বুধবার ১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং , ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিদ্যুতের সাড়ে ৮ লাখ প্রি-পেমেন্ট মিটার, কমবে সিস্টেম লস

আগস্ট ১৪, ২০১৮ | ২:১৯ অপরাহ্ণ

।। স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা: ঢাকায় ৮ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক।
মঙ্গলবার, শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনে অনুষ্ঠিত বৈঠক এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন প্রি-পেমেন্ট প্রকল্পটি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে ঢাকা জেলার রমনা, জিগাতলা, ধানমন্ডি, আদাবর, পরিবাগ, কাকরাইল, বনশ্রী, মগবাজার, শ্যামলী, কামরাঙ্গীরচর, বাংলাবাজার, নারিন্দা, পোস্তগোলা ও ডেমরা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুলা, শীতলক্ষ্যা ও সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলায় প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানো হবে। ফলে, বর্তমান পোস্ট পেইড মিটারিং সিস্টেমে প্রচুর কারিগরি ও অকারিগরি সিস্টেম লস হতো এবং বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকতো। প্রি-পেমেন্ট মিটারে সেটি আর থাকবে না।

মন্ত্রী বলেন, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় ৮ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৬৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৬০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারি সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৫০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা। চলতি বছরের মাঝামাঝিতেই তা ১৯ হাজার ২শ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। বছর শেষে ২০ হাজার মেগাওয়াটের উপরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হওয়া বলে আশা করেন মন্ত্রী।

এছাড়াও, মন্ত্রী জানান, কৃষি জমি রক্ষায় নতুন রাস্তা যাতে কম করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, জাতীয় নগর দারিদ্র হ্রাসকরণ কর্মসূচী প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশৃঙ্খল হওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া এ প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প রাখার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে বলে জানান আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বিদ্যুতের প্রি পেমেন্ট মিটারসহ ৯ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ৩৩৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬৯৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠি জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮২৬ কোটি টাকা। নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ভালুকা-গফরগাঁও-হোসেনপুর সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার জেলা মহাসড়ক, করটিয়া-বাসাইল জেলা মহাসড়ক এর পকুল্লা-দেলদুয়ার-এলাসিন জেলা মহাসড়কের দেলদুয়ার-এলাসিন অংশকে যথাযথমানেও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৪০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। গাইবান্ধা-গোবিন্দগঞ্জ ভায়া নাকাইহাট জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় আট লাখ পঞ্চাশ হাজার স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ইস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩১৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পুলিশের ডাটা সেন্টারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। চাঁপাই নবাবগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন মহানন্দা নদীর শেখ হাসিনা সেতুর সাথে সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৫৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

সারাবাংলা/জেজে/জেএএম

বিদ্যুতের সাড়ে ৮ লাখ প্রি-পেমেন্ট মিটার, কমবে সিস্টেম লস
বিদ্যুতের সাড়ে ৮ লাখ প্রি-পেমেন্ট মিটার, কমবে সিস্টেম লস
বিদ্যুতের সাড়ে ৮ লাখ প্রি-পেমেন্ট মিটার, কমবে সিস্টেম লস