শনিবার ২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং , ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ই সফর, ১৪৪০ হিজরী

বিশ্বকাপ ছেড়ে দিবে না ফ্রান্স-স্পেন

জুন ১৩, ২০১৮ | ৯:৫৪ অপরাহ্ণ

জাহিদ হাসান এমিলি

ফ্রান্স হলো এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে দাবিদারের মধ্যে একটি ফ্রান্স। পুরো একটা ভারসাম্য দল। ব্রাজিল-জার্মানীর পাশাপাশি এ দলও বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ রাখে। একবারের বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্সের এই দলটিতে কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের পাশাপাশি দুর্দান্ত অনেক তরুণ ফুটবলার আছে। তাদের দলে বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোতে খেলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে।

গোলকিপার পজিশন থেকে সবগুলো পজিশনে প্রচুর ফুটবলার মজুদ আছে। যার কারণে কোচ দিদিয়ের দেশম দল গোছাতে কষ্ট হয়নি। সবচেয়ে ভারসাম্য দলগুলোর একটি ফ্রান্স। এই বিশ্বকাপের স্কোয়াডে খেলতে পারে নি এমন আরও দশজন খেলোয়াড় তাদের আছে। কিন্তু দলে নিতে পারে নি তাদের। যারা স্কোয়াডে থাকার মতো যোগ্যতা রাখে।

যেমন করিম বেনজেমার মতো ফুটবলার, মার্সিয়াল, রাবিওত, লাকাজেতেরদের মতো পরিক্ষীত ফুটবলারও এই স্কোয়াডে সুযোগ পায়নি। কোচ চিন্তা করেছে তাদের চেয়ে ভালো খেলোয়াড় আছে। এই দলের ম্যাচ উইনিং অনেক ফুটবলার আছে। আঁতোয়া গ্রিজম্যান, অলিভিয়ের জিরু, কিলিয়ান এমবাপ্পে, নাবিল ফেকির, উসমান দেম্বেলের মতো ম্যাচ উইনিং খেলোয়াড় আছে। তাদের যে কোন সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়ার যোগ্যতা রাখে।

একটা দলে ম্যাচ উইনিং ফুটবলার যত বেশি থাকবে দলের জেতার সম্ভাবনাও সবচেয়ে বেশি। এটা ফ্রান্সের আছে।

একটা কথা অনেকেই হয়তো বলবে যে, ফ্রান্স তরুণ নির্ভর একটা দল। তবে আমি বলবো এ দলে অনেক খেলোয়াড় বহুদিন ধরে ক্লাব ফুটবল খেলছে। পল পগবা বহুদিন থেকে খেলছে, হুগো লরিস, অভিজ্ঞতা অনেক, গ্রিজম্যান, এনগোলো কান্তে, রাফায়াল ভারানও কয়েকটা মৌসুম দারুণ খেলেছে। সেখানে হয়তো সমস্যা হবে না দলের।

কোচ দিদিয়ের দেশম একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় ছিলেন। নিজেই ওয়ার্ল্ড কাপ উইনার একজন অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ভালো করে জানেন কিভাবে জয় নিয়ে আসতে হয়। তার অভিজ্ঞতা দারুণ কাজে দিবে তার। অন্তত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তাদের পারফর্মেন্স তাই বলে।

স্পেনঃ এতো সুন্দর করে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে আসা দলটা হঠাৎ বড় একটা ধাক্কা খেলো। গত বিশ্বকাপে ভরাডুবি খাওয়া স্পেন এবার কোচ জুলেন লোপেতেগুইয়ের কোচিংয়ে বিশ্বকাপের দাবিদার হয়েই এসেছিল। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ীরা কোচকে হারালো বুধবার। এটা পুরো দলের জন্য বড় ধাক্কাই হবে।

নতুন কোচ ফার্নান্দো হিয়েরো স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জুলেনের। কোচ বরখাস্তের পর একটু সমস্যায় হয়তো পড়বে স্পেন। কেননা লোপেতেগুই নির্দিষ্ট একটা পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিলেন বিশ্বকাপে। দুই দিন পর পর্তুগালের বিপক্ষে সোচিতে স্পেনের ম্যাচ।

তবে, হিয়েরো রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ডিফেন্ডার ও অধিনায়ক ছিলেন। আর স্প্যানিশ হওয়াতে দলের সব খেলোয়াড়দের নিয়ে জানাশুনা মোটেও কম না। অনূর্ধ্ব-২১ দলের কোচ ছিলেন তিনি।

তারপরেও বলবো, কাগজে-কলমে এই স্পেন অবশ্য বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দলগুলোর মধ্যে একটি। গোলপোস্টের নিচে ডি গিয়া এখন বিশ্বসেরা। রক্ষণে রামোস, পিকেরা তো আছেনই। মধ্যমাঠে বুস্কেটস, সিলভাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ইসকো, আসেনসিওরা শোনাতে পারেন নতুন প্রজন্মের গান। তবে আক্রমণভাগ নিয়ে একটু দুশ্চিন্তা আছে স্পেনকে ঘিরে। কারণ বাছাইপর্বে সবচেয়ে বেশি গোল যার, সেই মোরাতার ক্লাব ফুটবলে ফর্মহীনতার জন্য জায়গা হয়নি রাশিয়ার দলে। ভরসা তাই ডিয়েগো কস্তা, আসপাসরাই।

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক

বিশ্বকাপ ছেড়ে দিবে না ফ্রান্স-স্পেন
বিশ্বকাপ ছেড়ে দিবে না ফ্রান্স-স্পেন