মঙ্গলবার ১৯ জুন, ২০১৮, ৫ আষাঢ়, ১৪২৫, ৪ শাওয়াল, ১৪৩৯

‘বিমানবন্দর থেকে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত পাতাল রেল’

জুন ১০, ২০১৮ | ১২:৩৭ অপরাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিমানবন্দর থেকে কাঞ্চন সেতুর পশ্চিমপাশ পর্যন্ত পাতাল রেল নির্মাণ করা হবে।

রোববার (১০ জুন) সকালে সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম পিনু খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘রাজধানীর যানজট নিরসনে ও বৃহত্তর ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠ, পরিকল্পিত, সমন্বিত ও আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই মেগা প্রকল্পটি পাঁচটি রুটের মাধ্যমে নগরবাসীর সেবা দেবে। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-৬ এর কাজ ৮টি প্যাকেজের আওতায় কাজ চলছে। তাছাড়া আরো দু’টি এমআরটি লাইন-১, এবং এমআরটি লাইন-৫ নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্য সমীক্ষার কাজ চলছে।

মন্ত্রী জানান মেট্রোরেল প্রকল্পের উত্তরা ৩য় পর্ব হতে আগারগাঁও পর্যন্ত আংশিক চালু হবে এবং ২০২০ সালে উত্তরা ৩য় পর্ব হতে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত চালু হবে।

তিনি বলেন, ‘এমআরটি লাইন-১ নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান আছে। বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের জন্য ২০১৭ সালের ২৯ জুন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে প্রথম পাতাল রেল নির্মিত হতে যাচ্ছে, যার রুট হবে হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-খিলক্ষেত-কুড়িল-যমুনা ফিউচার পার্ক-বাড্ডা-রামপুরা-মালিবাগ-রাজারবাগ-কমলাপুর এবং কুড়িল হতে কাঞ্চন সেতুর পশ্চিম পাশ পর্যন্ত। এর মোট দৈর্ঘ্য হবে ২৬ দশমিক ৬০ কিলোমিটার। এমআরটি লাইন-১ এর জন্য স্টেশন থাকবে ১৭টি। যেসব জায়গায় থাকবে স্টেশন বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, কুড়িল, নর্দা (যুমনা ফিউচার পার্ক), নতুন বাজার, বাড্ডা, হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ, কমলাপুর এবং কুড়িল, বসুন্ধরা, মাস্তল, পূর্বাচল পশ্চিম, পূর্বাচল সেন্টার, পূর্বাচল টার্মিনাল।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এছাড়া এমআরটি লাইন-৫ নির্মাণের জন্যও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এমআরটি লাইন-৫ (উত্তরা) দৈর্ঘ্য হবে ১৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার (এলিভেটেড ৬ কিলোমিটার ও আন্ডারগ্রাউন্ড ১৩ দশমিক ৬০ কিলোমিটার) এর রুট হবে হেমায়েতপুর-গাবতলী-টেকনিক্যাল-মিরপুর-১-মিরপুর-১০-কচুক্ষেত-বনানী-গুলশান-ভাটার এবং গাবতলী-ধানমন্ডি-বসুন্ধরা সিটি-হাতিরঝিল-লিংকরোড পর্যন্ত। এখানে স্টেশন থাকবে ১৪টি। সেগুলো হচ্ছে হেমায়েতপুর, বলিয়াপুর, মধুমতি, আমিনবাজার, গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২, নতুন বাজার, ভাটারা। এছাড়া এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণাংশ) রুট হবে-গাবতলী-ধানমন্ডি-পান্থপথ-হাতিরঝিল-লিংক রোড-নগরপাড়া। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ঢাকা শহরের যানজট অনেকাংশে কমে যাবে।’

ঝালকাঠি ১ আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন, মহাসড়কগুলো জরাজীর্ণমুক্ত রাখতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত সংস্কার করতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কি না?

উত্তরে মন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম মনিটরিং করার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে ২৩টি মনিটরিং টিম কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখি মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর কেন্দ্রীয়ভাবে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়ে হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে মহাসড়কে সুষ্ঠূভাবে যান চলাচলের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করা হয়ে থাকে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রতিনিয়ত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মহাসড়ক নেটওয়ার্কের যানচলাচল উপযোগী করে রাখা হচ্ছে। চলমান ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে মেরামত খাতে ২ হাজার ৩শত ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। মহাসড়ক ব্যবহার করে জনগণের যাতায়াত সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন করার নিমিত্ত মহাসড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সারাদেশে সড়ক ও জনপদ আওতায় মোট ২১, ৩০২.০৮ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে নিরন্তর ও মহাসড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন করে চলেছে।’

ফাইল ছবি

সারাবাংলা/এএইচএইচ/একে

‘বিমানবন্দর থেকে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত পাতাল রেল’
‘বিমানবন্দর থেকে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত পাতাল রেল’