব্যবস্থায় অন্তঃ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সামাজিক নিরাপত্তা উপকারভোগীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র তুলনামূলক যাচাই-বাছাই করা যাচ্ছে। সুপারিশ অনুযায়ী উপকারভোগীদের কাছে সরাসরি টাকা পৌঁছাতে জি-টু-পি পেমেন্ট ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় সামাজিক বিমা স্কিমের আওতায় বেসরকারি কর্মীদের জন্য বেকারত্ব ভাতা চালুর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলাফলের ভিত্তিতে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

কৌশলপত্রে বিদ্যালয়গামী শিশুদের জন্য জেন্ডার বৈষম্য না করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অতিদরিদ্র শিশুদের ৫০ শতাংশকে শিশুকে উপবৃত্তির আওতায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। এরই মধ্যে বাজেটে এ প্রস্তাবনার প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির জন্য বরাদ্দ ছিল ৯৭০ কোটি টাকা। সেটি বেড়ে চলতি অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকায়। সুপারিশ অনুযায়ী এরই মধ্যে বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এক্ষেত্রে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভাতার পরিমাণ ছিল ৩০০ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হয়। তাছাড়া গত তিন বছরে উপকারভোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০ লাখ। কৌশলপত্রের সুপারিশ অনুযায়ী এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত সব কর্মজীবীর জন্য একটি সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন।

সারাবাংলা/জেজে/টিআর

Tags: , ,

বাস্তবায়নে সঠিক পথে সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র
বাস্তবায়নে সঠিক পথে সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র
বাস্তবায়নে সঠিক পথে সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র